সৌদিতে খেলোয়াড় বিক্রি করে সবচেয়ে বেশি আয় ম্যানসিটির

ফারহান ফারাবী
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬
  • ১৪ বার

প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

সৌদি প্রো লিগের ক্লাবগুলো সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউরোপের বড় বড় ক্লাব থেকে তারকা ফুটবলার কিনতে বিপুল অর্থ ব্যয় করেছে। এই বাজারে খেলোয়াড় বিক্রি করে সবচেয়ে বেশি আয় করা ক্লাবের তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে ম্যানচেস্টার সিটি।

সৌদি ক্লাবগুলোর সঙ্গে এখন পর্যন্ত চারটি খেলোয়াড় বিক্রির চুক্তি করেছে ইংলিশ ক্লাবটি। সর্বশেষ ডাচ মিডফিল্ডার তিজানি রেইন্ডার্সকে আল কাদসিয়াহর কাছে বিক্রি করে সিটি পেয়েছে ৬ কোটি ১০ লাখ ইউরো। এর ফলে সৌদি প্রো লিগে খেলোয়াড় বিক্রি করে ক্লাবটির মোট আয় দাঁড়িয়েছে ১৬ কোটি ৪০ লাখ ইউরো।

রেইন্ডার্সের সৌদি যাত্রা অবশ্য তাঁর ম্যানচেস্টার সিটি অধ্যায়ের দ্রুত সমাপ্তিও নির্দেশ করে। সিটিতে যোগ দেওয়ার পর অভিষেক ম্যাচেই উলভারহ্যাম্পটনের বিপক্ষে একটি গোল ও দুটি অ্যাসিস্ট করে নজর কাড়লেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দলে তাঁর ভূমিকা কমে আসে। এক মৌসুমের মধ্যেই আল কাদসিয়াহ হয়ে ওঠে তাঁর নতুন ঠিকানা।

তবে রেইন্ডার্সের দলবদল শুধু একটি বড় অঙ্কের ট্রান্সফার নয়। সৌদি আরবের ফুটবল বাজারকে ঘিরে ইউরোপীয় ক্লাবগুলোর ব্যবসায়িক কৌশলেরও একটি উদাহরণ এটি।

সৌদি প্রো লিগে খেলোয়াড় বিক্রির তালিকায় ম্যানচেস্টার সিটির অবস্থান এখন সবার ওপরে। চারটি চুক্তি থেকে ক্লাবটির আয় হয়েছে মোট ১৬ কোটি ৪০ লাখ ইউরো।

এর আগে সিটি রিয়াদ মাহরেজকে সৌদি ক্লাবের কাছে বিক্রি করে পেয়েছিল ৩ কোটি ৫০ লাখ ইউরো। আইমেরিক লাপোর্তের দলবদল থেকে আয় হয়েছিল ২ কোটি ৮০ লাখ ইউরো এবং জোয়াও কানসেলোকে বিক্রি করে এসেছিল ২ কোটি ৫০ লাখ ইউরো।

রেইন্ডার্সের ৬ কোটি ১০ লাখ ইউরোর চুক্তি যোগ হওয়ায় সৌদি বাজারে খেলোয়াড় বিক্রিতে সিটির আয় অন্য সব ক্লাবকে ছাড়িয়ে গেছে।

এটি সিটির ট্রান্সফার নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকও তুলে ধরে। ক্লাবটি যেমন বিশ্বমানের খেলোয়াড় কিনতে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করে, তেমনি খেলোয়াড় বিক্রির ক্ষেত্রেও সর্বোচ্চ আর্থিক মূল্য আদায়ের চেষ্টা করে।

তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে অ্যাস্টন ভিলা। সৌদি প্রো লিগে দুই খেলোয়াড় বিক্রি করে ইংলিশ ক্লাবটির মোট আয় ১৩ কোটি ৭০ লাখ ইউরো।

জন দুরানকে ৭ কোটি ৭৭ লাখ ইউরো এবং মুসা দিয়াবিকে ৬ কোটি ইউরোতে বিক্রি করেছে ভিলা। ফলে খেলোয়াড়ের সংখ্যা কম হলেও বড় অঙ্কের দুটি চুক্তির কারণে সৌদি বাজার থেকে আয়ের তালিকায় ভিলা সিটির পরেই রয়েছে।

তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছে লিভারপুল। সৌদি ক্লাবগুলোর কাছে তিনজন খেলোয়াড় বিক্রি করে ইংলিশ ক্লাবটির আয় ১১ কোটি ৪০ লাখ ইউরো।

পর্তুগালের পোর্তো চারটি চুক্তির মাধ্যমে পেয়েছে ১১ কোটি ইউরো। ইউরোপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন প্যারিস সেন্ট-জার্মেই (পিএসজি) সৌদি ক্লাবের কাছে খেলোয়াড় বিক্রি করে আয় করেছে ১০ কোটি ৩০ লাখ ইউরো। ফলে তালিকায় ফরাসি ক্লাবটির অবস্থান পঞ্চম।

খেলোয়াড় কেনাবেচার বাজারে সক্রিয় হিসেবে পরিচিত চেলসি রয়েছে তালিকার ষষ্ঠ স্থানে। চারজন ফুটবলার সৌদি প্রো লিগে পাঠিয়ে ইংলিশ ক্লাবটি আয় করেছে ১০ কোটি ইউরো।

এর পরের অবস্থানে রয়েছে ইতালির আতালান্তা। ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের ক্লাবগুলোর আধিপত্যের মধ্যেও তালিকায় রাশিয়ার জেনিত সেন্ট পিটার্সবার্গ জায়গা করে নিয়েছে। শীর্ষ পাঁচ লিগের বাইরে একমাত্র ক্লাব হিসেবে জেনিত রয়েছে নবম স্থানে।

ইংলিশ ফুটবলের ক্লাব ওয়েস্ট হ্যাম ও উলভারহ্যাম্পটনও শীর্ষ দশে রয়েছে। তাদের অবস্থান যথাক্রমে অষ্টম ও দশম।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সৌদি প্রো লিগ ইউরোপের ট্রান্সফার বাজারে বড় প্রভাব ফেলেছে। সৌদি ক্লাবগুলো শুধু বিশ্বখ্যাত তারকা ফুটবলারদের আকর্ষণ করছে না, ইউরোপের ক্লাবগুলোর জন্য খেলোয়াড় বিক্রির নতুন ও লাভজনক বাজারও তৈরি করেছে।

ম্যানচেস্টার সিটির মতো ক্লাবের ক্ষেত্রে এই বাজার বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কোনো খেলোয়াড় মূল দলের পরিকল্পনায় প্রত্যাশিত গুরুত্ব না পেলে তাকে সৌদি ক্লাবের কাছে বিক্রি করে বড় অঙ্কের অর্থ আদায় করা সম্ভব হচ্ছে। এতে একদিকে স্কোয়াডে জায়গা খালি হচ্ছে, অন্যদিকে ক্লাবের আয় বাড়ছে।

তিজানি রেইন্ডার্সের দলবদল সেই অর্থনৈতিক সমীকরণের সাম্প্রতিক উদাহরণ। ম্যানচেস্টার সিটিতে তাঁর সময়টা প্রত্যাশামতো দীর্ঘ না হলেও সৌদি ক্লাবের কাছে বড় অঙ্কে বিক্রি হওয়ায় দলবদলটি সিটির আর্থিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সৌদি প্রো লিগের বিনিয়োগ ও ক্লাবগুলোর উচ্চমূল্যের ট্রান্সফার কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে ইউরোপের ক্লাবগুলোর জন্য এই বাজার ভবিষ্যতেও গুরুত্বপূর্ণ রাজস্বের উৎস হয়ে থাকতে পারে। আর বর্তমান হিসাবে সেই বাজারে খেলোয়াড় বিক্রি করে সবচেয়ে বেশি আয় করা ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটি।

বিস্তারিত জানতে আরো পড়ুন>> 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত