বঙ্গভবন ঘিরে ডিএমপির বিশেষ ট্রাফিক নির্দেশনা

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬
  • ১৩ বার
বঙ্গভবন ঘিরে ডিএমপির বিশেষ ট্রাফিক নির্দেশনা

প্রকাশ: ২১ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে রাজধানীর বঙ্গভবন ও আশপাশের এলাকায় বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থা নিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ এই অনুষ্ঠান নির্বিঘ্ন ও নিরাপদে সম্পন্ন করতে শুক্রবার বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে সাধারণ যানবাহন চলাচল সীমিত ও নিয়ন্ত্রিত থাকবে।

ডিএমপির নির্দেশনা অনুযায়ী, শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির শপথগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানে বিদায়ী ও নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, জাতীয় সংসদের স্পিকার, প্রধান বিচারপতি, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, কূটনৈতিক কোরের প্রতিনিধি, ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার আমন্ত্রিত অতিথিদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতেই এই বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ডিএমপি কমিশনারের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব নির্দেশনার কথা জানানো হয়। এতে রাজধানীর কেন্দ্রীয় ব্যবসায়িক ও প্রশাসনিক এলাকার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য যান চলাচল বন্ধ রাখা এবং কিছু যানবাহনকে বিকল্প পথে চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ডিএমপির নির্দেশনায় বলা হয়েছে, মতিঝিল শাপলা চত্বরের অ্যালিকো গ্যাপ থেকে দিলকুশা বাণিজ্যিক এলাকা হয়ে বঙ্গভবন রোড এবং রাজউক ক্রসিং পর্যন্ত সাধারণ সব ধরনের যানবাহনের প্রবেশ বন্ধ থাকবে। অর্থাৎ বঙ্গভবনকেন্দ্রিক এই গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অংশে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সাধারণ যানবাহন চলাচল করতে পারবে না। ফলে ওই এলাকার নিয়মিত যাত্রী ও চালকদের আগে থেকেই বিকল্প রুট ব্যবহারের প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে।

শাপলা চত্বর ও দৈনিক বাংলা মোড় থেকে রাজউক ও গুলিস্তানমুখী যাত্রীবাহী বাসগুলোর জন্যও বিকল্প পথ নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব বাসকে দৈনিক বাংলা, ইউবিএল ও প্রেস ক্লাব সড়ক ব্যবহার করে চলাচল করতে বলা হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী পরিস্থিতি বিবেচনায় সুবিধাজনক বিকল্প সড়ক ব্যবহারের সুযোগও রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া দৈনিক বাংলা থেকে রাজউক অভিমুখে যেকোনো ধরনের বাণিজ্যিক ও পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে। ফলে ওই সময় ব্যবসায়িক পণ্য পরিবহনকারী ট্রাক, কাভার্ডভ্যানসহ সংশ্লিষ্ট যানবাহনগুলোকে বঙ্গভবনকেন্দ্রিক এলাকায় প্রবেশ না করে বিকল্প সড়ক ব্যবহার করতে হবে। নগরীর ব্যস্ত এই অংশে যানজট ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে এই বিধিনিষেধকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে ডিএমপি।

মেয়র হানিফ ফ্লাইওভার ব্যবহারকারী যানবাহনের ক্ষেত্রেও বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ফ্লাইওভার দিয়ে আসা যানবাহনগুলোকে জিরো পয়েন্টে ইউটার্ন না নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এসব যানবাহনকে বাঁ দিকে ফুলবাড়িয়া অথবা ডানে ইউবিএল ক্রসিং হয়ে দৈনিক বাংলা-শাপলা চত্বরের দিকে চলাচল করতে বলা হয়েছে। অন্যদিকে প্রয়োজন অনুযায়ী জিরো পয়েন্ট, ইউবিএল, নাইটিংগেল ও ফকিরাপুল হয়ে বিকল্প পথে গন্তব্যে যাওয়ার সুযোগ থাকবে।

ডিএমপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই বিশেষ নির্দেশনার আওতায় আমন্ত্রিত অতিথিদের গাড়ি থাকবে না। অর্থাৎ বঙ্গভবনে শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে যেসব অতিথির গাড়ি নির্ধারিতভাবে প্রবেশ করবে, সেগুলো সংশ্লিষ্ট নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে। তবে সাধারণ মানুষের যানবাহনকে নির্ধারিত সময় ও রুট মেনে চলতে হবে।

রাষ্ট্রপতির শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশে কয়েক ঘণ্টার জন্য যান চলাচলে নিয়ন্ত্রণ আরোপের কারণে নগরবাসীর দৈনন্দিন চলাচলে সাময়িক প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে মতিঝিল, দৈনিক বাংলা, রাজউক, গুলিস্তান, শাপলা চত্বর, ফকিরাপুল ও আশপাশের এলাকায় যাতায়াতকারী মানুষকে সময় হাতে নিয়ে বের হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবার হওয়ায় অফিসগামী মানুষের চাপ তুলনামূলক কম থাকলেও বিকেল থেকে সন্ধ্যার দিকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে নগরবাসীর চলাচল বাড়তে পারে। একই সময়ে বঙ্গভবন এলাকায় রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানের কারণে নিরাপত্তাব্যবস্থাও জোরদার থাকবে। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যানবাহন চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ কার্যকর থাকায় সাধারণ যাত্রীদের বিকল্প রুট সম্পর্কে আগে থেকেই সচেতন থাকা জরুরি।

রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে বঙ্গভবনের অবস্থান হওয়ায় এ এলাকার সঙ্গে মতিঝিল, দিলকুশা, গুলিস্তান, দৈনিক বাংলা, রাজউক ও ফকিরাপুলের সড়ক যোগাযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব সড়কের কোনো অংশে যান চলাচল সীমিত হলে আশপাশের রাস্তায়ও যানবাহনের চাপ বাড়তে পারে। এ কারণে ডিএমপির নির্দেশনা শুধু বঙ্গভবনের আশপাশের সড়কেই সীমাবদ্ধ না রেখে বিকল্প চলাচলের পথও নির্ধারণ করে দিয়েছে।

শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ একটি আয়োজন। নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দায়িত্ব গ্রহণ উপলক্ষে রাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তিদের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও গুরুত্বপূর্ণ অতিথিদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। নিরাপত্তা ও প্রটোকল বিবেচনায় তাঁদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন রাখা অনুষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

এ ধরনের রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে সাধারণ মানুষের চলাচলে সাময়িক বিধিনিষেধ নতুন কোনো বিষয় নয়। মূল উদ্দেশ্য থাকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনুষ্ঠানস্থলে অতিথিদের নিরাপদে পৌঁছানো, জরুরি যান চলাচলের সুযোগ রাখা এবং সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা বা যানজট এড়ানো। ডিএমপির এবারের নির্দেশনাও সেই উদ্দেশ্যেই দেওয়া হয়েছে।

নগরবাসীর প্রতি ডিএমপি নির্ধারিত ট্রাফিক নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষ করে বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত বঙ্গভবন ও আশপাশের এলাকায় প্রয়োজন ছাড়া যানবাহন নিয়ে প্রবেশ না করার পাশাপাশি বিকল্প সড়ক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এতে একদিকে যেমন রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে, অন্যদিকে রাজধানীর অন্যান্য সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার ক্ষেত্রেও সহযোগিতা পাওয়া যাবে।

শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সংশ্লিষ্ট সড়কে সাধারণ যানবাহন চলাচল আবার স্বাভাবিক হওয়ার কথা। তবে অনুষ্ঠান চলাকালে নিরাপত্তা ও ট্রাফিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ডিএমপির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।

রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ একটি অনুষ্ঠানের কারণে রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকার একটি অংশে কয়েক ঘণ্টার জন্য এই বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সাময়িক এই ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের কারণে সাধারণ মানুষের কিছুটা ভোগান্তি হলেও রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানটি নিরাপদ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে নগরবাসীর সহযোগিতাকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত