আজ স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানাবেন রাষ্ট্রপতি

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬
  • ১২ বার
আজ স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানাবেন রাষ্ট্রপতি

প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে আজ শনিবার (২২ আগস্ট) মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেওয়ার পর এটি তাঁর প্রথম আনুষ্ঠানিক কর্মসূচিগুলোর একটি। নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী সকাল সোয়া ১০টার দিকে তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধে পৌঁছে শহীদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন।

রাষ্ট্রপতির স্মৃতিসৌধ সফরকে ঘিরে এরই মধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রপতির প্রেস উইং ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁর কর্মসূচির বিষয়ে তথ্য জানানো হয়েছে। স্মৃতিসৌধে পৌঁছানোর পর রাষ্ট্রপতি পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের প্রতি রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। এ সময় তিনি কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে তাঁদের আত্মত্যাগ ও দেশের স্বাধীনতার জন্য জীবন উৎসর্গকারী বীরদের স্মরণ করবেন।

জাতীয় স্মৃতিসৌধ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার অন্যতম প্রধান প্রতীক। প্রতি বছর রাষ্ট্রপতি, সরকারপ্রধানসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এখানে এসে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। স্বাধীন বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় জীবনে নতুন রাষ্ট্রপতির প্রথম দিকের কর্মসূচিতে স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদনের বিষয়টি তাই বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য আত্মত্যাগকারী মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর মধ্য দিয়ে তাঁর আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব পালনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা হচ্ছে।

স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সদস্যদের সমন্বয়ে একটি চৌকস দল রাষ্ট্রপতিকে গার্ড অব অনার দেওয়ার কথা রয়েছে। একই সময়ে বিউগলে বেজে উঠবে করুণ সুর। আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি রাষ্ট্রীয় শ্রদ্ধা জানানো হবে। পুষ্পস্তবক অর্পণের পর রাষ্ট্রপতি স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে রাখা পরিদর্শন বইয়ে নিজের মন্তব্য লিখে স্বাক্ষর করবেন।

রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দায়িত্ব গ্রহণের পটভূমিতেও এবারের স্মৃতিসৌধ সফরটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তিনি দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। নির্বাচনে মোট ৩৪৯ জন ভোটারের মধ্যে ৩৪৩ জন সংসদ সদস্য ভোট দেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ ৮৮ ভোট পান।

দীর্ঘ ৩৫ বছর পর বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হওয়ায় এবারের নির্বাচন রাজনৈতিকভাবে আলাদা গুরুত্ব পেয়েছে। ১৯৯১ সালের পর এবারই প্রথম একাধিক প্রার্থীর মধ্যে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় সংসদের সদস্যদের ভোটে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিএনপির দীর্ঘদিনের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদগুলোর একটি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

নির্বাচনের আগে তিনি বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। নির্বাচিত হওয়ার পর রাষ্ট্রপতি পদে দায়িত্ব পালনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার অংশ হিসেবে দলীয় পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর প্রক্রিয়াও সম্পন্ন করেন। তাঁর রাজনৈতিক জীবনের দীর্ঘ সময় কেটেছে দেশের রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পর্যায়ে। বিরোধী দলের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকা, রাজনৈতিক আন্দোলন ও দলীয় নেতৃত্বে ভূমিকা রাখার পর এবার তিনি রাষ্ট্রের সাংবিধানিক প্রধানের দায়িত্বে এলেন।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের ঐতিহাসিক দরবার হলে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শপথ অনুষ্ঠানে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, জাতীয় সংসদের সদস্য, রাজনৈতিক নেতা, সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। শপথ নেওয়ার মধ্য দিয়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

শপথ গ্রহণের পরের দিনই জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানাতে যাওয়ার কর্মসূচি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের ধারাবাহিকতায় একটি প্রতীকী তাৎপর্য তৈরি করেছে। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে বসার পর মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের মাধ্যমে নতুন রাষ্ট্রপতি দেশের ইতিহাস, স্বাধীনতা ও জাতীয় চেতনার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করবেন। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের গুরুত্ব বিবেচনায় স্মৃতিসৌধে এই শ্রদ্ধা নিবেদনকে গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় নিরাপত্তাব্যবস্থাও জোরদার করা হবে। রাষ্ট্রপতির চলাচল ও আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি নির্বিঘ্ন রাখতে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রপতির সফরকে কেন্দ্র করে স্মৃতিসৌধ এলাকায় নির্ধারিত প্রটোকল অনুসরণ করা হবে।

মুক্তিযুদ্ধের নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ১৯৭১ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম। সেই সংগ্রামে লাখো মানুষ জীবন দিয়েছেন এবং অসংখ্য মানুষ নির্যাতন, বাস্তুচ্যুতি ও সীমাহীন দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন। জাতীয় স্মৃতিসৌধ সেই আত্মত্যাগেরই এক দৃশ্যমান স্মারক। রাষ্ট্রের নতুন প্রধান হিসেবে সেখানে দাঁড়িয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের শ্রদ্ধা নিবেদন তাই কেবল একটি আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি নয়, বরং বাংলাদেশের ইতিহাস ও জাতীয় আত্মপরিচয়ের প্রতি রাষ্ট্রীয় সম্মানেরও প্রকাশ।

রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর সামনে রয়েছে রাষ্ট্রের সাংবিধানিক ও আনুষ্ঠানিক বিভিন্ন দায়িত্ব। রাজনৈতিকভাবে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থাকা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এখন রাষ্ট্রপতি হিসেবে সংবিধান, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এবং জাতীয় স্বার্থকে সামনে রেখে দায়িত্ব পালনের নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছেন। রাষ্ট্রপতির পদটি মূলত সাংবিধানিক ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদার পদ হলেও দেশের গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রক্রিয়া ও রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডে এর বিশেষ ভূমিকা রয়েছে।

সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে আজকের শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে সেই নতুন অধ্যায়ের আরেকটি আনুষ্ঠানিক সূচনা হবে। পুষ্পস্তবক অর্পণ, নীরবতা পালন, গার্ড অব অনার এবং পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষরের মতো রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে নতুন রাষ্ট্রপতি দেশের স্বাধীনতার জন্য আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের স্মরণ করবেন। জাতীয় স্মৃতিসৌধের নীরব পরিবেশে তাঁর এই শ্রদ্ধা নিবেদন একই সঙ্গে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ হয়ে উঠবে।

এদিকে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর তাঁর পরবর্তী কর্মসূচি নিয়েও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে প্রস্তুতি চলছে। তবে আজকের স্মৃতিসৌধ সফরই নতুন রাষ্ট্রপতির প্রথম গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিগুলোর মধ্যে অন্যতম। স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্মারকের সামনে দাঁড়িয়ে তাঁর শ্রদ্ধা নিবেদন রাষ্ট্রপতি হিসেবে তাঁর দায়িত্ব পালনের সূচনালগ্নে একটি স্মরণীয় মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত