সংসদ অধিবেশন ঘিরে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় সমাবেশ নিষিদ্ধ

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬
  • ৩ বার

প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন সামনে রেখে রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবন ও আশপাশের বিস্তৃত এলাকায় সভা-সমাবেশ, মিছিল, শোভাযাত্রা ও বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। একই সঙ্গে নির্ধারিত এলাকায় সব ধরনের অস্ত্র, বিস্ফোরক, ক্ষতিকর ও দূষণীয় দ্রব্য বহনেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) রাত ১২টা থেকে এই নির্দেশ কার্যকর হবে এবং সংসদ অধিবেশন শেষ না হওয়া পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।

ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ স্বাক্ষরিত গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সংসদ অধিবেশন নির্বিঘ্নে পরিচালনা এবং জাতীয় সংসদ ভবন ও পার্শ্ববর্তী এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সড়ক, মোড় এবং আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকার অংশ নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়েছে।

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের আনুষ্ঠানিক তথ্য অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেল ৩টায় শুরু হবে। শেরেবাংলা নগরে জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে অধিবেশন বসবে।

সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের ১ দফায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের এই অধিবেশন আহ্বান করা হয়েছে। সংসদ সচিবালয়ও ২৭ আগস্ট বিকেল ৩টায় অধিবেশন শুরুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

ডিএমপির নির্দেশনা অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা এলাকায় কোনো ধরনের রাজনৈতিক কিংবা অন্য সমাবেশ আয়োজন করা যাবে না। মিছিল, শোভাযাত্রা এবং বিক্ষোভ কর্মসূচিও একইভাবে নিষিদ্ধ থাকবে। পাশাপাশি অস্ত্রশস্ত্র, বিস্ফোরক এবং জননিরাপত্তার জন্য ক্ষতিকর বস্তু বহন করা যাবে না।

নিষিদ্ধ এলাকার পরিধি শুধু সংসদ ভবনের সীমানায় সীমাবদ্ধ রাখা হয়নি। ময়মনসিংহ রোডের মহাখালী ক্রসিং থেকে পুরাতন বিমানবন্দর হয়ে বাংলামোটর ক্রসিং পর্যন্ত বিস্তৃত অংশ এই নির্দেশনার আওতায় এসেছে। বাংলামোটর লিংক রোডের পশ্চিম প্রান্ত থেকে হোটেল সোনারগাঁও রোডের সার্ক ফোয়ারা পর্যন্ত এলাকাও একই বিধিনিষেধের মধ্যে থাকবে।

পান্থপথের পূর্ব প্রান্ত থেকে গ্রিন রোডের সংযোগস্থল হয়ে ফার্মগেট পর্যন্ত অংশেও সভা-সমাবেশ কিংবা মিছিল করা যাবে না। মিরপুর রোডের শ্যামলী মোড় থেকে ধানমন্ডি-১৬, অর্থাৎ পুরাতন ২৭ নম্বর সড়কের সংযোগস্থল পর্যন্ত এলাকাও নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে।

এর পাশাপাশি রোকেয়া সরণির সংযোগস্থল থেকে পুরাতন নবম ডিভিশন ক্রসিং হয়ে বিজয় সরণি পর্যটন ক্রসিং পর্যন্ত এলাকায় বিধিনিষেধ কার্যকর থাকবে। ইন্দিরা রোডের পূর্ব প্রান্ত থেকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের পশ্চিম প্রান্ত, জাতীয় সংসদ ভবনের সংরক্ষিত এলাকা এবং উল্লেখিত সীমানার ভেতরে থাকা সব সড়ক ও গলিপথও এই আদেশের অংশ।

ফলে সংসদ অধিবেশন চলাকালে রাজধানীর একটি বড় ও ব্যস্ত অংশে রাজনৈতিক কিংবা সাংগঠনিক কর্মসূচি আয়োজনের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ কার্যকর থাকবে। এসব এলাকার মধ্যে রয়েছে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন করিডোর, অফিস এলাকা এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকার সংযোগপথ।

ডিএমপির এমন সিদ্ধান্ত নতুন নয়। জাতীয় সংসদের আগের অধিবেশনগুলো ঘিরেও একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। ত্রয়োদশ সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন শুরু হওয়ার আগেও শেরেবাংলা নগর ও আশপাশের এলাকায় সভা-সমাবেশ, মিছিল ও বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করেছিল ডিএমপি। তখনও নিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলা বজায় রাখার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল।

প্রথম অধিবেশনের সময়ও জাতীয় সংসদ ভবনের আশপাশে একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছিল। সেই নির্দেশনায় অস্ত্র, বিস্ফোরক ও ক্ষতিকর পদার্থ বহনের পাশাপাশি জনসমাবেশ ও মিছিল বন্ধ রাখার কথা বলা হয়।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অধ্যাদেশে পুলিশ কমিশনারকে জনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার প্রয়োজনে সমাবেশ কিংবা মিছিল নিষিদ্ধ করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। অধ্যাদেশের ২৮ ও ২৯ ধারায় জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় নির্দিষ্ট কার্যক্রম ও সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার বিধান রয়েছে।

সংসদ ভবন বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় স্থাপনা। অধিবেশন চলাকালে সংসদ সদস্য, মন্ত্রী, সরকারি কর্মকর্তা, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য, সাংবাদিক এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়মিত যাতায়াত থাকে। ফলে অধিবেশনকে কেন্দ্র করে সংসদ ভবন ও আশপাশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সাধারণ সময়ের তুলনায় বাড়ানো হয়।

এবারের তৃতীয় অধিবেশন শুরু হচ্ছে দ্বিতীয় অধিবেশন শেষ হওয়ার প্রায় দেড় মাস পর। সংসদ সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় বা বাজেট অধিবেশন গত ১৫ জুলাই সন্ধ্যায় শেষ হয়।

নতুন অধিবেশনে কোন কোন বিল উত্থাপন কিংবা পাস হবে এবং কোন জাতীয় ইস্যু সংসদীয় আলোচনায় প্রাধান্য পাবে, তা অধিবেশনের কার্যসূচির ওপর নির্ভর করবে। সংসদের নিয়মিত কার্যক্রমের মধ্যে আইন প্রণয়ন, প্রশ্নোত্তর, প্রস্তাব এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা অন্তর্ভুক্ত থাকে।

এদিকে নিষেধাজ্ঞার কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলো দিয়ে নিয়মিত চলাচলকারী সাধারণ মানুষেরও কিছুটা সতর্ক থাকার প্রয়োজন হতে পারে। ডিএমপির বর্তমান নির্দেশ মূলত সভা-সমাবেশ, মিছিল, বিক্ষোভ এবং নিষিদ্ধ বস্তু বহনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক যাতায়াত পুরোপুরি বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

তবে সংসদ অধিবেশন চলাকালে নিরাপত্তা তল্লাশি কিংবা যানবাহন নিয়ন্ত্রণের কারণে জাতীয় সংসদ ভবনসংলগ্ন এলাকায় চলাচলে সাময়িক ধীরগতি তৈরি হতে পারে। অতীতে বড় রাষ্ট্রীয় আয়োজন ও সংসদীয় কার্যক্রমের সময় রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বাড়তি ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাও দেখা গেছে।

জাতীয় সংসদ ভবনের আশপাশে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, বিজয় সরণি, ফার্মগেট ও আগারগাঁওয়ের মতো ব্যস্ত সড়ক রয়েছে। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ এসব পথে কর্মস্থল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য গন্তব্যে যাতায়াত করেন। তাই নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি স্বাভাবিক জনচলাচল বজায় রাখাও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

ডিএমপি জানিয়েছে, সংসদ অধিবেশন যতদিন চলবে ততদিন এই নির্দেশ কার্যকর থাকবে। ফলে অধিবেশন শেষ হওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগে নিষিদ্ধ এলাকার মধ্যে কোনো ধরনের সভা, মিছিল, শোভাযাত্রা কিংবা বিক্ষোভ আয়োজন করা যাবে না।

রাজধানীর নাগরিক এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনকে এই সময় নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। বিশেষ করে জাতীয় সংসদ ভবনের পার্শ্ববর্তী এলাকায় কোনো কর্মসূচি আয়োজনের আগে সংশ্লিষ্ট সীমারেখা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখা প্রয়োজন।

সংসদ অধিবেশন ঘিরে নিরাপত্তার এই আয়োজন মূলত রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা এবং সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা এড়ানোর অংশ। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সামনে থাকবে নাগরিক চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং রাজধানীর ব্যস্ত এলাকাগুলোতে অপ্রয়োজনীয় ভোগান্তি কমানোর চ্যালেঞ্জ।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় শুরু হওয়ার কথা। তার আগের রাত থেকেই কার্যকর হচ্ছে ডিএমপির নিষেধাজ্ঞা। সংসদ অধিবেশন শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বর্তমান নির্দেশনার মেয়াদও শেষ হবে বলে গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত