আগস্টে রপ্তানি আয় বেড়েছে ১৩.১৪ শতাংশ

ফারহান ফারাবী
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৪ বার

প্রকাশ: ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি আয়ে আগস্ট মাসে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ২০২৬ সালের আগস্টে দেশের রপ্তানি আয় গত বছরের একই মাসের তুলনায় ১৩ দশমিক ১৪ শতাংশ বেড়ে ৪ দশমিক ৪৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। ২০২৫ সালের আগস্টে এই আয় ছিল ৩ দশমিক ৯২ বিলিয়ন ডলার।

তৈরি পোশাক খাতের শক্তিশালী পারফরম্যান্সের পাশাপাশি পাট, ওষুধ, চামড়া, প্রকৌশল পণ্য, ফুটওয়্যার ও মুদ্রণ সামগ্রীর মতো অপ্রচলিত ও অন্যান্য খাতের ভালো প্রবৃদ্ধি আগস্টের সামগ্রিক রপ্তানি আয়ে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) প্রকাশিত সর্বশেষ পরিসংখ্যানে এসব তথ্য উঠে এসেছে। এতে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসের রপ্তানি পরিস্থিতিরও চিত্র পাওয়া গেছে।

ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, জুলাই ও আগস্ট—অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে বাংলাদেশের মোট পণ্য রপ্তানি ৫ দশমিক ৪৩ শতাংশ বেড়ে ৯ দশমিক ১৬ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে রপ্তানি আয় ছিল ৮ দশমিক ৬৯ বিলিয়ন ডলার।

তৈরি পোশাক খাত বরাবরের মতোই রপ্তানি আয়ের প্রধান ভিত্তি হিসেবে অবস্থান ধরে রেখেছে। আগস্ট মাসে এ খাতের রপ্তানি ১৩ দশমিক ৯২ শতাংশ বেড়ে ৩ দশমিক ৮৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। জুলাই-আগস্ট দুই মাসে তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে মোট ৭ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলারের, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫ দশমিক ১২ শতাংশ বেশি।

পোশাক খাতের দুই প্রধান উপখাত নিটওয়্যার ও ওভেন পোশাকেও আগস্টে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। আগস্ট মাসে নিটওয়্যার রপ্তানি ১৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ এবং ওভেন পোশাক রপ্তানি ১২ দশমিক ৭০ শতাংশ বেড়েছে। অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে নিটওয়্যার রপ্তানি ৬ দশমিক ১৭ শতাংশ এবং ওভেন পোশাক রপ্তানি ৩ দশমিক ৮১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

তবে এবারের রপ্তানি পরিসংখ্যানে পোশাকের বাইরের কয়েকটি খাতের পারফরম্যান্স বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। আগস্ট মাসে পাট ও পাটজাত পণ্যের রপ্তানি ৩৭ দশমিক ০৯ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে ওষুধ শিল্পে ২৮ দশমিক ৫২ শতাংশ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যে ২৪ দশমিক ৮৫ শতাংশ, মুদ্রণ সামগ্রীতে ২৪ দশমিক ৮৩ শতাংশ এবং প্রকৌশল পণ্যে ২৩ দশমিক ৮৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। চামড়া ছাড়া ফুটওয়্যার রপ্তানিও ১৫ দশমিক ২৯ শতাংশ বেড়েছে।

অর্থবছরের প্রথম দুই মাসের হিসাবেও এসব খাতে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির চিত্র পাওয়া গেছে। জুলাই-আগস্ট সময়ে মুদ্রণ সামগ্রীর রপ্তানি ৪১ দশমিক ৮৯ শতাংশ, ওষুধ ৩৮ দশমিক ৯৪ শতাংশ, ফুটওয়্যার ২৭ দশমিক ৩২ শতাংশ এবং পাট ও পাটজাত পণ্য ২২ দশমিক ২৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

রপ্তানি বাজারের দিক থেকেও যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একক বাজার হিসেবে অবস্থান ধরে রেখেছে। আগস্ট মাসে দেশটিতে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি ২৬ দশমিক ০৯ শতাংশ বেড়েছে। জুলাই-আগস্ট দুই মাসে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানির প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১১ দশমিক ৯ শতাংশ।

ইপিবির পরিসংখ্যানে আরও দেখা গেছে, যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি বাজারের অবস্থান পুনরুদ্ধার করেছে। এর পরের অবস্থানে রয়েছে জার্মানি, স্পেন ও নেদারল্যান্ডস। অর্থাৎ ইউরোপের বাজারগুলোও বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

উদীয়মান বাজারগুলোর মধ্যে তুরস্কে বাংলাদেশের রপ্তানি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। আগস্ট মাসে দেশটিতে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৪১ দশমিক ০৩ শতাংশ। একই সময়ে দক্ষিণ কোরিয়ায় রপ্তানি বেড়েছে ৪২ দশমিক ৩৭ শতাংশ এবং সৌদি আরবে ৪২ দশমিক ০৯ শতাংশ।

রপ্তানি খাতের এই প্রবৃদ্ধির পেছনে কয়েকটি বিষয়কে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছে ইপিবি। প্রধান রপ্তানি বাজারগুলোতে পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে বাংলাদেশকে উৎপাদন ও সোর্সিংয়ের গন্তব্য হিসেবে আস্থার জায়গায় ধরে রাখা এবং উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির কারণে রপ্তানি বাড়ছে বলে সংস্থাটি মনে করছে।

এর পাশাপাশি তুলনামূলক উচ্চমূল্যের পণ্য রপ্তানি এবং নতুন বাজার ও নতুন পণ্যের দিকে যাওয়ার উদ্যোগও প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে পোশাকের পাশাপাশি অন্যান্য খাতে ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি রপ্তানি বহুমুখীকরণের সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

তবে সামগ্রিক পরিস্থিতি পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত নয়। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এখনো নানা ধরনের অনিশ্চয়তা ও চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিশ্ববাজারে পণ্যের চাহিদা কমে যাওয়ার আশঙ্কা, ক্রেতাদের সোর্সিং বা সরবরাহের উৎস পরিবর্তন এবং প্রতিদ্বন্দ্বী উৎপাদনকারী দেশগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা বাংলাদেশের রপ্তানিকারকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।

বিশেষ করে তৈরি পোশাকের ওপর বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের বড় অংশ নির্ভরশীল হওয়ায় একটি নির্দিষ্ট খাতের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এ কারণে পাট, চামড়া, ওষুধ, প্রকৌশল পণ্য, ফুটওয়্যারসহ অন্যান্য খাতের সক্ষমতা বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক বাজারে এসব পণ্যের অবস্থান শক্তিশালী করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে অপ্রচলিত খাতগুলোর যে প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে, তা সেই বহুমুখীকরণ প্রক্রিয়ায় ইতিবাচক অগ্রগতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে কয়েকটি মাসের উচ্চ প্রবৃদ্ধিকে দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যে রূপ দিতে হলে উৎপাদন সক্ষমতা, পণ্যের মান, মূল্য প্রতিযোগিতা, সরবরাহব্যবস্থা এবং নতুন বাজারে প্রবেশের সক্ষমতা আরও জোরদার করতে হবে।

সব মিলিয়ে চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে ৫ দশমিক ৪৩ শতাংশ রপ্তানি প্রবৃদ্ধি এবং আগস্টে ১৩ দশমিক ১৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশের রপ্তানি খাতে ইতিবাচক সূচনা তৈরি করেছে। তৈরি পোশাকের পাশাপাশি অন্যান্য খাতের সম্প্রসারণ অব্যাহত থাকলে দেশের রপ্তানি আয়ের ভিত্তি আরও বৈচিত্র্যময় হওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিস্থিতির পরিবর্তন এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার চাপ সামলে এই প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই এখন রপ্তানি খাতের অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ।

বিস্তারিত জানতে আরো পড়ুন>> 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত