চেক জালিয়াতির মামলায় মাধবপুরের সাবেক মেয়র গ্রেপ্তার

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১০ বার
চেক জালিয়াতির মামলায় মাধবপুরের সাবেক মেয়র গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

হবিগঞ্জের মাধবপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা এস এম মুসলিমকে চেক জালিয়াতির মামলায় গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাতে মাধবপুর থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশের ভাষ্য, তার বিরুদ্ধে আদালতের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। পরে ওই পরোয়ানার ভিত্তিতেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এস এম মুসলিম মাধবপুর পৌরসভা ও স্থানীয় রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত একটি নাম। তিনি একাধিকবার স্থানীয় জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২১ সালের পৌরসভা নির্বাচনের সময় প্রকাশিত হলফনামা-সংক্রান্ত তথ্যে তাকে মাধবপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র এবং আওয়ামী লীগের স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নেতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। বিভিন্ন সময় স্থানীয় পর্যায়ে তার রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ড নিয়েও সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।

পুলিশ ও মামলার সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, একটি পৌর ভবন ভাড়া দেওয়ার শর্তে ২০২২ সালে চিকিৎসক সাইফুল ইসলাম ও অ্যাডভোকেট শাকিলের কাছ থেকে মোট ৫৫ লাখ টাকা অগ্রিম নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে এস এম মুসলিমের বিরুদ্ধে। ওই অর্থ নেওয়ার সময় তিনি দুইটি ব্যাংক চেক দেন বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরবর্তীতে চেক দুটি সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে জমা দেওয়া হলে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় সেগুলো ডিজঅনার বা প্রত্যাখ্যাত হয় বলে জানা যায়। এরপর পাওনাদাররা আইনগত পদক্ষেপ নেন। চেক দুটি অনাদায়ী থাকার ঘটনায় আদালতে মামলা করা হয় এবং পরবর্তী সময়ে ওই মামলায় এস এম মুসলিমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়।

মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাহেল রানা জানিয়েছেন, এস এম মুসলিমের বিরুদ্ধে দুটি মামলায় ওয়ারেন্ট রয়েছে। এসব পরোয়ানার ভিত্তিতেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

গ্রেপ্তারের পর মামলার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলে। দীর্ঘদিন জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা একজন সাবেক মেয়রের বিরুদ্ধে আর্থিক লেনদেন ও চেক ডিজঅনারের মামলা হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তবে মামলার অভিযোগ এবং আদালতের প্রক্রিয়া—দুটিকে আলাদা করে দেখার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে এস এম মুসলিমের দীর্ঘ সম্পৃক্ততা রয়েছে। ২০২১ সালের মাধবপুর পৌরসভা নির্বাচনসংক্রান্ত প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তিনি এর আগে মাধবপুর সদর ইউনিয়নে একাধিকবার চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন এবং পরে পৌরসভার মেয়র হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ওই নির্বাচনের সময় তার হলফনামায় বিভিন্ন সম্পদ ও আয়ের তথ্যও প্রকাশ করা হয়েছিল। স্থানীয় রাজনীতিতে তার পরিচিতির অন্যতম কারণ ছিল দীর্ঘ সময় ধরে জনপ্রতিনিধিত্ব করা এবং আওয়ামী লীগের স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয় থাকা।

মাধবপুর পৌরসভা প্রতিষ্ঠার পর থেকেই স্থানীয় রাজনীতিতে মেয়র পদটি আওয়ামী লীগের প্রভাবাধীন ছিল বলে বিভিন্ন সময়ের নির্বাচনী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ফলে পৌর এলাকার রাজনৈতিক অঙ্গনেও এস এম মুসলিমের একটি দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ছিল। তার গ্রেপ্তারের ঘটনায় সেই রাজনৈতিক অতীতও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

তবে বর্তমান মামলার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো অভিযোগের প্রকৃতি এবং আদালতের পরবর্তী কার্যক্রম। চেক ডিজঅনারের ঘটনায় মামলা হওয়া এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়া আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ। কোনো আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠা মানেই আদালতে তা প্রমাণিত হয়েছে—এমন নয়। মামলার পরবর্তী শুনানি, সাক্ষ্যপ্রমাণ এবং আদালতের সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়েই অভিযোগের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হবে।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২২ সালে পৌর ভবন ভাড়া দেওয়ার শর্তে ৫৫ লাখ টাকা নেওয়ার কথা বলা হলেও ওই অর্থের বিনিময়ে দেওয়া দুইটি চেক পর্যাপ্ত অর্থের অভাবে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর বিরোধটি আইনি পর্যায়ে গড়ায়। এ ধরনের আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে লিখিত চুক্তি, ব্যাংক নথি, চেক এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কাগজপত্র আদালতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। মামলার পরবর্তী পর্যায়ে এসব নথি ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতেই বিষয়টির আইনগত নিষ্পত্তি হওয়ার কথা।

এস এম মুসলিমের গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে তার বিরুদ্ধে থাকা মামলার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের ওপরই নির্ভর করছে। একই সঙ্গে মামলার বাদীপক্ষের অভিযোগ এবং আসামিপক্ষের সম্ভাব্য বক্তব্যও বিচারপ্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

পুলিশ জানিয়েছে, আদালতের পরোয়ানা অনুযায়ী তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে দুটি মামলার ওয়ারেন্ট রয়েছে। গ্রেপ্তারের পর আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে মামলাটি কোন পর্যায়ে রয়েছে, আদালতে পরবর্তী শুনানির তারিখ কী এবং আসামিপক্ষ থেকে জামিনের আবেদন করা হবে কি না—এসব বিষয় পরবর্তী আইনগত কার্যক্রমের ওপর নির্ভর করবে।

একজন সাবেক মেয়র হিসেবে এস এম মুসলিমের পরিচিতি মাধবপুরের স্থানীয় রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের। ফলে তার গ্রেপ্তার শুধু একটি মামলার আইনগত ঘটনা হিসেবে নয়, স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনেও তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে রাজনৈতিক পরিচয় বা অতীতের জনপ্রতিনিধিত্বের বাইরে মামলার অভিযোগের বিচার হবে প্রচলিত আইন ও আদালতের নির্ধারিত প্রক্রিয়ায়।

এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও নানা আলোচনা থাকলেও সংশ্লিষ্ট মামলার বিষয়ে অনুমাননির্ভর বক্তব্যের পরিবর্তে আদালতের নথি ও তদন্তের ফলাফলের দিকে তাকানোই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আর্থিক লেনদেনসংক্রান্ত যেকোনো বিরোধে প্রকৃত ঘটনা নির্ধারণে উভয় পক্ষের বক্তব্য, ব্যাংক নথি এবং অন্যান্য প্রমাণ যাচাই করা প্রয়োজন।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এস এম মুসলিমের বিরুদ্ধে থাকা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করা হয়েছে। এখন মামলার পরবর্তী ধাপ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী এগোবে। অভিযোগের সত্যতা, দায় এবং মামলার চূড়ান্ত পরিণতি আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়াতেই নির্ধারিত হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত