অর্থনীতি ভঙ্গুর করে আওয়ামী লীগ পালিয়েছে: জাহিদ

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ২ বার
অর্থনীতি ভঙ্গুর করে আওয়ামী লীগ পালিয়েছে: জাহিদ

প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দিনাজপুরের বিরামপুরে এক কর্মী সম্মেলন ও মতবিনিময় সভায় দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেছেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, আওয়ামী লীগ সরকার দেশ পরিচালনার সময় অর্থনীতিসহ বিভিন্ন খাতকে দুর্বল অবস্থায় রেখে গেছে। একই সঙ্গে বর্তমান বিএনপি সরকার সীমিত সময়ের মধ্যে দেশের অর্থনীতি পুনর্গঠন এবং মানুষের জীবনযাত্রার উন্নয়নে কাজ করছে বলে দাবি করেছেন তিনি।

শুক্রবার দিনাজপুরের বিরামপুর পৌর শহরের পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে পৌর বিএনপির কর্মী সম্মেলন ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী। স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উপস্থিতিতে আয়োজিত এই সভায় তিনি দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, কৃষি, বিদ্যুৎ, শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা ও অবকাঠামোসহ বিভিন্ন খাতের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন।

মন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা ভঙ্গুর করে আওয়ামী লীগ পালিয়ে গেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগীরা দেশ ছেড়ে চলে গেলেও এর প্রভাব হিসেবে অর্থনীতি ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে নানা ধরনের সমস্যা রয়ে গেছে। এসব সমস্যা মোকাবিলা করে অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার ও স্থিতিশীল করার জন্য বর্তমান সরকার কাজ করছে বলে জানান তিনি।

অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, অর্থনীতি কোনো বিচ্ছিন্ন বিষয় নয়। একটি দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে কৃষি, শিল্প, বিদ্যুৎ, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগব্যবস্থা সরাসরি যুক্ত। তাই দেশের সার্বিক উন্নয়নের জন্য প্রতিটি খাতকে একই সঙ্গে শক্তিশালী করার প্রয়োজন রয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে সে লক্ষ্যেই বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।

বক্তব্যে তিনি বিশেষভাবে কৃষি খাতের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তার মতে, বাংলাদেশের অর্থনীতির সঙ্গে কৃষকের জীবন ও উৎপাদনব্যবস্থা গভীরভাবে সম্পৃক্ত। কৃষি খাতে উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হলে এর ইতিবাচক প্রভাব দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতেও পড়বে। ফলে কৃষকদের বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে সেগুলোর সমাধানকে সরকার অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলে জানান তিনি।

কৃষকদের স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি কৃষি উৎপাদনের পরিবেশ আরও কার্যকর করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী। তিনি বলেন, কৃষক ভালো থাকলে গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী হবে এবং গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী হলে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে তার ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। এ কারণে কৃষিকে কেবল একটি খাত হিসেবে নয়, বরং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করার কথা বলেন তিনি।

মন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান সরকারের বয়স মাত্র সাত মাস। এত অল্প সময়ে একটি দেশের দীর্ঘদিনের সব সমস্যা একসঙ্গে সমাধান করা সম্ভব নয়। দেশের বিভিন্ন খাতে যে জটিলতা তৈরি হয়েছে, সেগুলো কাটিয়ে উঠতে সময় প্রয়োজন। তবে ধীরে ধীরে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের দিকে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

তার বক্তব্যে অবকাঠামো উন্নয়ন, বিদ্যুৎ সরবরাহ, কৃষিতে সার, চিকিৎসা, শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নের বিষয়ও উঠে আসে। সরকারের লক্ষ্য হিসেবে তিনি এমন একটি পরিস্থিতি তৈরির কথা বলেন, যেখানে সাধারণ মানুষ স্বাভাবিকভাবে জীবনযাপন করতে পারবেন এবং দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে।

দেশের সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নের সঙ্গে সরকারের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, উন্নয়নের সুফল শুধু শহরকেন্দ্রিক হলে তা পূর্ণাঙ্গ উন্নয়ন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে না। প্রত্যন্ত অঞ্চল ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর কাছেও উন্নয়নের সুযোগ পৌঁছে দিতে হবে। কৃষক, শ্রমিক, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন পেশার মানুষের জীবনযাত্রার উন্নয়ন ঘটাতে পারলেই অর্থনৈতিক অগ্রগতি সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান হবে।

বিরামপুরের স্থানীয় রাজনৈতিক পরিবেশের মধ্যেও মন্ত্রীর বক্তব্যে অর্থনৈতিক পুনর্গঠন ও জনকল্যাণের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে বিদ্যমান সমস্যাগুলো মোকাবিলা করে রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে আরও কার্যকর করা। এ জন্য সরকারের পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতাকর্মীদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার প্রয়োজন রয়েছে।

সভায় তিনি বলেন, দেশের জনগণ আগামী দিনে সুখে-শান্তিতে বসবাস করতে চান। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা, স্বাভাবিক চলাচল এবং জীবনযাত্রার উন্নয়ন নিশ্চিত করার জন্য সরকার কাজ করছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে উঠতে হলে উৎপাদন বাড়ানো, কৃষিকে শক্তিশালী করা, শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ উন্নত করা এবং জনসেবামূলক কার্যক্রম আরও কার্যকর করা জরুরি।

সমাজকল্যাণমন্ত্রীর বক্তব্যে বর্তমান সরকারের স্বল্প সময়ের কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথাও উঠে আসে। তিনি বলেন, সাত মাসের মধ্যে সবকিছু পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। তবে সরকারের ধারাবাহিক প্রচেষ্টায় দেশের বিভিন্ন সমস্যা পর্যায়ক্রমে সমাধান করা হবে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকার কাজ করে যাবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।

এদিকে রাজনৈতিক বক্তব্যের পাশাপাশি সভায় স্থানীয় বিএনপির সাংগঠনিক বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়। বিরামপুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. মহিবুর এলাহী চৌধুরী রবিনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান নয়নের সঞ্চালনায় কর্মী সম্মেলন ও মতবিনিময় সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পৌর বিএনপির সভাপতি মো. হুমায়ুন কবির এবং সাধারণ সম্পাদক মো. রেজাউল করিম রেজু।

কর্মী সম্মেলনে স্থানীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড, দেশের বর্তমান পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়। মন্ত্রীর বক্তব্যে বারবার উঠে আসে অর্থনৈতিক পুনর্গঠন, কৃষকের সমস্যা সমাধান এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার উন্নয়নের বিষয়।

দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা ধরনের মত ও মূল্যায়ন রয়েছে। বিরামপুরের সভায় সমাজকল্যাণমন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা মূলত বর্তমান সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি ও আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে তার রাজনৈতিক মূল্যায়নকে তুলে ধরে। অর্থনীতির বাস্তব পরিস্থিতি নির্ধারণে বিভিন্ন অর্থনৈতিক সূচক, সরকারি তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট খাতের সামগ্রিক অবস্থাও বিবেচনা করা প্রয়োজন।

তবে মন্ত্রীর বক্তব্যে একটি বিষয় স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে—বর্তমান সরকার অর্থনীতি পুনরুদ্ধার ও জনজীবনের উন্নয়নকে সামনে রেখে কাজ করার কথা বলছে। বিশেষ করে কৃষি, বিদ্যুৎ, শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সরকারের সামনে এখন সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা হলো এসব রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও পরিকল্পনাকে বাস্তব কার্যক্রমে রূপ দেওয়া এবং তার সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া।

বিরামপুরের কর্মী সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যের মাধ্যমে সমাজকল্যাণমন্ত্রীও সেই প্রত্যাশার কথাই তুলে ধরেছেন। তিনি স্বীকার করেছেন, দীর্ঘদিনের সমস্যা অল্প সময়ে সমাধান করা সম্ভব নয়। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিকল্পিতভাবে এসব সমস্যা মোকাবিলা করে দেশের অর্থনীতি ও জনজীবনে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত