প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ ও বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থার উন্নয়নকাজের কারণে আজ শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) গাজীপুরের বেশ কিছু এলাকায় টানা ১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে। সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত নির্ধারিত এসব এলাকায় বিদ্যুৎ না থাকার কথা জানিয়েছে গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর কাশিমপুর জোনাল অফিস।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখার বিষয়টি জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে সংশ্লিষ্ট এলাকার গ্রাহকদের সাময়িক এই অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের আগেই উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণকাজ শেষ হলে দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গ্রাহকসেবার মান উন্নত করা এবং বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থাকে আরও নির্ভরযোগ্য করার লক্ষ্যেই এই কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ১১ কেভি ফিডারগুলোকে ছোট করার পাশাপাশি লোডশেডিং কমানো এবং ভবিষ্যতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য লাইন আপগ্রেডেশনের কাজ করা হবে।
এ ধরনের রক্ষণাবেক্ষণ ও অবকাঠামোগত উন্নয়নকাজের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা প্রয়োজন হয়ে পড়ে। বিদ্যুৎ লাইনে কাজ করার সময় নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। তাই সংশ্লিষ্ট এলাকার বিদ্যুৎ সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ রেখে কর্মীরা প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করবেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
আজ সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কাশিমপুরের আংশিক এলাকা এবং এর আশপাশের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে। এর মধ্যে রয়েছে বিএডিসি গেটের সামনের এলাকা, রফিকুল স্কুলের আশপাশ, কাশিমপুর স্ট্যান্ডের পশ্চিম পাশ এবং রিফুজি পাড়া। পাশাপাশি হাজিপাড়া ও জিতার মোড়ের আশপাশের এলাকাও এই বিদ্যুৎ বিভ্রাটের আওতায় থাকবে।
এ ছাড়া আলিমের আশপাশ, কবরস্থানের আশপাশ, জামাল টাওয়ারের আশপাশ, মল্লিকা বাজারের আশপাশ এবং নয়াপাড়ায়ও নির্ধারিত সময়ে বিদ্যুৎ থাকবে না। হাকের নল, লালদিঘি, খানকা শরিফের আশপাশ এবং রওশন মার্কেট এলাকাও সাময়িক বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার তালিকায় রয়েছে।
টানা ১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় এসব এলাকার বাসিন্দাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় কিছুটা ভোগান্তি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে বাসাবাড়ির পানি সরবরাহ, বৈদ্যুতিক পাম্প, ফ্রিজ, ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি এবং ছোট ব্যবসা ও দোকানপাটের স্বাভাবিক কার্যক্রমে সাময়িক প্রভাব পড়তে পারে। একই সঙ্গে যেসব পরিবারে বিদ্যুৎনির্ভর চিকিৎসা বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় যন্ত্র ব্যবহার করা হয়, তাদেরও আগে থেকেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে।
গাজীপুরের কাশিমপুর শিল্প ও আবাসিক—দুই ধরনের জনবসতির জন্যই গুরুত্বপূর্ণ একটি এলাকা। এখানে বিপুলসংখ্যক মানুষ বসবাস করেন এবং বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম রয়েছে। ফলে দীর্ঘ সময়ের বিদ্যুৎ বিভ্রাট স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি ব্যবসা ও কর্মজীবী মানুষের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। তবে বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করতে সাময়িক এই বিঘ্নকে কর্তৃপক্ষ রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে দেখছে।
বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থায় ১১ কেভি ফিডার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিদ্যুৎ বিতরণব্যবস্থার সক্ষমতা ও ব্যবস্থাপনা উন্নত করতে ফিডার পুনর্বিন্যাস এবং লাইন আপগ্রেডেশনের মতো কাজ করা হয়। এসব কাজ সঠিকভাবে সম্পন্ন হলে বিদ্যুৎ সরবরাহের নির্ভরযোগ্যতা বাড়ানো এবং বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিংয়ের চাপ কমানো সম্ভব হতে পারে। কাশিমপুর জোনাল অফিসের বিজ্ঞপ্তিতেও এই ধরনের দীর্ঘমেয়াদি সুবিধার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।
বর্তমানে নগর ও শিল্পাঞ্চলে বিদ্যুতের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। একই সঙ্গে আবাসিক ভবন, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, কারখানা এবং বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রম বিদ্যুতের ওপর ক্রমেই বেশি নির্ভরশীল হয়ে উঠেছে। ফলে পুরোনো বা অধিক চাপযুক্ত বিতরণব্যবস্থাকে আধুনিকায়ন করা এবং বিদ্যুৎ লাইনের সক্ষমতা বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় আপগ্রেডেশন ছাড়া দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা কঠিন।
এ কারণে আজকের নির্ধারিত কাজকে শুধু সাময়িক বিদ্যুৎ বিভ্রাট হিসেবে না দেখে বিতরণব্যবস্থার উন্নয়ন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে দেখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। কাজ শেষ হওয়ার পর বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হলে গ্রাহকেরা উন্নত সেবা পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন। তবে বাস্তবে উন্নয়নকাজের সুফল কতটা পাওয়া যাবে, তা নির্ভর করবে কাজের মান, বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা এবং পরবর্তী রক্ষণাবেক্ষণের ওপর।
এদিকে নির্ধারিত সময়ের আগেই কাজ শেষ হলে অপেক্ষার পুরো সময় বিদ্যুৎহীন থাকতে হবে না বলে জানিয়েছে কাশিমপুর জোনাল অফিস। অর্থাৎ সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সময়টি সম্ভাব্য সর্বোচ্চ কাজের সময় হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। কাজ দ্রুত সম্পন্ন হলে এর আগেই বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করা হতে পারে।
সংশ্লিষ্ট এলাকার গ্রাহকদের সাময়িক অসুবিধার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কর্তৃপক্ষ আগেই বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি জানিয়ে দিয়েছে। এতে বাসিন্দারা বিদ্যুৎ না থাকার সময়ের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। বিশেষ করে পানি সংরক্ষণ, মোবাইল ফোন ও জরুরি বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের চার্জ, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি এবং বিদ্যুৎনির্ভর কাজের সময়সূচি সামঞ্জস্য করার সুযোগ রয়েছে।
বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকার সময়সীমা শেষ হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট লাইনে কাজের অগ্রগতি ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনা করে বিদ্যুৎ পুনঃসংযোগ দেওয়া হবে। বিদ্যুৎ চালুর পর কোনো এলাকায় সরবরাহ স্বাভাবিক হতে সামান্য সময় লাগতে পারে বলেও গ্রাহকদের বাস্তব পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।
সব মিলিয়ে কাশিমপুর ও আশপাশের নির্ধারিত এলাকাগুলোতে আজকের ১০ ঘণ্টার বিদ্যুৎ বিভ্রাট স্থানীয় মানুষের জন্য সাময়িক ভোগান্তির কারণ হলেও এর মূল উদ্দেশ্য বিদ্যুৎ বিতরণব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়ানো এবং ভবিষ্যতে আরও নির্ভরযোগ্য সেবা নিশ্চিত করা। এখন গ্রাহকদের প্রত্যাশা, নির্ধারিত উন্নয়নকাজ যথাসময়ে ও মানসম্মতভাবে সম্পন্ন হবে এবং কাজ শেষে বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থায় এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।