ট্রাম্পের নৈশভোজে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৩ বার
ট্রাম্পের নৈশভোজে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ

প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্ক সফরে থাকা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আয়োজিত নৈশভোজে স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে অংশ নিয়েছেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনকে কেন্দ্র করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের নিয়ে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম দিনের কর্মসূচিতে আরও একটি আন্তর্জাতিক পর্যায়ের আনুষ্ঠানিকতা যুক্ত হয়েছে। সফরের শুরু থেকেই জাতিসংঘের বিভিন্ন কর্মসূচি, দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনায় ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি।

বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর সফরের বিভিন্ন কর্মসূচি ও বৈঠকের তথ্য তুলে ধরেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ড. হুমায়ুন কবির এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন। সেখানেই জানানো হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর স্ত্রী নৈশভোজে অংশ নেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং তাঁদের জীবনসঙ্গীদের জন্য এ ধরনের আয়োজন করা হয়। পূর্বনির্ধারিত সফরসূচি অনুযায়ী, ২২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় নিউইয়র্কের লোটে নিউইয়র্ক প্যালেস হোটেলে এই অভ্যর্থনা আয়োজনের কথা ছিল।

এর আগে নিউইয়র্কে পৌঁছানোর পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের উদ্বোধনী কর্মসূচিতে অংশ নেন। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের দেওয়া স্বাগত প্রাতরাশেও তিনি স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানকে নিয়ে অংশ নেন। সেখানে বিভিন্ন দেশের নেতা ও তাঁদের জীবনসঙ্গীদের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ ও শুভেচ্ছা বিনিময় হয়। এরপর তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উদ্বোধনী অধিবেশনে যোগ দেন।

জাতিসংঘের এবারের অধিবেশন বাংলাদেশের জন্যও কূটনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটি তারেক রহমানের প্রথম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ সফর। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের পক্ষে তাঁর বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। এ বক্তব্যে বাংলাদেশের বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অগ্রাধিকার, উন্নয়ন, শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, রোহিঙ্গা সংকট এবং বহুপক্ষীয় সহযোগিতার মতো বিষয় উঠে আসতে পারে।

নিউইয়র্ক সফরের বিভিন্ন কর্মসূচিতে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছে সরকার। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেছেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের পাশাপাশি অনুষ্ঠিত বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বৈঠকে বাংলাদেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলাদা দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের বিষয়ে সফরের আগে কোনো কর্মসূচি নির্ধারিত ছিল না বলেও তিনি জানিয়েছিলেন। ফলে ট্রাম্পের আয়োজিত নৈশভোজে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণকে আনুষ্ঠানিক আন্তর্জাতিক কর্মসূচির অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক। সফরসূচিতে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে, মালদ্বীপের ভাইস প্রেসিডেন্ট উজ হুসেইন মোহাম্মদ লতিফ, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা এবং ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তার সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে। এসব আলোচনায় আঞ্চলিক সহযোগিতা, উন্নয়ন, বিনিয়োগ, বাণিজ্য এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারত্বের বিষয় গুরুত্ব পাচ্ছে।

রোহিঙ্গা সংকটও প্রধানমন্ত্রীর এবারের জাতিসংঘ সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে। জাতিসংঘের অধিবেশনের পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের পার্শ্ব-আয়োজনেও প্রধানমন্ত্রীর অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে দীর্ঘস্থায়ী বাস্তুচ্যুতি, ন্যায়বিচার, জবাবদিহি এবং টেকসই সমাধানের বিষয়গুলো আলোচনায় আসবে।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কূটনীতির বিষয়টিও সফরের কর্মসূচিতে গুরুত্ব পেয়েছে। আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ী ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের কথা রয়েছে। এসব আলোচনায় বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগ, উৎপাদন, অবকাঠামো, প্রযুক্তি, দক্ষ মানবসম্পদ এবং তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনা তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও বিনিয়োগ সম্ভাবনা তুলে ধরার ক্ষেত্রে নিউইয়র্ক সফরকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখছে সরকার।

এরই মধ্যে মেটার সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক এবং প্রতিষ্ঠানটির বাংলাদেশে কার্যক্রম সম্প্রসারণের সম্ভাবনাও আলোচনায় এসেছে। বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী এবং ডিজিটাল অর্থনীতির সম্ভাবনাকে সামনে রেখে প্রযুক্তি খাতের সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা চলছে। একই সঙ্গে শিক্ষা, ব্যবসা ও ডিজিটাল সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে ব্রিফিংয়ে জানানো হয়।

অন্যদিকে তুরস্কের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নিয়েও নিউইয়র্ক সফরে আলোচনা হয়েছে। প্রেস ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তুরস্ক বাংলাদেশে বিনিয়োগের পাশাপাশি বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণে আগ্রহ দেখিয়েছে। দুই দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ সহযোগিতার ক্ষেত্র নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে এবারের অধিবেশন বাংলাদেশের জন্য বাড়তি কূটনৈতিক গুরুত্ব বহন করছে। প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফর এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব একই সময়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য সমন্বয় তৈরি করেছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিউইয়র্ক সফর ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলার কথা রয়েছে। সফর শেষে তিনি ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন। এর মধ্যে জাতিসংঘের সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের বক্তব্য দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের নেতা, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে আরও কয়েকটি বৈঠকে অংশ নেওয়ার কর্মসূচি রয়েছে।

ট্রাম্পের দেওয়া নৈশভোজে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ তাই তাঁর নিউইয়র্ক সফরের সামগ্রিক কূটনৈতিক কর্মসূচির একটি আনুষ্ঠানিক অংশ হিসেবে যুক্ত হয়েছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনকে কেন্দ্র করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতাদের উপস্থিতিতে আয়োজিত এসব অনুষ্ঠান রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধানদের পারস্পরিক যোগাযোগের সুযোগ তৈরি করে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও এই সফরের বিভিন্ন কর্মসূচিতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, রোহিঙ্গা সংকট, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের স্বার্থ তুলে ধরার বিষয়গুলোই প্রধান আলোচনার জায়গা হিসেবে থাকছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত