হাসিনাসহ ৪০ জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে তিন সাক্ষীর অভিযোগ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৭৯ বার
প্রকাশ: ১৭ নভেম্বর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আলোচিত যুদ্ধাপরাধ মামলার সাক্ষ্য নিয়ে নতুন করে বিস্ফোরক অভিযোগ উঠেছে। আল্লামা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করার অভিযোগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন তিনজন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী। বুধবার দুপুরে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে গিয়ে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে এ অভিযোগ দাখিল করেন।

অভিযোগকারী সাক্ষীরা হলেন সুমন্ত মিশ্রি, মাহবুবুল হাওলাদার এবং মাহতাব উদ্দিন হাওলাদার। তাদের পক্ষে মামলা দায়ের করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী পারভেজ হোসেন। তিনি জানান, ২০০৯ সালে মাহবুবুল হাওলাদারকে ডেকে আল্লামা সাঈদীর বিরুদ্ধে মামলা করার নির্দেশ দেন পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য একেএম আউয়াল। কিন্তু মাহবুবুল রাজি না হওয়ায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা তাকে তৎকালীন পাবলিক প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে নিয়ে যান। সেখানে দীর্ঘ সময় ধরে নির্যাতনের পর তার মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে সাঈদীর বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধকালীন অপরাধে মিথ্যা মামলা দিতে বাধ্য করা হয়। পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালেও তাকে প্রথম সাক্ষী হিসেবে হাজির করে একইভাবে জবানবন্দি দিতে বাধ্য করা হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, যাত্রাবাড়ী থানার অধীনে একটি সেফ হোমে এনে ভয়াবহ শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হন তিনি।

মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযোগকারী বাকি দুই সাক্ষী সুমন্ত মিশ্রি এবং মাহতাব উদ্দিন হাওলাদারকেও একই কায়দায় ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন টিম জোরপূর্বক সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করে। তারা অভিযোগ করেন, এটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত একটি প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে আল্লামা সাঈদীর বিরুদ্ধে সাজানো মামলা পরিচালনা করা হয়েছিল।

শেখ হাসিনা ছাড়াও অভিযুক্তদের তালিকায় রয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তৎকালীন চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম, সাবেক আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ, সাবেক আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, ট্রাইব্যুনালের সাবেক বিচারক বিচারপতি এটিএম ফজলে কবির, এমপি একেএম আউয়ালসহ মোট ৪০ জন।

এর আগে গত ২১ আগস্ট আল্লামা সাঈদীর আরেক আলোচিত সাক্ষী সুখরঞ্জন বালি অভিযোগ করেন, তাকে গুম এবং নির্যাতনের মাধ্যমে সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করা হয়েছিল। সে সময়ও তিনি শেখ হাসিনাসহ সংশ্লিষ্ট ৩২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন এবং ন্যায়বিচারের দাবি তুলেছিলেন।

তিন নতুন সাক্ষীর এ অভিযোগ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম ও এর অতীত রায়গুলো নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। রাজনৈতিক মহলে এ ঘটনাকে ঘিরে ইতোমধ্যে তীব্র আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। যদিও অভিযোগের বিষয়ে সরকার বা সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি এ অভিযোগ আদালতে গৃহীত হয় তবে এটি হবে বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধ বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে একটি যুগান্তকারী মোড়, যা শুধু ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম নয় বরং সমগ্র রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com