ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত থেকে সরে দাঁড়াল পাকিস্তান

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৬২ বার
ভারতকে হারিয়ে এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন হতে যা করতে চলেছে পাকিস্তান

প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক, একটি বাংলাদেশ অনলাইন

ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে হ্যান্ডশেক বিতর্কের জেরে এশিয়া কাপে টালমাটাল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) কঠোর অবস্থান নিয়ে ম্যাচ রেফারি অ্যান্ডি পাইক্রফটকে সরানোর দাবি তোলে এবং সেই দাবি না মানলে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে ম্যাচ বর্জনেরও হুমকি দেয়। তবে শেষ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) অবস্থান থেকে সরে আসেনি, আর পাকিস্তানও বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে আজ দুবাইয়ে মাঠে নামছে।

এশিয়া কাপের এই ম্যাচটি পাকিস্তানের জন্য টিকে থাকার লড়াই। স্বাগতিক আরব আমিরাতের বিপক্ষে জিতলেই সুপার ফোরে উঠবে তারা, আর হারলেই বিদায় নিশ্চিত। একই সমীকরণ প্রযোজ্য আরব আমিরাতের ক্ষেত্রেও। ভারতের দুই ম্যাচে টানা জয় তাদের আগেই পরবর্তী রাউন্ড নিশ্চিত করেছে, আর টানা দুই হারে বিদায় নিয়েছে ওমান। ফলে পাকিস্তান ও আরব আমিরাতের লড়াই হয়ে দাঁড়িয়েছে আসলেই ‘বাঁচা-মরার ম্যাচ’।

হ্যান্ডশেক বিতর্ক শুরু হয় পাকিস্তান-ভারত ম্যাচের টসের সময়। টসে পাকিস্তান অধিনায়ক সালমান আগার সঙ্গে হাত মেলাননি ভারতীয় অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব। খেলা শেষে একই দৃশ্য দেখা যায়। পিসিবি অভিযোগ তোলে, ম্যাচ রেফারি অ্যান্ডি পাইক্রফট নাকি সূর্যকুমারের সঙ্গে হাত মেলানো থেকে বিরত থাকতে বলেছিলেন পাকিস্তান অধিনায়ককে। ভারতীয় ক্রিকেটারকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ এনে পাকিস্তান সরাসরি পাইক্রফটকে সরানোর দাবি জানায়।

কিন্তু আইসিসি স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, বিষয়টি পাইক্রফটের সিদ্ধান্ত ছিল না, বরং এটি এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) কর্মকর্তাদের নির্দেশনা ছিল। তাই অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। পাকিস্তান ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানালেও শেষ পর্যন্ত ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে। আইসিসি জানিয়েছে, আজকের ম্যাচেও পাইক্রফটই দায়িত্ব পালন করবেন।

এদিকে পাকিস্তান দল নিয়ে উদ্বেগ কম নয়। ভারতের বিপক্ষে ৭ উইকেটে হারের আগে ওমানকে তারা ৯৩ রানে হারালেও ব্যাটিং ছিল একেবারেই ছন্নছাড়া। ওমানের বিপক্ষে পাকিস্তানের রান দাঁড়ায় ১৬০, যেখানে একই দলের বিপক্ষে আরব আমিরাত করেছে ১৭২ রান। সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাটিং ব্যর্থতা পাকিস্তান ক্রিকেটের বড় মাথাব্যথা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাবেকরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, যদি একই দুর্বলতা আজও দেখা দেয়, তবে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হতে পারে দলটিকে।

আরব আমিরাতও কিন্তু শক্ত প্রতিপক্ষ হয়ে উঠেছে। তাদের অধিনায়ক মুহাম্মদ ওয়াসিম পাকিস্তানেই জন্মগ্রহণ করেছেন। এই টুর্নামেন্টেই তিনি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে দ্রুততম ৩ হাজার রানের রেকর্ড গড়েছেন। মাত্র ১,৯৪৭ বলে এই মাইলফলক ছুঁয়ে ওয়াসিম ভেঙে দিয়েছেন ইংল্যান্ডের জস বাটলারের ২,০৬৮ বলের রেকর্ড। এমন এক ইনফর্ম ব্যাটসম্যান আজ পাকিস্তানের জন্মভূমির বিপক্ষেই সবচেয়ে বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারেন।

অন্যদিকে পাকিস্তানের ক্রিকেট ইতিহাসে এমন ম্যাচে চমকপ্রদ পরাজয়ের নজিরও কম নয়। বড় দলের তকমা নিয়েও তারা একাধিকবার হোঁচট খেয়েছে তুলনামূলক দুর্বল প্রতিপক্ষের কাছে। গত বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তারা গ্রুপপর্ব থেকেই ছিটকে গিয়েছিল। তাই আরব আমিরাতের বিপক্ষেও শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।

এশিয়া কাপের আগে শারজায় ত্রিদেশীয় সিরিজে দুবার আরব আমিরাতকে হারানোর অভিজ্ঞতা পাকিস্তানের আছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি আলাদা। বড় মঞ্চে চাপ, বিতর্ক এবং ব্যাটিং দুর্বলতা সব মিলিয়ে আজকের ম্যাচে পাকিস্তানের জন্য অগ্নিপরীক্ষা অপেক্ষা করছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ম্যাচ বয়কটের হুমকি দিয়ে পাকিস্তান আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজেদের অবস্থান আরও অস্বস্তিকর করে তুলেছিল। শেষ পর্যন্ত মাঠে নামার সিদ্ধান্তকে তারা ‘বাস্তবতায় ফেরা’ হিসেবে দেখছেন। কারণ, এমন একটি টুর্নামেন্ট থেকে বর্জনের পথ বেছে নিলে কেবল সমর্থকদেরই হতাশা বাড়ত না, বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পাকিস্তান ক্রিকেটের সুনামেও বড় ধরনের আঘাত হানত।

আজকের ম্যাচ পাকিস্তানের জন্য কেবল একটি জয় নয়, বরং নিজেদের সম্মান পুনরুদ্ধারেরও সুযোগ। ভারতীয়দের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাকে ঘিরে তারা যেভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে, এখন মাঠে জয়ের মাধ্যমে জবাব দেওয়াই হবে সবচেয়ে কার্যকর প্রতিক্রিয়া। তাতে শুধু সুপার ফোরে ওঠাই নয়, বরং আবারও ভারত-পাকিস্তান মহারণের মঞ্চ তৈরি হবে আগামী রোববার।

ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের আজকের লড়াই হবে মূলত নিজেদের ব্যাটিংকে ঘিরে। টপ অর্ডারের ধস সামলাতে না পারলে তাদের বোলিং আক্রমণও কার্যকর হবে না। অন্যদিকে আরব আমিরাতের আত্মবিশ্বাস আকাশচুম্বী। শক্তিশালী ভারতের বিপক্ষে লড়াই করার অভিজ্ঞতা, ওমানের বিপক্ষে ধারাবাহিক ব্যাটিং এবং অধিনায়ক ওয়াসিমের অনন্য রেকর্ড দলটিকে দিয়েছে বাড়তি অনুপ্রেরণা।

সব মিলিয়ে দুবাইয়ে আজকের ম্যাচ হয়ে উঠেছে বহুল প্রতীক্ষিত। ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং পরিসংখ্যানের বিচারে পাকিস্তান এগিয়ে থাকলেও মাটিতে যে শেষ হাসি কে হাসবে তা নির্ভর করবে ৪০ ওভারের অনিশ্চিত লড়াইয়ের ওপর। একটি জয় মানে সুপার ফোরে জায়গা, পরাজয় মানে বিদায়। আর সেই সঙ্গে প্রশ্ন থেকে যাবে, হ্যান্ডশেক-বিতর্কে ক্ষুব্ধ পাকিস্তান শেষ পর্যন্ত মাঠে নামলেও ক্রিকেটীয় পারফরম্যান্সে নিজেদের কতটা প্রমাণ করতে পারল।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত