সুপার ফোরে বাঁচা-মরার লড়াইয়ে শ্রীলঙ্কা-পাকিস্তান

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৫২ বার
সুপার ফোরে বাঁচা-মরার লড়াইয়ে শ্রীলঙ্কা-পাকিস্তান

প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

এশিয়া কাপের সুপার ফোর পর্ব এখন রীতিমতো জমজমাট উত্তেজনায় ভরপুর। ইতোমধ্যেই প্রতিটি দল নিজেদের প্রথম ম্যাচ শেষে সমীকরণগুলো জটিল করে তুলেছে। প্রথম ম্যাচে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে দুর্দান্ত সূচনা করেছে বাংলাদেশ। আর দ্বিতীয় ম্যাচে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের কাছে হোঁচট খেয়েছে পাকিস্তান। ফলে আজকের ম্যাচ কার্যত শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের জন্য টিকে থাকার এক নির্ণায়ক লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে আটটায় আবুধাবির শেখ জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে দুই দল।

এশিয়া কাপে প্রতিটি দল সুপার ফোরে তিনটি করে ম্যাচ খেলবে। টুর্নামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী, ফাইনালে জায়গা করে নিতে হলে শীর্ষ দুইয়ে থাকতে হবে। এর মানে দাঁড়াচ্ছে, আজকের ম্যাচে যারা হেরে যাবে, তারা টানা দুই হার নিয়ে কার্যত আসর থেকে বিদায়ের দ্বারপ্রান্তে চলে যাবে। অন্যদিকে বিজয়ী দল ধরে রাখবে ফাইনালে ওঠার আশা। এমন পরিস্থিতিতে ম্যাচটিকে নিঃসন্দেহে বলা যায় বাঁচা-মরার লড়াই।

শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, লঙ্কানরা কিছুটা হলেও এগিয়ে রয়েছে। বাংলাদেশের বিপক্ষে তারা হেরেছে বটে, তবে লড়াই করেছে চোখে চোখ রেখে। শেষ পর্যন্ত মাত্র ১ বল হাতে রেখে জয় ছিনিয়ে নিয়েছে বাংলাদেশ। ব্যাটিং, বোলিং এবং ফিল্ডিং— তিন বিভাগেই তারা নিজেদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। শ্রীলঙ্কার শক্তি হচ্ছে তাদের টিমওয়ার্ক, যেখানে সিনিয়র ক্রিকেটার ও তরুণদের মধ্যে সমন্বয় চোখে পড়ে। চারিথ আসালঙ্কার নেতৃত্বে দলটি প্রতিটি ম্যাচে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ক্রিকেট খেলছে।

নিউইয়র্কে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বেলজিয়ামের রানিসহ শীর্ষ কূটনীতিক ও নেতৃবৃন্দের বৈঠক

অন্যদিকে পাকিস্তানের সমস্যা রয়ে গেছে ব্যাটিং অর্ডারে। ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে তারা প্রতিযোগিতামূলক স্কোর গড়তে ব্যর্থ হয়েছে। ভারতীয় বোলারদের তোপে তারা শুরু থেকেই চাপে পড়ে যায়। ফর্মে নেই তরুণ ব্যাটাররা, বিশেষ করে মিডল অর্ডার। একের পর এক ক্যাচ মিসের সুযোগ কাজে লাগিয়েও পাকিস্তান বড় সংগ্রহ গড়তে পারেনি। ভারত যদি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ক্যাচ মিস না করত, তাহলে হারটা আরও বড় হতে পারত। পাকিস্তানের বোলিং লাইনআপ যদিও শক্তিশালী, বিশেষ করে স্পিন বিভাগে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ ছিল, তবে ব্যাটিংয়ের দুর্বলতা তাদের বারবার পিছিয়ে দিচ্ছে। এ সমস্যা কাটিয়ে উঠতে না পারলে ফাইনালের স্বপ্ন কার্যত অধরাই থেকে যাবে।

দুই দলের মুখোমুখি পরিসংখ্যানও বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এ পর্যন্ত ২৩ বার মুখোমুখি হয়েছে শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তান। এর মধ্যে পাকিস্তান জিতেছে ১৩ বার, শ্রীলঙ্কার জয় ১০টিতে। যদিও সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের দিক থেকে শ্রীলঙ্কা অনেক এগিয়ে। দুই দলের শেষ পাঁচটি মুখোমুখি লড়াইয়ে শতভাগ জয় পেয়েছে লঙ্কানরা। পাকিস্তান একটিতেও জয় ছিনিয়ে আনতে পারেনি। এশিয়া কাপে সরাসরি লড়াইয়েও শ্রীলঙ্কা এগিয়ে আছে। মোট সাতবার শ্রীলঙ্কা জয় পেয়েছে পাকিস্তানের বিপক্ষে, পাকিস্তানের জয় মাত্র দুটি। এসব পরিসংখ্যান পাকিস্তানের জন্য আশঙ্কার ইঙ্গিত বয়ে আনে।

শ্রীলঙ্কা তাদের দলীয় শক্তির ওপর ভরসা করছে। ওপেনিং জুটি থেকে শুরু করে মিডল অর্ডার পর্যন্ত তারা ব্যাট হাতে অবদান রাখতে সক্ষম। বোলিং বিভাগে স্পিনাররা বিশেষ করে মধ্য ওভারগুলোতে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলতে পারছেন। বাংলাদেশের বিপক্ষে যদিও শেষ মুহূর্তে জয় হাতছাড়া হয়েছে, তবুও লঙ্কানরা আত্মবিশ্বাস হারায়নি। আসরের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন হিসেবে তারা জানে কীভাবে চাপ সামলাতে হয়।

পাকিস্তান তাদের বোলারদের ওপর আস্থা রাখছে। শাহিন শাহ আফ্রিদি ও নাসিম শাহের পেস আক্রমণ, সঙ্গে স্পিন বিভাগে মোহাম্মদ নওয়াজরা দলের ভরসা। তবে ব্যাটিং নিয়ে দুশ্চিন্তা কমছে না। ওপেনাররা কিছুটা ইতিবাচক শুরু দিলেও মিডল অর্ডারে ধস নেমে আসছে বারবার। তরুণ ব্যাটাররা অভিজ্ঞতার ঘাটতি পূরণ করতে পারছেন না। ফলে পুরো চাপ গিয়ে পড়ছে সিনিয়র ব্যাটারদের কাঁধে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, পাকিস্তান যদি ব্যাটিং ব্যর্থতা কাটিয়ে উঠতে না পারে তবে বোলিং কিংবা ফিল্ডিং দিয়ে ম্যাচ জেতা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে। অন্যদিকে শ্রীলঙ্কা যদি আগের ম্যাচের মতোই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারে তবে তারাই জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তবে ক্রিকেট যে অনিশ্চয়তার খেলা, তাই শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কোনো কিছুই বলা যাচ্ছে না।

ট্রাম্প-এর্দোগান বৈঠক: ২৫ সেপ্টেম্বর হোয়াইট হাউসে

এশিয়া কাপের এই সুপার ফোর ম্যাচে তাই উত্তেজনার পারদ চরমে পৌঁছাবে। আবুধাবির শেখ জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়াম প্রস্তুত দুই দলের লড়াই দেখার জন্য। গ্যালারিতে জমবে প্রবাসী সমর্থকদের ভিড়, যাদের উপস্থিতি খেলোয়াড়দের বাড়তি প্রেরণা দেবে। পাকিস্তানি ও লঙ্কান সমর্থকদের আবেগ, স্লোগান এবং ক্রিকেটপ্রেমের মিলনমেলা যেন আরও একবার ক্রিকেট উৎসবের আবহ তৈরি করবে।

আজকের ম্যাচের ফলাফল টুর্নামেন্টের সমীকরণে ব্যাপক প্রভাব ফেলবে। হারলেই কার্যত বিদায়, আর জিতলেই বেঁচে থাকবে ফাইনালের আশা। তাই একে নিঃসন্দেহে বলা যায় আসরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। ক্রিকেটপ্রেমীরা তাই অপেক্ষায় রয়েছেন, দেখার জন্য শ্রীলঙ্কা কি তাদের জয়রথ অব্যাহত রাখতে পারে, নাকি পাকিস্তান ব্যাটিং ব্যর্থতা কাটিয়ে জয়ের ধারায় ফিরতে সক্ষম হয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত