সর্বশেষ :
‘ক্ষমতাহীন নাগরিকই শাসকদলের চাঁদাবাজির শিকার’: হাসনাত আবদুল্লাহ সৌদি আরবের দাম্মাম বিমানবন্দরে ভয়াবহ হামলা: নিহত ১, আহত ৮ গাজীপুরে গভীর রাতে বিধ্বংসী আগুন: পুড়ল মসজিদ ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নভেম্বরের শুরুতে স্কুল-কলেজে মিলতে পারে টানা ৩ দিনের ছুটি ড্রাইভিং লাইসেন্সে অনিয়ম: জালিয়াতি আর দালাল চক্রে ডুবছে সড়ক নিরাপত্তা আমদানি করা ১ লাখ ৭৫ হাজার টন মার্কিন গম চট্টগ্রাম বন্দরে জৈন্তাপুর ও জাফলংয়ে ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ নিয়োগ প্রশ্নফাঁসে বিএআরসির সহকারী পরিচালক গ্রেপ্তার পূর্ণাঙ্গ ইসলামি ব্যাংক হতে প্রস্তুতি নিচ্ছে এনসিসি ব্যাংক ডিআইজির বাড়িতে মাদকের আসর, আইনশৃঙ্খলা নিয়ে শফিকুরের প্রশ্ন

হোয়াইটওয়াশ এড়াতে আজ বাংলাদেশের ‘শেষ লড়াই’

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৫
  • ১০৪ বার

প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

আবুধাবির গরম সন্ধ্যায় আজ বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের সামনে একটাই লক্ষ্য—সম্মান রক্ষা। আফগানিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচটি হয়ে উঠেছে হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর লড়াই। প্রথম দুই ম্যাচে লাল-সবুজ প্রতিনিধিদের ব্যাটিং ব্যর্থতা দলকে নিয়ে এসেছে এক কঠিন বাস্তবতার সামনে। সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ২২১ রান, দ্বিতীয় ম্যাচে তা নেমে আসে মাত্র ১০৯-এ। এই নিম্নগামী ধারা যদি অব্যাহত থাকে, তবে আফগানিস্তানের বিপক্ষে আরেকটি হারের লজ্জা এড়ানো কঠিন হয়ে পড়বে। সন্ধ্যা ৬টায় শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে শুরু হতে যাওয়া ম্যাচে তাই লক্ষ্য একটাই—ব্যাট হাতে প্রতিরোধ গড়ে হোয়াইটওয়াশের অপমান থেকে নিজেকে রক্ষা করা।

বাংলাদেশের অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ প্রথম দুই ম্যাচেই চেয়েছিলেন ব্যাটিং ইউনিট থেকে জবাব। কিন্তু বোলাররা নিজেদের সর্বোচ্চটা উজাড় করে দিলেও, ব্যাটারদের ব্যর্থতা সেই প্রচেষ্টা ম্লান করেছে। বড় জুটি গড়তে পারেননি কেউ, ইনিংস বড় করার দায়িত্ব নেয়ার মতো দৃঢ়তা দেখা যায়নি কোনো ব্যাটারের মধ্যে। ফলাফল, পরপর দুই ম্যাচে পরাজয়। এই ব্যর্থতা কাটিয়ে ওঠার জন্য আজ একাদশে দেখা যেতে পারে একাধিক পরিবর্তন।

দলের সূত্র বলছে, তানজিদ তামিম ও জাকের আলী অনিক সুযোগ পেয়ে নিজেকে প্রমাণ করতে পারেননি। তাই আজকের ম্যাচে তাদের জায়গায় সুযোগ পেতে পারেন নাঈম শেখ ও শামীম পাটোয়ারী, যারা দ্বিতীয় ওয়ানডের আগে দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছিলেন। অন্যদিকে পেস আক্রমণে পরিবর্তন আসতে পারে তানজিম সাকিবের জায়গায়, যেখানে বিকল্প হিসেবে বিবেচনায় আছেন অভিজ্ঞ তাসকিন আহমেদ অথবা তরুণ নাহিদ রানা।

আবুধাবির উইকেট বরাবরই ধীরগতির। তাই স্পিনাররাই এখানে মূল অস্ত্র। বাংলাদেশ অধিনায়ক মিরাজের সঙ্গে স্পিন আক্রমণে থাকবেন রিশাদ হোসেন ও তানভীর ইসলাম। গত দুই ম্যাচে এই বোলাররাই ছিলেন বাংলাদেশের প্রধান ভরসা। আফগানদের কম রানে আটকে রাখার পেছনে তাদেরই অবদান সবচেয়ে বড়। ফিল্ডাররাও ছিলেন গতিময় ও মনোযোগী, তবে দলের ভারসাম্য রক্ষায় এখন প্রয়োজন ব্যাটারদের অবদান। কারণ, ভালো বোলিংয়ের সুফল কেবল তখনই আসে যখন ব্যাটাররা যথেষ্ট রান স্কোরবোর্ডে তুলতে পারেন।

অন্যদিকে আফগানিস্তান দল এখন আত্মবিশ্বাসে টইটম্বুর। রশিদ খান দ্বিতীয় ওয়ানডেতে পেয়েছেন ফাইফার—বাংলাদেশি ব্যাটারদের বিপক্ষে যেন বিষাক্ত ঘূর্ণি ছুড়েছেন তিনি। তরুণ অলরাউন্ডার আজমতউল্লাহ ওমরজাইও দুই ম্যাচেই ছিলেন অসাধারণ। এই দুইজনের বোলিংয়ের সামনে বাংলাদেশের ব্যাটাররা ছিলেন পুরোপুরি বিব্রত। আজও তাদের মোকাবিলা করতে হবে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপকে, যা দলের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করবে নিশ্চিতভাবেই।

আফগানিস্তানের একাদশেও পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। ইনজুরির কারণে নিয়মিত ব্যাটার রহমত শাহ আজ মাঠে নামতে পারবেন না। তার জায়গায় সুযোগ পেতে পারেন তরুণ ব্যাটার দারুইশ রাসুলি। টানা দুই ম্যাচে উইকেটশূন্য থাকা পেসার বশির আহমেদের জায়গায় দেখা যেতে পারে আব্দুল্লাহ আহমেদজাই অথবা বিলাল সামিকে। তবে সামগ্রিকভাবে আফগান দল পরিবর্তনে আগ্রহী নয়। তারা চাইছে এই সফল কম্বিনেশন ধরে রেখে বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো হোয়াইটওয়াশের কৃতিত্ব অর্জন করতে।

বাংলাদেশের জন্য এই ম্যাচ কেবল একটি পরিসংখ্যান নয়—এটি আত্মসম্মান রক্ষার লড়াই। কারণ, আফগানিস্তানের বিপক্ষে পরপর তিনটি সিরিজ হারের পর এবারও যদি হোয়াইটওয়াশ হয়, তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের আগে দলের মনোবল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ঘরের মাঠে সেই চাপ কাটানো কঠিন হবে মেহেদি মিরাজের দলের জন্য।

বোলারদের ধারাবাহিক পারফরম্যান্স, স্পিনারদের নির্ভরযোগ্যতা এবং ফিল্ডিংয়ে উন্নতি—সবকিছুই আছে বাংলাদেশের খেলায়। কিন্তু ব্যাটিংয়ে পরিকল্পনার অভাব ও দায়িত্বজ্ঞানহীন শট নির্বাচন দলকে বিপদে ফেলছে বারবার। আজকের ম্যাচে তাই ব্যাটারদের জন্য রয়েছে বড় পরীক্ষা। তাদেরই ব্যাটে ভর করে নির্ধারিত হবে, বাংলাদেশ হোয়াইটওয়াশের লজ্জা এড়াতে পারে কিনা।

অন্যদিকে আফগানিস্তানের লক্ষ্যও স্পষ্ট—প্রথমবারের মতো বাংলাদেশকে ক্লিন সুইপ করে নিজেদের আত্মবিশ্বাস ও র‌্যাংকিং উভয়ই শক্তিশালী করা। কারণ, ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে সরাসরি জায়গা পেতে এই সিরিজে জয় তাদের জন্য বাড়তি প্রণোদনা হিসেবে কাজ করবে।

আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হবে দুই দলের এই মর্যাদার লড়াই। বাংলাদেশ নামবে বাঁচা-মরার মিশনে, আর আফগানিস্তান চাইবে ইতিহাস গড়তে। শেষ পর্যন্ত কারা হাসবে শেষ হাসি—তা সময়ই বলে দেবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com