চাকসুতে বিএনপির অতিউৎসাহী নেতার কারণে ছাত্রদলের বিশাল হ্রাস

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৫৪ বার
চাকসুতে বিএনপির অতিউৎসাহী নেতার কারণে ছাত্রদলের বিশাল হ্রাস

প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন 

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচনে ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থীরা তীব্র হেরে গিয়েছে। ২৬টি পদে প্রায় ২৫টি পদে তারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে ব্যর্থ হয়েছে। এই ভরাডুবি বিশ্ববিদ্যালয় রাজনীতিতে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেক বিশ্লেষক, সাবেক ছাত্রদল নেতা এবং রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা এ ঘটনায় দায়ী করেছেন বিএনপির হাটহাজারী এলাকার এক কেন্দ্রীয় নেতাকে।

অভিযোগ রয়েছে, এই নেতা প্যানেল গঠন প্রক্রিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে ত্যাগ ও অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করা নেতাদের বাদ দিয়ে একক সিদ্ধান্তে প্রার্থীদের তালিকা সাজিয়েছেন। নির্বাচনের দিন সকাল থেকেই তিনি ছাত্রদল নেতাকর্মীদের বিভিন্ন অভিযোগ দেওয়ার নির্দেশ দেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন ও ভোটারদের ওপর চড়াও হওয়ার উসকানি দেন। এই উসকানির কারণে ক্যাম্পাসের বাইরে পুলিশ ও ছাত্রদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সব ঘটনা তিনি নিজেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করেছেন এবং দায় চাপিয়েছেন প্রতিদ্বন্দ্বী দলের নেতাকর্মীদের ওপর।

বিএনপির হাটহাজারীর এক কেন্দ্রীয় নেতার প্রভাবেই ছাত্রদল প্রার্থীদের তালিকায় বাদ পড়েছে অনেক ত্যাগী ও অভিজ্ঞ নেতা। নির্বাচনী কমিটিতেও এই নেতাদের কোনো ভূমিকা রাখা হয়নি। বিপরীতে শিক্ষার্থীদের কাছে অপরিচিত নতুন প্রার্থীদের ভোটের মাঠে পাঠানো হয়েছে। ফলে, ভোটারদের মধ্যে প্যানেলের পরিচিতি কম থাকার কারণে ছাত্রদল প্রার্থীরা প্রার্থনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সফল হতে পারেনি।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এক সূত্র জানান, ছাত্রদল প্রার্থীদের তালিকা গঠনের সময় মহানগর ও উত্তর জেলা বিএনপির প্রভাব এবং গ্রুপিং সমন্বয় ঠিকমতো হয়নি। ফলে ছাত্রদল বিভক্ত হয়ে পড়েছে এবং নির্বাচনী প্রচারণায় পুরোপুরি অংশগ্রহণ করতে পারেনি। এর পাশাপাশি শিবির প্রার্থীরা দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে ক্যাম্পাসে বিভিন্ন ছদ্মবেশে অবস্থান করে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মিশে থাকার কারণে ভোটারের কাছে পরিচিতি বেশি পেয়েছে। ছাত্রদল প্রার্থীরা ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে না পারায় তারা ভোটারদের মন জয় করতে ব্যর্থ হয়েছে।

এই নির্বাচনীয় পরিস্থিতি দেখিয়ে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিএনপির অতিউৎসাহী নেতা এবং প্যানেল গঠনের একক সিদ্ধান্ত ছাত্রদলের জন্য ক্ষতিকর প্রমাণিত হয়েছে। ছাত্রদলের অভিজ্ঞ নেতা এবং সুসংগঠিত প্রচারণার অভাব প্রার্থীদের বিশাল পরাজয়ের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।

ভোটের দিন সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ও সামাজিক মাধ্যমে উত্তেজনা লক্ষ্য করা গেছে। প্রশাসন এবং নির্বাচন কমিশন যথাযথভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারলেও ছাত্রদলের নেতিবাচক অভ্যন্তরীণ কর্মকাণ্ড সাধারণ ভোটারদের মধ্যে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করেছে। ফলে নির্বাচনের ফলাফলে ছাত্রদলের প্রার্থীরা প্রার্থিত সাফল্য অর্জন করতে পারেনি।

চাকসু নির্বাচনের এই ভরাডুবি ভবিষ্যতে ছাত্রদলকে তার অভ্যন্তরীণ কৌশল পুনঃমূল্যায়ন ও নতুন নেতৃত্ব গঠনে উদ্যোগী হওয়ার প্রয়োজনীয়তা দেখিয়ে দিয়েছে। একই সঙ্গে, বিএনপি প্রভাবিত নেতা ও প্যানেল গঠন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হলে শিক্ষার্থী রাজনীতিতে বিভাজন এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতার ক্ষেত্রে ফলাফল অপ্রত্যাশিত হতে পারে।

এই নির্বাচনী ব্যর্থতা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। সাবেক নেতা ও শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন পোস্টে ছাত্রদলের প্যানেল গঠনের ত্রুটি এবং নেতাদের দায়িত্বহীন আচরণকে কঠোর সমালোচনা করেছেন। একাধিক বিশ্লেষক মনে করেন, শুধুমাত্র পরিচিত প্রার্থীদের নির্বাচন জমায়েত করা হলেও নেতা ও সমর্থকরা নির্বাচনী মাঠে সক্রিয়ভাবে অংশ না নিলে ফলাফল প্রভাবিত হয়।

চাকসু নির্বাচনে প্রার্থীদের বিশাল ভরাডুবি শিক্ষার্থীদের মাঝে রাজনৈতিক সচেতনতা এবং নেতৃত্বের দায়বদ্ধতা নিয়ে নতুন আলোচনার দরজা খুলেছে। ছাত্রদলের জন্য এটি একটি সতর্কবার্তা, যা তাদেরকে ভবিষ্যতে কৌশলগতভাবে পরিকল্পনা করতে এবং অভ্যন্তরীণ একতার গুরুত্ব বুঝতে প্ররোচিত করবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com