নির্বাচন কমিশন ন্যূনতম সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের জন্য পারঙ্গম নয়: সামান্তা

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৯২ বার
নির্বাচন কমিশন ন্যূনতম সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের জন্য পারঙ্গম নয়: সামান্তা

প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক। একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন রোববার এক গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্যে জানিয়েছেন যে, বর্তমান নির্বাচন কমিশন (ইসি) ন্যূনতম সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের জন্যও সক্ষম নয়। তিনি বলেন, কমিশন ইতিমধ্যেই দ্বিদলীয় রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে তার নিরপেক্ষতা হারিয়েছে, যা জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের পথে একটি বড় ব্যাঘাত। সামান্তার এই মন্তব্য আসে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) সম্প্রতি দেওয়া বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে, যেখানে তিনি বলেন যে, ‘কনসেনশাস ছাড়া কোনো সিদ্ধান্ত নেন না’।

সামান্তা শারমিন সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, ‘‘কমিটির মধ্যে কনসেনশাস থাকলেও কীভাবে তারা জাতীয় ঐকমত্যকে পাশ কাটিয়ে গিয়ে নিজস্ব সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, তা আমাদের বোধগম্য নয়। নির্বাচন কমিশন যখন দ্বিদলীয় প্রভাবের অধীনে চলে আসে, তখন সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের সম্ভাবনা শূন্যের কোণায় চলে যায়।’’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘‘নাগরিক ঐক্য দল হিসেবে শাপলা প্রতীক পাওয়ার জন্য যথেষ্ট কমিটমেন্ট দেখানো হয়নি। ১৫ দিন আগের কোনো মিটিংকে আলোচনায় তোলা মানে নিজেদের দুর্বলতাকে ঢাকার জন্য অন্য কোনো পক্ষের ওপর চাপানো।’’

এনসিপি নেত্রী বলেছিলেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইসির পদক্ষেপে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। ‘‘নির্বাচন শুধু ভোটের প্রক্রিয়া নয়, এটি দেশের গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতার পরীক্ষা। যখন কমিশন দ্বিদলীয় প্রভাবের শিকার হয়, তখন ভোটাররা ন্যায়বিচারের প্রতি আস্থা হারাতে শুরু করে, যা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে অস্থির করে তোলে,’’ তিনি মন্তব্য করেন।

সামান্তা শারমিন আরও বলেন, ‘‘আমরা এখনও ইসি থেকে কোনো অফিসিয়াল যোগাযোগ পাইনি। শাপলা প্রতীক বরাদ্দের প্রক্রিয়া চলছে বলে শুনেছি। আশা করি, শীঘ্রই কমিশন আমাদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করবে।’’ তিনি উল্লেখ করেন, এই প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা জনগণের অধিকার এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সামান্তার এই মন্তব্য ইসির ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করতে পারে। একজন বিশ্লেষক বলেন, ‘‘যদি নির্বাচনী কমিশন দ্বিদলীয় প্রভাবের শিকার হয় এবং তার কার্যক্রমে স্বচ্ছতা না থাকে, তবে তা আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে সংশয় তৈরি করবে।’’ সামান্তা শারমিনের এই অবস্থান একটি রাজনৈতিক সংকেত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য ইসির স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার আহ্বান।

সামান্তা শারমিনের বক্তব্যের আরও একটি দিক হলো, বর্তমান নির্বাচন প্রক্রিয়ায় ন্যূনতম সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা না হলে তা শুধু রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেই নয়, সাধারণ জনগণের মধ্যে প্রতিকূল প্রভাব ফেলবে। ‘‘নির্বাচন যদি স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য না হয়, তাহলে জনগণের মধ্যে হতাশা এবং রাজনৈতিক অবিশ্বাস বৃদ্ধি পাবে। এটি দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠাকে দুর্বল করে,’’ তিনি বলেন।

তিনি আরও বলেন, ‘‘নাগরিক ঐক্য এবং অন্যান্য দলগুলো যখন শাপলা প্রতীক প্রাপ্তির জন্য কমিশনের সঙ্গে কমিটমেন্টে যায়, তখন তা একটি রাজনৈতিক দায়িত্ব এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার প্রতীক। কিন্তু কমিশন যদি দ্বিদলীয় প্রভাবের কারণে নিরপেক্ষ না থাকে, তাহলে এই প্রক্রিয়া জনগণের চোখে মানহীন হয়ে যায়।’’ সামান্তা আরও বলেন যে, এই ধরনের পরিস্থিতি দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং ভোটারদের আত্মবিশ্বাস নষ্ট করে।

এনসিপি নেত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং গণতান্ত্রিক সংস্কার নিশ্চিত করতে ইসির নিরপেক্ষতা অপরিহার্য। ‘‘আমরা চাই ইসি যেন এমনভাবে কাজ করে, যা জনগণের আস্থা বৃদ্ধি করে, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমন্বয় ও সহযোগিতা গড়ে তোলে এবং একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন প্রক্রিয়া নিশ্চিত করে।’’

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সামান্তার এই মন্তব্য শুধু কমিশনের নৈতিক দায়িত্ব স্মরণ করানো নয়, এটি রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমন্বয় এবং জনগণের আস্থা পুনঃস্থাপনের আহ্বান। ‘‘যদি নির্বাচন কমিশন যথাযথভাবে কাজ না করে, তবে তা শুধু নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নয়, দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাতেও বড় ধাক্কা হিসেবে প্রভাব ফেলবে।’’

এনসিপি প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনুসের সঙ্গে আলোচনার জন্য সামান্তা শারমিন একটি প্রতিনিধি দল পাঠিয়েছেন। এই প্রতিনিধি দলে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নেতৃবৃন্দও রয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই প্রতিনিধি দলের পদক্ষেপ ভবিষ্যতে ইসির সঙ্গে এনসিপির সম্পর্ককে একটি নতুন মাত্রা দিতে পারে।

সামান্তা শারমিনের এই মন্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। বর্তমান সময়ে নির্বাচন কমিশনকে সর্বজনীন আস্থা অর্জনের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। ‘‘যদি নির্বাচন কমিশন জনগণের আস্থা অর্জন করতে ব্যর্থ হয়, তবে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বিপন্ন হবে এবং রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা বৃদ্ধি পাবে।’’

সর্বশেষ, সামান্তা শারমিন উল্লেখ করেন যে, এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে সহযোগিতা করতে হবে এবং নির্বাচন কমিশনের প্রতি নাগরিকদের আস্থা পুনঃস্থাপন করা জরুরি। ‘‘আমরা চাই, একটি ন্যায্য, গ্রহণযোগ্য ও স্বচ্ছ নির্বাচন আয়োজন করা হোক, যা দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করবে এবং জনগণের ভোটাধিকারকে নিশ্চিত করবে।’’

সামান্তা শারমিনের এই বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে পৌঁছেছে এবং এটি একটি মানবিক ও রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে গণ্য হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক নেতাদের জন্য গুরুত্ববহ। এই মন্তব্য ইসির দায়িত্বশীলতা ও স্বচ্ছতা পুনঃস্থাপনের প্রয়োজনীয়তা পুনর্ব্যক্ত করছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত