সর্বশেষ :
আইপিএল ফাইনালে মুখোমুখি আরসিবি-গুজরাত পিএসজির শিরোপা অক্ষুণ্ণ, আর্সেনালের টাইব্রেকার দুঃখ ইরান যুদ্ধের সুবর্ণ সুযোগে তুরস্কে এরদোয়ানের ক্ষমতা সুসংহতকরণের গল্প চীনের আপত্তি উপেক্ষা করে সামরিক শক্তি বাড়ানোর ঘোষণা জাপানের ইউরোপসেরা পিএসজির শিরোপা উদযাপনে ফ্রান্সে রণক্ষেত্র দেশে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি নির্মূলে কঠোর বার্তা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জামায়াত-এনসিপির অর্থের উৎস নিয়ে রাশেদ খাঁনের তীক্ষ্ণ কটাক্ষ ২৫ কোটি টাকা ‘নিয়ে যাওয়ার’ অভিযোগে মুখ খুললেন আসিফ মাহমুদ জেলা প্রশাসকের কাছে ১০ কোটি টাকার ব্যাখ্যা চাইলেন হাসনাত আব্দুল্লাহ বিশ্বে বায়ুদূষণের শীর্ষে কিনসাসা, ঢাকার বাতাস এখনো অস্বাস্থ্যকর

সংরক্ষিত আসনে সংসদে যেতে চান অভিনেত্রী রিনা খান

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৫২ বার
সংরক্ষিত আসনে সংসদে যেতে চান অভিনেত্রী রিনা খান

প্রকাশ: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

শেষ হয়েছে জাতীয় নির্বাচনের ভোটের মাঠের প্রচারণা। নির্বাচনী উত্তাপের মধ্য দিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। এবারের নির্বাচনী প্রচারণায় শোবিজ অঙ্গনের তারকাদের উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে কম চোখে পড়লেও বিএনপির পক্ষে মাঠে নামতে দেখা গেছে দলটির সমর্থিত শিল্পীদের একটি অংশকে। বিশেষ করে বিএনপির চেয়ারপারসন তারেক রহমানের পক্ষে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চেয়ে সরব ছিলেন কয়েকজন সাংস্কৃতিক অঙ্গনের পরিচিত মুখ। তাদের মধ্যেই আলোচনায় এসেছেন একসময়ের জনপ্রিয় খল-অভিনেত্রী রিনা খান।

ঢাকা-১৭ আসনে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়ে রিনা খান প্রকাশ্যে জানিয়েছেন, তিনি আসন্ন নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে এমপি হতে আগ্রহী। প্রচারণার ফাঁকে দেওয়া বক্তব্যে এই অভিনেত্রী বলেন, গত ১৭ বছরে বিএনপি সমর্থিত বহু শিল্পীই দেশে স্বাভাবিকভাবে কাজ করার সুযোগ পাননি। কেউ দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন, কেউ আবার থেকে গেছেন নানা চাপ ও নির্যাতনের মুখে। তার দাবি অনুযায়ী, তিনি নিজেও সেই ভুক্তভোগীদের একজন। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি সংরক্ষিত আসনে সংসদ সদস্য হয়ে সাংস্কৃতিক অঙ্গন ও রাজনৈতিক বাস্তবতার কথা সংসদে তুলে ধরতে চান।

রিনা খান একসময় চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনের পর্দায় খল চরিত্রে দাপটের সঙ্গে অভিনয় করে দর্শকদের নজর কাড়েন। তার অভিনীত চরিত্রগুলো জনপ্রিয়তা পেয়েছে এবং তিনি নিজেকে একজন শক্তিশালী পার্শ্বচরিত্রের অভিনেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। বাংলাদেশ টেলিভিশনের নিবন্ধিত শিল্পী হয়েও দীর্ঘদিন নিয়মিত কাজের বাইরে থাকতে হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। তার ভাষায়, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণেই তাকে পেশাগত জীবনে নানা বাধার মুখোমুখি হতে হয়েছে।

এই অভিনেত্রীর দাবি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে তিনি দীর্ঘদিন ধরে নানামুখী চাপের মধ্যে ছিলেন। কাজ না পাওয়া, সামাজিক ও পেশাগতভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়া—সব মিলিয়ে তার ক্যারিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মনে করেন তিনি। রিনা খানের মতে, এটি শুধু তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা নয়; বরং বিএনপি-সমর্থিত অনেক শিল্পীরই একই রকম বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়েছে।

রাজনীতির সঙ্গে রিনা খানের সম্পৃক্ততা নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি বিএনপির সহযোগী সাংস্কৃতিক সংগঠন জিয়া সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত। বর্তমানে তিনি সংগঠনটির সিনিয়র সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। দলীয় কর্মসূচি, সভা-সমাবেশ ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আয়োজনে নিয়মিত অংশ নিতে দেখা যায় তাকে। দলীয় রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার সুবাদেই তিনি মনে করেন, সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা তার রয়েছে।

ঢাকা-১৭ আসনে প্রচারণার সময় রিনা খান বলেন, তিনি কোনো সরাসরি নির্বাচনী আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন না, তবে দলের প্রতি দীর্ঘদিনের আনুগত্য ও ত্যাগের স্বীকৃতি হিসেবে সংরক্ষিত আসনে একটি সিট পাওয়ার প্রত্যাশা রাখেন। তার মতে, সংরক্ষিত নারী আসন শুধু রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের জন্য নয়, বরং সমাজের বিভিন্ন পেশার নারীদের কণ্ঠ সংসদে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। একজন শিল্পী হিসেবে তিনি সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সমস্যা, শিল্পীদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিয়ে সংসদে কথা বলতে চান।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের সময় ও পরবর্তী সময়ে শোবিজ অঙ্গনের ব্যক্তিত্বদের এমন বক্তব্য নতুন কিছু নয়। অতীতেও দেখা গেছে, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত শিল্পীরা নির্বাচনী প্রচারণায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন এবং পরবর্তীতে সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন। তবে বিষয়টি শেষ পর্যন্ত নির্ভর করে দলের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত, রাজনৈতিক সমীকরণ এবং নেতৃত্বের কৌশলের ওপর।

রিনা খানের বক্তব্য ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ তার রাজনৈতিক অবস্থানকে সমর্থন করছেন, কেউ আবার শিল্পী ও রাজনীতির মিশ্রণ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। তবে তার সমর্থকদের দাবি, দীর্ঘদিন রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে বঞ্চিত থাকার পর তিনি ন্যায্যভাবেই প্রতিনিধিত্বের সুযোগ চাইতে পারেন। অন্যদিকে সমালোচকদের একটি অংশ মনে করেন, সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নের ক্ষেত্রে যোগ্যতা ও সামাজিক অবদানই হওয়া উচিত প্রধান বিবেচ্য বিষয়।

এদিকে বিএনপির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। দলটির দায়িত্বশীল নেতারা সাধারণত এ ধরনের মনোনয়ন প্রসঙ্গে নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলে থাকেন। ফলে রিনা খান শেষ পর্যন্ত সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন পাবেন কিনা, তা এখনো অনিশ্চিত।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে সংরক্ষিত নারী আসনের ভূমিকা বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ। এসব আসনের মাধ্যমে সংসদে নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয় এবং বিভিন্ন পেশা ও শ্রেণির নারীরা প্রতিনিধিত্বের সুযোগ পান। সাংস্কৃতিক অঙ্গনের কাউকে এই আসনে মনোনয়ন দেওয়া হলে শিল্পী সমাজের নানা সমস্যা সংসদে উঠে আসতে পারে—এমন প্রত্যাশাও রয়েছে অনেকের।

সব মিলিয়ে, ভোটের মাঠের প্রচারণা শেষে অভিনেত্রী রিনা খানের এই প্রত্যাশা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা যোগ করেছে। একজন শিল্পী থেকে রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করা এবং সংসদে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ—এটি তার ব্যক্তিগত জীবনের পাশাপাশি দেশের রাজনীতিতেও একটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হয়ে উঠেছে। নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতায় তিনি সত্যিই সংরক্ষিত আসনে সংসদ সদস্য হতে পারেন কিনা, সেটিই এখন দেখার অপেক্ষা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত