প্রকাশ: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এক কোটিরও বেশি প্রবাসী বাংলাদেশি বসবাস করছেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ এবং অন্যান্য দেশের মধ্যে ব্যবসায়িক লেনদেনও প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিদেশি মুদ্রা বিনিময় দেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশেষ করে প্রবাসী আয় ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক লেনদেন দেশীয় বাজারে বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা ও সরবরাহের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে বিভিন্ন বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেনের হার প্রকাশিত হয়েছে।
মঙ্গলবারের হারের পর ইউএস ডলার এখন ক্রয়মূল্যে ১২১.৭০ টাকা এবং বিক্রয়মূল্যে ১২২.৭০ টাকায় লেনদেন হচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইওরো ক্রয়মূল্যে ১৪১.৪৫ টাকা এবং বিক্রয়মূল্যে ১৪৬.৩১ টাকায় লেনদেন হচ্ছে। ব্রিটিশ পাউন্ড ক্রয়মূল্যে ১৬২.২৫ টাকা এবং বিক্রয়মূল্যে ১৬৭.৩৫ টাকায় লেনদেন হচ্ছে। জাপানি ইয়েনের ক্ষেত্রে ক্রয়মূল্যে ০.৭৮ টাকা এবং বিক্রয়মূল্যে ০.৮০ টাকায় লেনদেন হচ্ছে।
অন্যদিকে সিঙ্গাপুর ডলার ক্রয়মূল্যে ৯৫.৬২ টাকা এবং বিক্রয়মূল্যে ৯৭.২৩ টাকায় লেনদেন হচ্ছে। আমিরাতি দিরহাম ক্রয়মূল্যে ৩৩.১৩ টাকা এবং বিক্রয়মূল্যে ৩৩.৪১ টাকায় লেনদেন হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ান ডলার ক্রয়মূল্যে ৮৫.৩২ টাকা এবং বিক্রয়মূল্যে ৮৭.৩০ টাকায় লেনদেন হচ্ছে। সুইস ফ্রাঙ্ক ক্রয়মূল্যে ১৫৫.৩৯ টাকা এবং বিক্রয়মূল্যে ১৫৬.৫৮ টাকায় লেনদেন হচ্ছে।
আজ চীনা ইয়ুয়ান ক্রয়মূল্যে ১৭.৫৪ টাকা এবং বিক্রয়মূল্যে ১৭.৩০ টাকায় লেনদেন হচ্ছে। হিন্দুস্তানি রুপির ক্রয়মূল্যে ১.৩৩ টাকা এবং বিক্রয়মূল্যে ১.৩৬ টাকায় লেনদেন হচ্ছে।
নিশ্চয়ই! আপনার প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী মুদ্রার ক্রয়-বিক্রয় হার সহ একটি সুন্দর টেবিল তৈরি করা হলো:
| মুদ্রা | ক্রয় (টাকা) | বিক্রয় (টাকা) |
|---|---|---|
| ইউএস ডলার | 121.70 | 122.70 |
| ইউরোপীয় ইউরো | 141.45 | 146.31 |
| ব্রিটিশ পাউন্ড | 162.25 | 167.35 |
| জাপানি ইয়েন | 0.78 | 0.80 |
| সিঙ্গাপুর ডলার | 95.62 | 97.23 |
| আমিরাতি দিরহাম | 33.13 | 33.41 |
| অস্ট্রেলিয়ান ডলার | 85.32 | 87.30 |
| সুইস ফ্রাঙ্ক | 155.39 | 156.58 |
| চাইনিজ ইউয়ান | 17.54 | 17.30 |
| হিন্দুস্তানি রুপি | 1.33 | 1.36 |
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক মুদ্রার মূল্য দেশের অর্থনীতিতে সরাসরি প্রভাব ফেলে। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক লেনদেন, ও বৈদেশিক বিনিয়োগ বাজারে মুদ্রার সরবরাহ ও চাহিদা বাড়ায়। ফলে ক্রয়-বিক্রয় হারে সামান্য ওঠানামা দেশীয় ব্যবসায়িক কার্যক্রম ও আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমকে প্রভাবিত করে।
তাছাড়া, আন্তর্জাতিক মুদ্রার বাজারে ওঠাপড়া সাপেক্ষে দেশের ব্যাংকিং খাতও নিজের বৈদেশিক মুদ্রার ব্যবস্থাপনা সামঞ্জস্য রাখে। এতে সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী ও প্রবাসী বাংলাদেশীর লেনদেন সুবিধাজনক হয়। বিশেষ করে প্রবাসী রেমিট্যান্স দেশে পৌঁছানো এবং ব্যবসায়িক লেনদেনে সমন্বয় রাখা সহজ হয়।
বিশেষজ্ঞরা আরও জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে ডলার, ইউরো ও অন্যান্য মুদ্রার দাম ওঠানামার সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোও ক্রয়-বিক্রয় হার সমন্বয় করে। এতে লেনদেনকারীদের জন্য ঝুঁকি কমে আসে এবং দেশীয় অর্থনীতি স্থিতিশীল থাকে।
আজকের এই মুদ্রার বিনিময় হারের তালিকা ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে রেমিট্যান্স পাঠানো, আমদানি-রপ্তানি লেনদেন এবং অন্যান্য আর্থিক কার্যক্রমে সহায়ক হবে। সরকারের নীতিমালা ও ব্যাংকিং নিয়ন্ত্রণের ফলে বৈদেশিক মুদ্রার বাজার নিয়ন্ত্রিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে। ফলে ব্যবসায়িক কার্যক্রমের নির্ভরযোগ্যতা বাড়ছে।
বাংলাদেশে প্রবাসী ও আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক লেনদেন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই ব্যাংক এবং অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বাজার পর্যবেক্ষণ করে নিয়মিত হারের পরিবর্তন সম্পর্কে জনগণকে জানাচ্ছেন। এর ফলে সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী ও প্রবাসীরা সঠিক সময়ে মুদ্রা বিনিময় করতে পারেন।
এভাবে দেশের অর্থনীতির গতিশীলতা বজায় রাখা, ব্যবসায়িক কার্যক্রম সহজ করা এবং আন্তর্জাতিক লেনদেনের সুবিধা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে।