প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বাংলাদেশের বিনিয়োগ খাত এখন স্থবির বৃত্তে প্রবেশ করেছে। উচ্চ সুদের হার, জ্বালানির অনিশ্চয়তা, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ব্যবসা পরিচালনায় ব্যয় বৃদ্ধির কারণে দেশের অর্থনীতিতে সতর্কসংকেত দেখা দিয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, বিনিয়োগের এই মন্দা সরকারকে রাজস্ব আয়ের ঘাটতি মোকাবিলায় আরও চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি করবে।
বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মূল আকর্ষণ কেবল কম মূল্যের শ্রম নয়। তবে বর্তমানে মূল্যস্ফীতি, জ্বালানি ও পরিবহন খরচ, আমদানি-রফতানি বিধি, ডলারের বাজার ওঠানামা এবং ব্যবসায় কর কাঠামোর জটিলতা বিনিয়োগকারীদের জন্য বাধা সৃষ্টি করছে। ভিয়েতনাম ও ভারতীয় তুলনায় বাংলাদেশে ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় বেশি। উচ্চ সুদের হার এবং অপর্যাপ্ত লজিস্টিক ব্যবস্থা শিল্পক্ষেত্রে প্রতিযোগিতার হার কমাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনও লুব্রিক্যান্টসের পরিচালক সালাউদ্দিন ইউসুফ।
বছরের মধ্যে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও আইনশৃঙ্খলা সংকটের প্রভাব বিনিয়োগে স্পষ্ট দেখা দিয়েছে। পুঁজিবাজারে বিদেশি বিনিয়োগ কমে গেছে ২৭০ কোটি টাকা। দেশের শীর্ষ দশ কোম্পানির ছয়টিতে বিদেশি বিনিয়োগ কমেছে। বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অথরিটিতে (বিডায়) নিবন্ধিত দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ প্রস্তাব কমে গেছে ৫৮ শতাংশ। এক বছরে ১৮২টি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়েছে। এই পরিস্থিতি কর্মসংস্থানের বাজার এবং রাজস্ব খাতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
আইবিএফবির প্রেসিডেন্ট লুৎফুন্নেসা সৌদিয়া খান বলেন, ‘সরকারকে কর আদায়ে সুবিধাজনক পরিবেশ দিতে হবে, তাহলে ব্যবসায়ীরা স্বাচ্ছন্দ্যে কর প্রদান করতে পারবে। উচ্চ ব্যয় এবং সীমিত সুবিধা বিনিয়োগের জন্য বাধা সৃষ্টি করছে।’
রাজস্ব ঘাটতি ও ব্যবসায়ী মন্দা মিলিত হয়ে নতুন সরকারের জন্য জটিল পরিস্থিতি তৈরি করছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আল-আমিন মন্তব্য করেছেন, ‘ব্যবসার খরচ বাড়লে কর দেওয়া কষ্টকর হবে। রাজস্ব আয়ের কালেকশন কমে যাবে, ঋণ নির্ভরতা বৃদ্ধি পাবে এবং ব্যাংকিং সেক্টরের ভারসাম্য হ্রাস পাবে।’
অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, শুধুমাত্র পোশাক খাত এবং রেমিটেন্সের ওপর নির্ভরশীলতা প্রবৃদ্ধির জন্য যথেষ্ট নয়। রফতানি পণ্যের বৈচিত্র্য বৃদ্ধির মাধ্যমে অর্থনীতি স্থিতিশীল রাখা যেতে পারে। দেশের বিনিয়োগ কাঠামোতে পুনর্গঠন এবং ব্যয় হ্রাসে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে অর্থনীতি আরও ধীরগতি হতে পারে।
এ অবস্থায় সরকারকে বিনিয়োগ প্রক্রিয়া সহজীকরণ, কর কাঠামোর স্বচ্ছতা, জ্বালানি ও পরিবহন খাতের উন্নতি, এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হবে। বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে এসব পদক্ষেপ অপরিহার্য বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
উচ্চ সুদ, জ্বালানি সংকট, রাজস্ব ঘাটতি এবং ব্যয় বৃদ্ধির সংযোগ দেশের বিনিয়োগ পরিবেশকে কঠিন করে তুলেছে। তবে সময়মতো সঠিক নীতি গ্রহণের মাধ্যমে এই ধীরগতি প্রতিহত করা সম্ভব বলে বিশেষজ্ঞরা আশা করছেন।