সর্বশেষ :
আইপিএল ফাইনালে মুখোমুখি আরসিবি-গুজরাত পিএসজির শিরোপা অক্ষুণ্ণ, আর্সেনালের টাইব্রেকার দুঃখ ইরান যুদ্ধের সুবর্ণ সুযোগে তুরস্কে এরদোয়ানের ক্ষমতা সুসংহতকরণের গল্প চীনের আপত্তি উপেক্ষা করে সামরিক শক্তি বাড়ানোর ঘোষণা জাপানের ইউরোপসেরা পিএসজির শিরোপা উদযাপনে ফ্রান্সে রণক্ষেত্র দেশে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি নির্মূলে কঠোর বার্তা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জামায়াত-এনসিপির অর্থের উৎস নিয়ে রাশেদ খাঁনের তীক্ষ্ণ কটাক্ষ ২৫ কোটি টাকা ‘নিয়ে যাওয়ার’ অভিযোগে মুখ খুললেন আসিফ মাহমুদ জেলা প্রশাসকের কাছে ১০ কোটি টাকার ব্যাখ্যা চাইলেন হাসনাত আব্দুল্লাহ বিশ্বে বায়ুদূষণের শীর্ষে কিনসাসা, ঢাকার বাতাস এখনো অস্বাস্থ্যকর

শ্রেয়া ঘোষালের কড়া নীতি: লিপ-সিঙ্ক নয় কখনো

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ, ২০২৬
  • ৪৪ বার
শ্রেয়া ঘোষালের কড়া নীতি: লিপ-সিঙ্ক নয় কখনো

প্রকাশ:  ৫ মার্চ  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ভারতের জনপ্রিয় গায়িকা শ্রেয়া ঘোষাল সম্প্রতি কনসার্টে লিপ-সিঙ্ক নিয়ে তার অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন। মঞ্চে দাঁড়িয়ে গান না গেয়ে শুধু ঠোঁট মেলানো, যা লিপ-সিঙ্ক হিসেবে পরিচিত, তা তিনি এক ধরনের অলসতার প্রকাশ বলেই মনে করেন। দীর্ঘদিন ধরে দর্শক ও শ্রোতারা এই বিষয়ে সমালোচনা করে আসছেন, এবং এবার সেই সমালোচনার প্রতিফলন স্বরূপ নিজের মতামত প্রকাশ করেছেন শ্রেয়া।

একটি পডকাস্টে শ্রেয়া বলেন, লিপ-সিঙ্ক করা হলো “লেজি অ্যাক্টের” প্রতীক। তিনি আরও বলেন, এটি নির্দেশ করে যে একজন শিল্পী তার শিল্পের জন্য যথেষ্ট পরিশ্রম করেননি। একজন শিল্পী হিসেবে তার নিজস্ব নীতি রয়েছে, যা তিনি কখনও অমান্য করেন না। এমন পারফরম্যান্স তিনি প্রকাশ্যে দিতে চান না যা নিজেই শুনতে অস্বস্তি বোধ করবেন। শ্রেয়ার এই বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে তিনি তাঁর কনসার্ট এবং পারফরম্যান্সে সর্বদা প্রকৃত, জীবন্ত ও ন্যায়সংগতভাবে উপস্থিত থাকতে চান।

শ্রেয়া শুধু লিপ-সিঙ্কের বিরুদ্ধে নয়, গান বাছাই নিয়েও তার অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। তিনি জানিয়েছেন যে, ‘চিকনি চামেলি’-র মতো গান আর কখনোই গাইবেন না। তাঁর মতে, এসব গানে নারীদের কেবল ভোগ্যপণ্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়, যা তাকে অস্বস্তিতে ফেলে। শ্রেয়া জানান, যখন তিনি এই গান গেয়েছিলেন, তখন তার বয়স এবং অভিজ্ঞতা কম ছিল। সময়ের সঙ্গে দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তিত হওয়ায় এখন গান বাছাইয়ে তিনি অনেক বেশি সচেতন।

তিনি আরও প্রকাশ করেছেন, নিজের নীতিতে অটল থাকার কারণে অশালীন বা বিতর্কিত অনেক প্রস্তাব তিনি সরাসরি ফিরিয়ে দিয়েছেন। শ্রেয়া ঘোষালের এই বক্তব্যে বোঝা যায় যে, তিনি শুধু গায়িকা নন, বরং শিল্পী হিসেবে সমাজে নারীর মর্যাদা, শিল্পের গুণমান এবং শ্রোতাদের প্রতি দায়বদ্ধতা কেবলমাত্র শব্দের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেন না। তিনি তার কার্যকলাপ এবং পারফরম্যান্সের মাধ্যমে এই নীতিকে জীবন্ত রাখেন।

শ্রেয়ার এই অবস্থান শুধুমাত্র ব্যক্তিগত নীতি নয়, বরং বর্তমান সময়ের শিল্পী সমাজের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। বহুবার দেখা গেছে, লিপ-সিঙ্ক ও বিতর্কিত গানের কারণে পারফরম্যান্সের প্রতি দর্শকের আস্থা ক্ষুণ্ণ হয়। শ্রেয়া এই সমস্যার মুখোমুখি হয়ে তার পারফরম্যান্সকে প্রকৃত এবং জীবন্ত রাখার দিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন।

এই সিদ্ধান্ত কেবল শ্রোতাদের কাছে তার নৈতিকতা ও শিল্পের প্রতি দায়বদ্ধতার প্রমাণ দেয় না, বরং নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের জন্যও একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে। শ্রেয়া বোঝাতে চাইছেন যে, জনপ্রিয়তা অর্জনের জন্য অশালীন বা লিপ-সিঙ্কের মতো সহজ পথ বেছে নেওয়া উচিত নয়। বরং সত্যিকারের প্রতিভা, পরিশ্রম এবং নৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রেখে পারফরম্যান্স দেওয়া উচিত।

শ্রেয়া ঘোষালের এই স্পষ্ট এবং দৃঢ় অবস্থান ভারতের সংগীতাঙ্গন এবং আন্তর্জাতিক স্তরে প্রশংসিত হয়েছে। অনেক শিল্পী এবং সমালোচকই তার সাহসী মনোভাব এবং নৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রশংসা করেছেন। তিনি দেখিয়েছেন, শুধুমাত্র জনপ্রিয়তার জন্য কোনোরকম অলসতা মেনে নেওয়া ঠিক নয়, বরং শিল্পী হিসেবে নীতি এবং সততা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

শ্রেয়ার বক্তব্যে আরও উঠে এসেছে, শিল্পী হিসেবে পারফরম্যান্সের প্রতি দায়বদ্ধতা রাখা মানেই কেবল সঙ্গীত পরিবেশন নয়, বরং সমাজের প্রতি দায়িত্ব পালনও। তিনি বিশ্বাস করেন, গান বাছাই, পারফরম্যান্সের ধরন এবং শো-এর প্রতি মনোযোগ সকলেই শিল্পীর ব্যক্তিত্ব ও নৈতিকতার প্রতিফলন। এই নীতির কারণে তিনি কঠোরভাবে লিপ-সিঙ্ক এবং অশালীন গান থেকে দূরে থাকেন।

শ্রেয়া ঘোষালের এই সিদ্ধান্তের প্রভাব দর্শক ও তরুণ শিল্পীদের মধ্যে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করছে। দর্শকরা তার সততা এবং শিল্পের প্রতি দায়বদ্ধতাকে মূল্যায়ন করছেন। তিনি প্রমাণ করেছেন যে, প্রফেশনাল শিল্পী হওয়া মানে কেবল গাওয়া নয়, বরং নিজের নৈতিকতা, সংস্কৃতি এবং শিল্পের মান বজায় রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

শ্রেয়ার এই মনোভাব থেকে শিক্ষা নেওয়া যায়, শিল্পী হিসেবে সৃজনশীলতা ও নৈতিকতা একসাথে থাকা সম্ভব। শিল্পের প্রতি দায়বদ্ধতা, সমাজের প্রতি সচেতনতা এবং ব্যক্তিগত নীতি পালন করাই শ্রেয়াকে আলাদা পরিচয়ে উপস্থাপন করেছে। এই নীতির কারণে তিনি শ্রোতাদের মধ্যে বিশ্বাস ও সমাদর অর্জন করেছেন।

শ্রেয়া ঘোষালের এই কড়া বার্তা কেবল ভারতীয় সংগীতপ্রেমী দর্শককেই নয়, বরং পুরো আন্তর্জাতিক সংগীত মহলে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। তার স্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি ও নীতি অনুসরণ করে নতুন প্রজন্মের শিল্পীরা আরও সতর্ক এবং দায়িত্বশীল হয়ে উঠবে। এটি শুধু একটি ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়, বরং সংগীত জগতে নৈতিকতা, সততা এবং শিল্পের মানকে অক্ষুণ্ণ রাখার এক শক্তিশালী উদাহরণ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত