দেওভোগে ঈদে পোশাক বিক্রির ঢল, সারা দেশে যাচ্ছে পণ্য

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৬
  • ২৩ বার
দেওভোগে ঈদে পোশাক বিক্রির ঢল, সারা দেশে যাচ্ছে পণ্য

প্রকাশ: ১৪ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

নারায়ণগঞ্জের দেওভোগ এলাকা এই মুহূর্তে ঈদ-উপলক্ষে পোশাকের বাণিজ্যে প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে। শহীদ সোহরাওয়ার্দী মার্কেটসহ আশপাশের পাইকারি বাজারগুলো সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ক্রেতা–বিক্রেতার উপস্থিতিতে সরগরম। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকারিরা এখানে এসে বাহারি পোশাক কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। ঢাকার সঙ্গে সঙ্গে সিলেট, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, কুমিল্লাসহ দেশের উত্তর ও দক্ষিণ অঞ্চলের পাইকাররা দেওভোগের পোশাককে বিশেষভাবে পছন্দ করছেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবারের ঈদে সবচেয়ে বেশি চাহিদা রয়েছে আফগান ও ফারসি থ্রি-পিসের। এছাড়া ওয়াশ, জর্জেট, পপকর্ন, লুচি, গাড়ারা ও সারারা কাপড়ের পোশাকও সমানভাবে বিক্রি হচ্ছে। চীনের সিমুজি, সুতি ও টিস্যু নেট কাপড় দিয়ে তৈরি থ্রি-পিস, টু-পিস এবং লেহেঙ্গার প্রতি ক্রেতার চাহিদা তুলনামূলকভাবে বেশি। এসব পোশাকের বৈচিত্র্যময় ডিজাইন, মানসম্পন্ন কাপড় এবং সাশ্রয়ী দাম দেশজুড়ে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করছে।

মীর ফ্যাশনের সহকারী ব্যবস্থাপক মো. সোহাগ জানিয়েছেন, “এবারের ঈদে বেচাকেনা ভালোই চলছে। শিশুদের পোশাক প্রতি ডজন ৩ হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, আর ১২ থেকে ২০ বছর বয়সী কিশোরী ও তরুণীদের থ্রি-পিস প্রতি ডজন ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকায় যাচ্ছে।” তিনি আরও জানান, চাহিদা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বিক্রেতারা সম্ভাব্য ক্রেতাদের জন্য স্টকও নিশ্চিত রাখছেন।

শান্তা গার্মেন্টসের ব্যবস্থাপক নাজিম উদ্দিন জানিয়েছেন, তাঁদের দোকানে আফগান-ফারসি থ্রি-পিস এবং সুতি ফ্রকের চাহিদা অনেক বেশি। ক্রেতাদের মধ্যে অনেকে সরাসরি পাইকারি মার্কেট থেকে আসছেন, আবার অনেকে অনলাইনে অর্ডার দিয়ে পণ্য কিনছেন। শেষের কয়েক দিনে বিক্রির সংখ্যা আরও বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ময়মনসিংহের ত্রিশাল থেকে আসা কাপড় ব্যবসায়ী কাবলু মিয়া জানান, চায়না কাপড়ের ডিজাইনের পোশাক এবারের ঈদে সবচেয়ে বেশি পছন্দ করা হচ্ছে। তবে গত বছরের তুলনায় প্রতি পিসের দাম ১০০ থেকে ৩০০ টাকা বেড়েছে। কারখানামালিকরা বলছেন, পোশাক তৈরিতে ব্যবহৃত আমদানি করা কাপড়, শাটন, বোতাম, সুতা, ওড়না, ঝুমকা ও অন্যান্য উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ বেড়েছে।

দেওভোগ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুজন মাহমুদ জানিয়েছেন, স্বাধীনতার আগে থেকেই দেওভোগে পাইকারি বাজার গড়ে উঠেছে। বর্তমানে এখানে প্রায় দেড় হাজার কারখানা রয়েছে, যেখানে মূলত শিশু ও তরুণীদের পোশাক উৎপাদন হয়। পাঁচ শতাধিক শোরুম ও দোকান মিলিয়ে লক্ষাধিক মানুষ এই ব্যবসায় জড়িত। কারখানাগুলোতে শ্রমিকরা রাতভর পোশাক তৈরির কাজে ব্যস্ত থাকেন। আরশ গার্মেন্টসের শ্রমিক রুবেল জানান, “কারখানায় প্রচুর কাজ, কেউ দম ফেলার সুযোগ পাচ্ছে না। ঈদের আগে বেতন-বোনাস পাওয়ার পর আমরা কেনাকাটার পরিকল্পনা করি।”

বিক্রেতারা আশা করছেন, এবারের ঈদে দেওভোগ থেকে দেশব্যাপী ২৫০ থেকে ৩০০ কোটি টাকার পোশাক বিক্রি হতে পারে। সাধারণ সম্পাদক সুজন মাহমুদ বলেন, “গত বছর রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বেচাকেনা তেমন হয়নি। এবার পরিস্থিতি ভালো, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা আসছেন। বেচাকেনা এখন যথেষ্ট জমজমাট। আমরা আশা করছি, ২৭ রোজা পর্যন্ত বাজার ব্যস্ত থাকবে।”

ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে আসা পাইকারি ব্যবসায়ী মো. মোস্তাকিন বলেন, বেচাকেনা এখন পর্যন্ত ভালোই হয়েছে। চাকরিজীবীরা ঈদের আগে বেতন ও বোনাস পেলেই বিক্রির পরিমাণ আরও বাড়বে। কুমিল্লার হোমনা থেকে আসা পাইকার জসিম উদ্দিনও জানিয়েছেন, তিনি দুই দফায় দেওভোগ থেকে পোশাক কিনেছেন এবং চাঁদরাত পর্যন্ত বেচাকেনা চলবে বলে আশা করছেন।

দেওভোগের তৈরি পোশাক দেশের বিভিন্ন জেলার পাইকারদের কাছে আকর্ষণীয় হওয়ার প্রধান কারণ হলো বৈচিত্র্যময় ডিজাইন, মানসম্পন্ন কাপড় এবং সাশ্রয়ী মূল্য। আফগান ও ফারসি থ্রি-পিস, সুতি ফ্রক, জর্জেট ও লুচি কাপড়ের পোশাক সবচেয়ে বেশি চাহিদা পাচ্ছে। বিশেষ করে শিশু ও কিশোরী পোশাকের প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ চোখে পড়ার মতো।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, দেশের বৃহত্তম পাইকারি বাজার হিসেবে দেওভোগে পোশাক ব্যবসা ঈদকে কেন্দ্র করে নতুন প্রাণ ফিরে পায়। কারখানামালিকদের সঙ্গে সঙ্গে শ্রমিকরাও রাতভর পরিশ্রম করছেন যাতে সব পোশাক সময়মতো পাইকারদের কাছে পৌঁছানো যায়। ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, এবারের ঈদে বেচাকেনা সফল হবে এবং দেশের বাজারে দেওভোগের স্থান আরও শক্তিশালী হবে।

দেওভোগের পাইকারি বাজার শুধুমাত্র নারায়ণগঞ্জ নয়, সারা দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। দেশের বিভিন্ন জেলার পাইকাররা এখান থেকে ক্রয়কৃত পোশাক নিয়ে নিজ অঞ্চলে বিক্রির মাধ্যমে ঈদে পোশাকের চাহিদা পূরণ করছেন। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, স্থিতিশীল রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিবেশ থাকলে বেচাকেনা আরও বৃদ্ধি পাবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত