প্রকাশ: ১০ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ঈদ উপলক্ষে মুক্তি পাওয়া বহুল আলোচিত চলচ্চিত্র ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ এবার বক্স অফিসে উল্লেখযোগ্য সাফল্যের খবর নিয়ে সামনে এসেছে। মুক্তির পর থেকেই দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করা এই সিনেমাটি ১৮ দিনের মাথায় দর্শকসংখ্যা ও আয়ের দিক থেকে নতুন এক মাইলফলক অর্জন করেছে বলে জানিয়েছে প্রযোজনা সংশ্লিষ্টরা।
প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে, মুক্তির পর প্রথম ১৮ দিনেই সিনেমাটি ১ লাখেরও বেশি দর্শক প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে টিকিট কেটে উপভোগ করেছেন। সাধারণত বাংলাদেশি সিনেমার ক্ষেত্রে এ ধরনের নির্ভরযোগ্য দর্শকসংখ্যার তথ্য প্রকাশ খুব একটা দেখা যায় না। তবে এবার সিনেমাটি শুধুমাত্র দেশের মাল্টিপ্লেক্সগুলোতে মুক্তি পাওয়ায় টিকিট বিক্রির সুনির্দিষ্ট হিসাব পাওয়া সম্ভব হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
পরিচালক তানিম নূর জানিয়েছেন, দর্শকের এমন সাড়া তাদের জন্য অত্যন্ত অনুপ্রেরণাদায়ক। তার ভাষায়, একটি সিনেমা তখনই সফল হয় যখন দর্শক সেটিকে গ্রহণ করেন। তিনি বলেন, দর্শকের ভালোবাসাই তাদের সবচেয়ে বড় অর্জন এবং ভবিষ্যতে আরও ভালো কাজ করার প্রেরণা যোগাচ্ছে।
বক্স অফিস আয়ের দিক থেকেও ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে বলে জানা গেছে। প্রযোজনা সূত্র অনুযায়ী, মুক্তির ১৮ দিনের মধ্যেই সিনেমাটি ৫ কোটি টাকার বেশি আয় করেছে। ঈদের অন্যান্য মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমার তুলনায় এটি আয়ের দিক থেকে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
দেশীয় বাজারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও সিনেমাটি সাড়া ফেলেছে। বিশেষ করে উত্তর আমেরিকার প্রবাসী দর্শকদের মধ্যে সিনেমাটি ভালো গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, উত্তর আমেরিকায় মুক্তির প্রথম তিন দিনে সিনেমাটি ৫৪ হাজার মার্কিন ডলার আয় করে। পরবর্তী দিনগুলোতে অস্ট্রেলিয়াসহ অন্যান্য বাজারের আয় যোগ হয়ে মোট আয় আরও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানা যায়।
চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলা সিনেমার আন্তর্জাতিক বাজারে যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ তার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। প্রবাসী দর্শকদের আগ্রহ দেশীয় চলচ্চিত্রের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিচ্ছে বলেও তারা মত দিয়েছেন।
‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন তানিম নূর। এতে অভিনয় করেছেন দেশের জনপ্রিয় একঝাঁক তারকা শিল্পী। মোশাররফ করিম, চঞ্চল চৌধুরী, শরীফুল রাজ, সাবিলা নূর, শ্যামল মাওলা, জাকিয়া বারী মম, আজমেরী হক বাঁধন, শামীমা নাজনীন, ইন্তেখাব দিনার ও আরেফিন জিলানীর মতো শিল্পীরা এতে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন।
প্রযোজনায় রয়েছে বুড়িগঙ্গা টকিজ এবং সহপ্রযোজনায় রয়েছে হইচই স্টুডিওস। সিনেমাটি নির্মাণে গল্প ও প্রযোজনা মানের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
পরিচালক তানিম নূরের ভাষ্যমতে, ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ শুধুমাত্র একটি গল্প নয়, বরং মানুষের জীবনের ভিন্ন ভিন্ন অনুভূতির একটি সংযোগ। একটি ট্রেন যেমন দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে মানুষকে যুক্ত করে, তেমনি এই সিনেমাটিও মানুষের জীবনের বিচ্ছিন্ন গল্পগুলোকে একসূত্রে গেঁথে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছে।
সিনেমার গল্পে সম্পর্ক, স্মৃতি, ভালোবাসা এবং মানবিক অনুভূতির বিভিন্ন দিক উঠে এসেছে, যা দর্শকদের আবেগ ছুঁয়ে গেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে ঈদের ছুটিতে পারিবারিক বিনোদনের অংশ হিসেবে দর্শকরা সিনেমাটিকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন।
চলচ্চিত্র বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সময়ে যেখানে বাংলা সিনেমা ধীরে ধীরে নতুন করে দর্শক টানার চেষ্টা করছে, সেখানে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’-এর মতো সিনেমার সাফল্য শিল্পের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা। এটি প্রমাণ করে যে, ভালো গল্প ও মানসম্মত নির্মাণ থাকলে দর্শক এখনও প্রেক্ষাগৃহে সিনেমা দেখতে আগ্রহী।
এদিকে সিনেমাটির আয় ও দর্শকসংখ্যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা চলছে। অনেকেই এটিকে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম সফল বাংলা সিনেমা হিসেবে উল্লেখ করছেন।
সব মিলিয়ে, ১৮ দিনের মধ্যেই ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ বক্স অফিসে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে এবং দেশীয় চলচ্চিত্রের জন্য একটি আশাব্যঞ্জক উদাহরণ হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে।