বোনমাতির জাদুতে ইতিহাস গড়লো স্পেন, ইউরো ফাইনালে বিদায় জার্মানির

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৪ জুলাই, ২০২৫
  • ৩২ বার

প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৫ | একটি বাংলাদেশ ডেস্ক | একটি বাংলাদেশ অনলাইন

ইউরো নারী ফুটবলের ইতিহাসে আরেকটি স্মরণীয় রাত। একদিকে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন জার্মানি, যাদের সোনালি অতীত, অন্যদিকে স্বপ্ন বোনা স্পেন, যাদের ফুটবল ঐতিহ্য বহুদিনের হলেও নারী বিভাগে এতদূর এগিয়ে আসা এবারই প্রথম। আর এই ঐতিহাসিক অগ্রযাত্রার মূল নায়িকা, বর্তমান সময়ের অন্যতম সেরা ফুটবলার, স্পেনের গর্ব—আইতানা বোনমাতি।

লন্ডনের ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হওয়া এই সেমিফাইনাল নিয়ে উত্তেজনার কমতি ছিল না। বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের দৃষ্টি ছিল এই মহারণে। টিকিট বিক্রির রেকর্ড, টেলিভিশনের সামনে কোটি কোটি দর্শক, আর মাঠে এক অনন্যা দ্বৈরথ—যা শেষ পর্যন্ত নিঃশ্বাস আটকে রাখা এক নাটকীয় মুহূর্তে নির্ধারিত হলো। নির্ধারিত সময় পর্যন্ত গোলশূন্য লড়াই শেষে খেলা যখন গড়াচ্ছিল টাইব্রেকারের দিকেই, তখন অতিরিক্ত সময়ের ১১৩তম মিনিটে মাঠ কাঁপিয়ে দিলেন সেই বোনমাতি।

সুস্থতা নিয়ে বড় প্রশ্ন নিয়েই টুর্নামেন্টে পা রেখেছিলেন তিনি। ইউরো শুরু হওয়ার ঠিক আগে ভাইরাল মেনিনজাইটিসে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয় তাকে। এই জটিল পরিস্থিতি পেরিয়ে ফিরেছেন মাঠে, কিন্তু প্রথম দুই ম্যাচে মাঠে নামার সুযোগ পাননি। এরপর ধীরে ধীরে নিজেকে প্রস্তুত করে তুলেছেন, ফিরে পেয়েছেন ছন্দ, ফিরে পেয়েছেন নিজেকে। আর শেষ পর্যন্ত, যখন দেশকে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল, তখনই যেন নিজের ভেতরের জাদু উগরে দিলেন এই স্প্যানিশ মিডফিল্ডার।

ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ের মাঝামাঝি সময়ে স্পেনের আক্রমণভাগ যখন একপ্রকার নিরুত্তাপ, তখনই আথেনেয়া দেল কাস্তিয়োর পাসে দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে গোল করেন বোনমাতি। নিখুঁত নিয়ন্ত্রণ আর নিপুণ শটে বল জাল ছুঁতেই যেন বিদ্যুৎ চমকানোর মতো আনন্দে ফেটে পড়ে গোটা স্টেডিয়াম। সেদিনের গোল কেবল একটি ফাইনালের টিকিট নয়, ছিল এক দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান।

স্পেনের নারী ফুটবল ইতিহাসে এর আগে আটবার ইউরো থেকে বিদায় নিতে হয়েছে সেমিফাইনাল কিংবা তার আগেই। নবম প্রচেষ্টায় এসে সেই অপূর্ণতা ঘুচিয়ে দিলেন বোনমাতির নেতৃত্বে গড়া স্পেন দল। ম্যাচ শেষে বোনমাতি নিজেই বলেন, “এ নিয়ে একটা বই লিখে ফেলতে পারি!”—একথায় বোঝা যায়, কতটা আবেগ আর সংগ্রামের গল্প লুকিয়ে আছে এই সাফল্যের পেছনে।

স্পেনের কোচ মন্তসে তোমে বলেন, “এই টুর্নামেন্টের শুরুটা তার জন্য সহজ ছিল না। কিন্তু ওর ব্যক্তিত্ব, আত্মবিশ্বাস আর খেলোয়াড়সুলভ মানসিকতাই তাকে আলাদা করেছে। আজ সে দেখিয়েছে কেন সে বিশ্বের সেরা।”

অন্যদিকে, জার্মানির জন্য এটি ছিল চূড়ান্ত হতাশার রাত। অভিজ্ঞতা, পরিকল্পনা আর ফুটবল ঐতিহ্যের পরও বোনমাতির এক ঝলকে তারা ছিটকে পড়ে গেল ইউরোর ফাইনালের মঞ্চ থেকে।

আগামী রোববার, ২৭ জুলাই, প্যারিসে অনুষ্ঠিতব্য ইউরো ২০২৫ নারী ফুটবলের ফাইনালে স্পেনের প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড। ইউরোপীয় শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে প্রথমবারের মতো স্পেনের জায়গা নিশ্চিত হওয়ায় দেশজুড়ে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকে একে “নারী ফুটবলে নতুন যুগের সূচনা” বলেও আখ্যা দিচ্ছেন। এই ম্যাচ শুধু একটি ট্রফির লড়াই নয়, বরং স্পেনের নারী ফুটবলের বহু বছরের পরিশ্রম ও সংগ্রামের স্বীকৃতি। এখন দেখার পালা, ইতিহাস কি শুধু লেখা হলো, নাকি বোনমাতির নেতৃত্বে সেটি সোনালি মুকুটে পরিণত হবে।

একটি বাংলাদেশ অনলাইন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত