ঈদে রাজধানী ছাড়ছেন ১০৮ পোশাক কারখানার শ্রমিক

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬
  • ১৪ বার
ঈদে রাজধানী ছাড়ছেন ১০৮ পোশাক কারখানার শ্রমিক

প্রকাশ: ২৪ মে  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের শিল্পাঞ্চল থেকে ধাপে ধাপে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন পোশাক শ্রমিকরা। দেশের রপ্তানি আয়ের অন্যতম খাত তৈরি পোশাক শিল্পে ঈদের ছুটি ঘিরে এবার বিশেষ রোস্টার অনুযায়ী ছুটি কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যার ফলে শ্রমিকদের একযোগে চাপ না পড়ে ধাপে ধাপে যাত্রা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি (BGMEA) জানিয়েছে, রোববার (২৪ মে) থেকে রাজধানীসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে ১০৮টি পোশাক কারখানায় ঈদের ছুটি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শ্রমিকরা ধীরে ধীরে নিজ নিজ গ্রামের উদ্দেশে রওনা হচ্ছেন।

সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ঈদকে সামনে রেখে মোট কারখানাগুলোর মধ্যে ২৫ মে ছুটি পাবে ৬৬৪টি কারখানা, যা মোটের প্রায় ৩৭ শতাংশ। ২৬ মে সবচেয়ে বেশি ৭১৩টি কারখানায় ছুটি কার্যকর হবে, যা মোটের প্রায় ৪৩ শতাংশ। এরপর ২৭ মে আরও ২৫১টি কারখানায় শ্রমিকরা ছুটিতে যাবেন, যা প্রায় ১৪ শতাংশ কারখানা।

এই রোস্টার পদ্ধতি অনুযায়ী ছুটি দেওয়ার ফলে একসঙ্গে বিপুল সংখ্যক শ্রমিক সড়কে নামার ঝুঁকি কমবে এবং ঈদযাত্রা তুলনামূলকভাবে স্বস্তিদায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে ঢাকা, গাজীপুর, সাভার, আশুলিয়া ও নারায়ণগঞ্জের মতো শিল্পঘন এলাকায় যানবাহনের চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

BGMEA সহ-সভাপতি মো. শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী বলেন, সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করেই এবার ছুটির রোস্টার নির্ধারণ করা হয়েছে। এর ফলে শ্রমিকরা ধাপে ধাপে বাড়ি যেতে পারছেন, ফলে সড়কে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে না। একইভাবে ঈদের পর কর্মস্থলে ফেরার ক্ষেত্রেও এই পরিকল্পনা সহায়ক হবে।

তিনি আরও জানান, এবারের ঈদে অধিকাংশ কারখানাই শ্রমিকদের বেতন ও বোনাস পরিশোধ করেছে। কিছু কারখানায় এখনো প্রক্রিয়া চলমান থাকলেও আজ বা আগামীকালের মধ্যে তা সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সরকারের প্রণোদনা সহায়তার কারণে তুলনামূলক দুর্বল কারখানাগুলোও শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করতে পারছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

অনেক কারখানা চলতি মে মাসের বেতনও আগাম পরিশোধ করেছে বলে জানিয়েছেন তিনি। ফলে শ্রমিকরা শুধু ঈদ বোনাসই নয়, মাসিক বেতনও সঙ্গে নিয়ে বাড়ি যাচ্ছেন, যা তাদের ঈদ উদযাপনকে আরও স্বস্তিদায়ক করেছে।

রাজধানীর বিভিন্ন বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন ও লঞ্চঘাটে ইতোমধ্যে শ্রমিক ও সাধারণ যাত্রীদের ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে গাজীপুর, সাভার ও আশুলিয়া থেকে প্রতিদিন হাজারো শ্রমিক ঢাকার বাইরে যাচ্ছেন। পরিবহন সংকট ও অতিরিক্ত ভাড়া নিয়েও কিছুটা চাপ থাকলেও আগেভাগে যাত্রা শুরু করায় তুলনামূলক ভোগান্তি কম বলে জানিয়েছেন অনেকে।

শ্রমিকরা বলছেন, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা ও চাপের পর ঈদে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো তাদের জন্য সবচেয়ে বড় স্বস্তি। তাই ছুটির এই সময়টিকে তারা খুব গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন।

পরিবহন খাতের সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ঈদ সামনে রেখে বাস, ট্রেন ও লঞ্চে যাত্রী সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। বিশেষ ব্যবস্থাপনায় অতিরিক্ত ট্রিপ চালানো হলেও নির্দিষ্ট সময়ে টিকিট পাওয়া অনেক ক্ষেত্রে কঠিন হয়ে পড়ছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, শ্রমিকদের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে সড়ক, মহাসড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন পয়েন্টগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি ছুটি শেষে শ্রমিকদের নিরাপদে কর্মস্থলে ফেরার বিষয়েও প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রোস্টারভিত্তিক ছুটি ব্যবস্থা বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে একটি কার্যকর পদক্ষেপ। এতে একদিকে যেমন শ্রমিকদের ভোগান্তি কমছে, অন্যদিকে উৎপাদন ব্যবস্থায়ও ভারসাম্য বজায় থাকছে।

সব মিলিয়ে ঈদের এই সময়টি রাজধানী ও শিল্পাঞ্চলে এক ভিন্ন চিত্র তৈরি করেছে—শ্রমিকদের আনন্দ, পরিবারের টান এবং গ্রামীণ জীবনের উদ্দেশে এক বড় যাত্রার প্রস্তুতি এখন পুরোপুরি দৃশ্যমান।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত