প্রকাশ: ২৯ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
অবশেষে অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের জন্য ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করেছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন Argentina national football team। কোচ হিসেবে দায়িত্বে থাকা Lionel Scaloni এবারও অভিজ্ঞতা ও তরুণ প্রতিভার সমন্বয়ে দল সাজিয়েছেন। তবে স্কোয়াড ঘোষণার পর সবচেয়ে বেশি আলোচনা তৈরি হয়েছে দুই পরিচিত তারকার বাদ পড়া নিয়ে।
অধিনায়ক হিসেবে আবারও দলকে নেতৃত্ব দেবেন বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা তারকা Lionel Messi। ৩৯ বছর বয়সেও তিনি আর্জেন্টিনার স্বপ্নের কেন্দ্রে রয়েছেন। কাতার বিশ্বকাপ জয়ের পর আরও একটি বিশ্বকাপ মঞ্চে মেসিকে ঘিরে নতুন ইতিহাস লেখার স্বপ্ন দেখছে আর্জেন্টাইন সমর্থকেরা।
বিশ্বকাপ সামনে রেখে ঘোষিত এই দলে জায়গা পেয়েছেন গোলরক্ষক Emiliano Martínez, ডিফেন্ডার Cristian Romero, মিডফিল্ডার Rodrigo De Paul এবং ফরোয়ার্ড Lautaro Martínez-এর মতো পরিচিত মুখরা। পাশাপাশি আক্রমণভাগে থাকছেন Julián Álvarez, যিনি গত কয়েক বছরে জাতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রে পরিণত হয়েছেন।
তবে দল ঘোষণার পর সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে দেখা হচ্ছে তরুণ প্রতিভা Franco Mastantuono-র বাদ পড়াকে। সাম্প্রতিক সময়ে ক্লাব ফুটবলে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করলেও বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের প্রাধান্য দেওয়ায় শেষ পর্যন্ত স্কোয়াডে জায়গা হয়নি তার। আর্জেন্টিনার ফুটবল মহলে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
আরেকটি আলোচিত বাদ পড়া নাম Marcos Acuña। কাতার ২০২২ বিশ্বকাপজয়ী দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হলেও এবার তাকে স্কোয়াডে রাখা হয়নি। বয়স, ফিটনেস এবং বর্তমান ফর্ম বিবেচনায় কোচিং স্টাফ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, স্কালোনি মূলত কাতার বিশ্বকাপজয়ী দলের মূল কাঠামো ধরে রাখতে চেয়েছেন। সেই সঙ্গে কিছু তরুণ ও উদীয়মান ফুটবলারকে অন্তর্ভুক্ত করে ভবিষ্যতের পরিকল্পনাও সাজিয়েছেন। মিডফিল্ডে Enzo Fernández এবং Alexis Mac Allister-এর উপস্থিতি দলকে আরও ভারসাম্যপূর্ণ করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
ফরোয়ার্ড লাইনে নতুন মুখ হিসেবে জায়গা পেয়েছেন Giuliano Simeone এবং Nico Paz। তরুণ এই ফুটবলারদের অন্তর্ভুক্তি ভবিষ্যতের জন্য ইতিবাচক বার্তা হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
দল ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, অভিজ্ঞতা ও ধারাবাহিকতার কারণে স্কালোনির সিদ্ধান্ত যৌক্তিক। আবার কেউ কেউ তরুণ তারকা মাস্তানতুওনোর বাদ পড়াকে হতাশাজনক বলেও মন্তব্য করেছেন।
বিশ্বকাপ সামনে রেখে আর্জেন্টিনা এবারও অন্যতম ফেবারিট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ২০২২ সালে কাতারে বিশ্বকাপ জয়ের পর দলটির আত্মবিশ্বাস অনেক বেড়েছে। পাশাপাশি মেসির নেতৃত্বে দলটির কৌশলগত পরিপক্বতাও প্রশংসা পাচ্ছে ফুটবলবিশ্বে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের দলগত সমন্বয়। মেসিকে ঘিরে পুরো দল যেভাবে নিজেদের দায়িত্ব পালন করে, সেটিই তাদের আলাদা করে তোলে। ডিফেন্স থেকে আক্রমণ পর্যন্ত প্রায় প্রতিটি বিভাগেই অভিজ্ঞ ও পরীক্ষিত ফুটবলার রয়েছেন।
তবে বিশ্বকাপের মতো দীর্ঘ টুর্নামেন্টে ইনজুরি, ফর্ম এবং চাপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই স্কালোনির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হবে পুরো স্কোয়াডকে মানসিক ও শারীরিকভাবে প্রস্তুত রাখা।
এবারের বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে United States, Mexico এবং Canada-এ। তিন দেশের যৌথ আয়োজনে হতে যাওয়া এই আসরকে ঘিরে ইতোমধ্যে বিশ্বজুড়ে ফুটবল উন্মাদনা শুরু হয়েছে।
আর্জেন্টিনার সমর্থকদের প্রত্যাশা, মেসির নেতৃত্বে দলটি আবারও বিশ্বমঞ্চে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করবে। অনেকের কাছেই এটি হতে পারে মেসির শেষ বিশ্বকাপ, ফলে আবেগ ও প্রত্যাশা এবার আরও বেশি।
সব মিলিয়ে স্কালোনির ঘোষিত বিশ্বকাপ দল নতুন সম্ভাবনা, অভিজ্ঞতা এবং কৌশলগত ভারসাম্যের সমন্বয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন মাঠের লড়াইয়েই প্রমাণ হবে এই দল আবারও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করতে পারে কিনা।