প্রকাশ: ৩১ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বিশ্বকাপ ফুটবলের মহারণ শুরু হতে আর মাত্র দুই সপ্তাহও বাকি নেই। ঠিক এমন একটি সময়ে বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর নজর আটকে আছে ব্রাজিলের পোস্টার বয় নেইমার জুনিয়রের ওপর। মাঠের লড়াই শুরুর আগে তাকে ঘিরে তৈরি হওয়া চোটের ধোঁয়াশা যেন কিছুতেই কাটছিল না। তবে অবশেষে ব্রাজিলিয়ান সমর্থকদের জন্য স্বস্তির হাওয়া নিয়ে এলেন সেলেসাওদের মাস্টারমাইন্ড কোচ কার্লো আনচেলত্তি। তারকা এই ফরোয়ার্ডের ইনজুরি নিয়ে নতুন এবং ইতিবাচক তথ্য দিয়েছেন তিনি, যা নেইমারের বিশ্বকাপে খেলা নিয়ে তৈরি হওয়া সব শঙ্কা এক ঝটকায় অনেকটাই দূর করে দিয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরেই ইনজুরি আর ফর্মহীনতার সঙ্গে লড়াই করছেন ৩৪ বছর বয়সী নেইমার। চোটের কারণে প্রায় তিন বছর জাতীয় দলের বাইরে থাকা এই ফুটবলারকে যখন আনচেলত্তি তার ২৬ সদস্যের বিশ্বকাপ দলে অন্তর্ভুক্ত করেন, তখন ফুটবল মহলে অনেকেই বেশ চমকে গিয়েছিলেন। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছিলেন তার ফিটনেস ও দলে অবদান রাখার সামর্থ্য নিয়ে। এর মধ্যেই আবার নতুন করে তার কাফ মাসলের চোট ভক্তদের হৃদস্পন্দন বাড়িয়ে দিয়েছিল। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জোরেশোরে প্রচার করছিল যে, এই চোটের কারণে হয়তো আরও অন্তত তিন সপ্তাহ মাঠের বাইরে কাটাতে হবে সান্তোসের এই তারকাকে। ফলে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলোতে তার অংশগ্রহণ এক প্রকার অসম্ভব বলেই ধরে নেওয়া হচ্ছিল।
তবে সমস্ত গুঞ্জন ও শঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে আশার আলো দেখিয়েছেন ইতালিয়ান ট্যাকটিশিয়ান কার্লো আনচেলত্তি। তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে জানিয়েছেন যে, নেইমারের কাফ মাসলের সেই চোট খুব দ্রুত সেরে উঠছে। তিনি প্রত্যাশার চেয়েও দ্রুত গতিতে শারীরিক ধাক্কাটি কাটিয়ে উঠছেন। সবকিছু যদি পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোয়, তবে আগামী ১৩ জুন নিউ জার্সিতে মরক্কোর বিপক্ষে ব্রাজিলের বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচেই মাঠে দেখা যেতে পারে এই মহাতারকাকে। আনচেলত্তি স্পষ্ট করে বলেছেন যে, উদ্বোধনী ম্যাচকে সামনে রেখে ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড অত্যন্ত কঠোর পরিশ্রম করছেন এবং নিজের ফিটনেস ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়াটি বেশ ভালোভাবেই চালিয়ে যাচ্ছেন।
সংবাদ সম্মেলনে আনচেলত্তির কণ্ঠে ছিল নেইমারকে নিয়ে অগাধ বিশ্বাস। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, তারা সবাই বিশ্বাস করেন নেইমার খুব শিগগির পূর্ণ ফিটনেস নিয়ে মাঠে ফিরবেন। যদি কোনো কারণে একদম শেষ মুহূর্তে উদ্বোধনী ম্যাচের শুরুর একাদশে তাকে নামানো সম্ভব নাও হয়, তবুও দ্বিতীয় ম্যাচে তার থাকাটা এক প্রকার নিশ্চিত। কোচের এমন আত্মবিশ্বাসী বক্তব্য ব্রাজিলিয়ান শিবিরে যেমন স্বস্তি ফিরিয়েছে, তেমনি ফুটবল বিশ্বকেও দিয়েছে এক বড় সুসংবাদ। কারণ নেইমারের মতো একজন জাদুকরী ফুটবলার মাঠে থাকা মানেই গ্যালারিতে বাড়তি উন্মাদনা আর প্রতিপক্ষ শিবিরে আলাদা মনস্তাত্ত্বিক চাপ।
বার্সেলোনা ও প্যারিস সেন্ট জার্মেইর সাবেক এই তারকা ফুটবলার ক্যারিয়ারের গোধূলিলগ্নে এসে এখন খেলছেন নিজের শৈশবের ক্লাব সান্তোসে। ব্রাজিলের জার্সি গায়ে তার বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের পরিসংখ্যানই বলে দেয় কেন তিনি এই দলের জন্য এতটা অপরিহার্য। সেলেসাওদের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হলেন নেইমার। দেশের হয়ে ১২৮টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে তিনি এ পর্যন্ত ৭৯টি গোল করেছেন, যা তাকে কিংবদন্তি পেলের চেয়েও উঁচুতে আসন দিয়েছে। আসন্ন এই টুর্নামেন্টটি হতে যাচ্ছে নেইমারের ক্যারিয়ারের চতুর্থ বিশ্বকাপ। আর তাই ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে এসে দেশের হয়ে একটি বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরার স্বপ্ন তার নিজের যেমন, তেমনি তাকে ঘিরে থাকা কোটি ভক্তেরও।
অবশ্য বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে নামার আগে ব্রাজিলের দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি ম্যাচে নেইমারকে ছাড়াই কৌশল সাজাতে হচ্ছে আনচেলত্তিকে। রোববার ঐতিহাসিক মারাকানা স্টেডিয়ামে পানামার বিপক্ষে মাঠে নামবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এই ম্যাচটি শেষ করেই সোমবার নিউ জার্সিতে চূড়ান্ত ক্যাম্প করার উদ্দেশ্যে উড়াল দেবে পুরো দল। এরপর আগামী ৬ জুন ক্লিভল্যান্ডে মিশরের বিপক্ষে নিজেদের শেষ প্রস্তুতি ম্যাচ খেলে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করবে সেলেসাওরা। এই দুটি ম্যাচে নেইমারকে বিশ্রামে রেখে দলের অন্যান্য ফুটবলারদের পরখ করে নেওয়ার দারুণ সুযোগ পাবেন কোচ।
নেইমারের এই ইনজুরি থেকে ফিরে আসার লড়াই কেবল একজন ফুটবলারের মাঠে ফেরার গল্প নয়, এটি কোটি ভক্তের আবেগ ও ভালোবাসার প্রতিফলন। আনচেলত্তির দেওয়া এই নতুন তথ্য প্রমাণ করে যে, নেইমার নিজেও এই বিশ্বকাপকে কতটা গুরুত্ব দিচ্ছেন এবং দেশের জন্য নিজের সেরাটা দিতে কতটা মরিয়া। চোটের কাফন মোড়ানো ক্যারিয়ারে আরও একবার ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প লিখতে প্রস্তুত হচ্ছেন এই ফুটবল জাদুকর। এখন পুরো ফুটবল বিশ্বের অপেক্ষা আগামী ১৩ জুনের, যেদিন নিউ জার্সির মাঠে মরক্কোর বিপক্ষে হলুদ জার্সি গায়ে আবার বল পায়ে জাদু দেখাবেন নেইমার জুনিয়র।