প্রকাশ: ৩১ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ফুটবল কখনো পরম আনন্দের, আবার কখনো চরম নির্মমতার এক মঞ্চ। এক মুহূর্তের ব্যবধানে এখানে একজন ফুটবলার আকাশচুম্বী প্রশংসা থেকে অতল নিরাশার সাগরে তলিয়ে যেতে পারেন। ফুটবলের এই নিষ্ঠুর সত্যটি এবার আর্সেনালের ব্রাজিলিয়ান সেন্টারব্যাক গ্যাব্রিয়েল মাগালায়েশের চেয়ে ভালো বোধহয় আর কেউ উপলব্ধি করতে পারছেন না।
উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে পিএসজির বিরুদ্ধে পুরো ১২০ মিনিট মাঠে রাজত্ব করে যিনি ম্যাচসেরা হওয়ার দ্বারপ্রান্তে ছিলেন, তিনিই টাইব্রেকারের এক চরম মুহূর্তে পেনাল্টি মিস করে বসলেন। আর তার এই একটিমাত্র ভুলই গানার্সদের প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সোনালী ট্রফি ছোঁয়ার অধরা স্বপ্নকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিল।
ম্যাচের শুরু থেকেই পিএসজির শক্তিশালী ও ক্ষীপ্র আক্রমণভাগের সামনে বুক চিতিয়ে লড়াই করেছিলেন গ্যাব্রিয়েল। যে পিএসজি গত বছরের ফাইনালে ইন্টার মিলানকে ৫-০ গোলের বড় ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েছিল এবং এবারের সেমিফাইনালেও বায়ার্ন মিউনিখের জালে এক হালি ও দুই মিলিয়ে মোট ৬টি গোল জড়িয়ে ফাইনালে উঠেছিল, সেই চেনা পিএসজিকে পুরো ১২০ মিনিট ওপেন প্লে থেকে কোনো গোলই করতে দেননি এই ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার।
আর্সেনালের রক্ষণভাগকে এক হাতে আগলে রেখে পুরো ম্যাচে তিনি একাই ১৩টি নিখুঁত ক্লিয়ারেন্স করেছেন। মাটিতে কিংবা শূন্যে ভেসে আসা বলের প্রতিটি দ্বৈরথেই তিনি ছিলেন অপরাজেয়। ম্যাচের পুরো সময় কোনো প্রতিপক্ষ স্ট্রাইকার তাকে একবারের জন্যও কাটিয়ে বক্সে ঢুকতে পারেননি। এমন এক অতিমানবীয় পারফর্ম্যান্সের পর তাকে নিয়ে ম্যাচসেরার স্তুতি গাওয়াটা যখন সময়ের ব্যাপার মাত্র, তখনই ভাগ্য তার সঙ্গে এক নিষ্ঠুর রসিকতা করে বসল।
ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গড়ালেও কোনো দলই ডেডলক ভাঙতে না পারায় খেলা গড়ায় ভাগ্যনির্ধারক পেনাল্টি শুটআউটে। সেখানে রোমাঞ্চকর লড়াইয়ের এক পর্যায়ে আর্সেনাল ৪-৩ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। গানার্সদের ম্যাচে টিকিয়ে রাখার সমস্ত দায় তখন এসে পড়ে গ্যাব্রিয়েলের কাঁধে। তিনি গোল করতে পারলে তবেই খেলা সাডেন ডেথে যেত এবং আর্সেনালের শিরোপা জয়ের আশা বেঁচে থাকত। কিন্তু কোটি ভক্তের প্রত্যাশার সেই প্রবল চাপে শটটি মারার মুহূর্তে খেই হারিয়ে ফেলেন তিনি। তার নেওয়া শটটি গোলপোস্টের অনেক ওপর দিয়ে চলে গেলে স্টেডিয়াম জুড়ে নেমে আসে স্তব্ধতা। আর্সেনালকে এক নিমিষে বিষাদের সাগরে ডুবিয়ে উল্লাসে মেতে ওঠে পিএসজি শিবির।
পেনাল্টি মিস করার পর নিজের আবেগ আর ধরে রাখতে পারেননি এই ডিফেন্ডার। মাঠের মাঝেই কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। পুরো ম্যাচজুড়ে অদম্য বীরত্ব দেখানো সেই নায়ককে তখন গ্রাস করে নেয় এক বুক অপরাধবোধ। ঠিক সেই মুহূর্তে ক্লাব ফুটবলের বৈরিতা ভুলে জাতীয় দলের সতীর্থ তথা পিএসজির অধিনায়ক মারকিনিয়োস ছুটে আসেন এবং তাকে বুকে টেনে নিয়ে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এই দৃশ্যটি ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে।
পেনাল্টির এই ট্র্যাজেডি বাদ দিলে গ্যাব্রিয়েলের এমন দুর্দান্ত পারফর্ম্যান্স আসন্ন বিশ্বকাপের আগে ব্রাজিল জাতীয় দলকে নিশ্চিতভাবেই অনেক বড় স্বস্তি দেবে। বিশ্বমঞ্চে সেলেসাওদের রক্ষণভাগে তার এই ফর্ম দলের জন্য এক বড় সম্পদ হয়ে উঠবে, তা বলাই বাহুল্য।