মারাকানায় গোলবন্যা, পানামাকে ৬-২ গোলে হারাল ব্রাজিল

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১ জুন, ২০২৬
  • ২৬ বার

প্রকাশ: ০১ জুন ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

রিও ডি জেনেইরোর ঐতিহ্যবাহী মারাকানা স্টেডিয়ামে দর্শকদের সামনে এক দাপুটে জয় তুলে নিয়েছে ব্রাজিল। বিশ্বকাপের আগে নিজেদের শেষ হোম প্রীতি ম্যাচে পানামাকে ৬-২ গোলে হারিয়ে শক্ত অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ম্যাচজুড়ে আক্রমণ, গতি ও দলগত সমন্বয়ে আধিপত্য ছিল পুরোপুরি স্বাগতিকদের।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয় ব্রাজিল। মাত্র দ্বিতীয় মিনিটেই গোল করে দলকে এগিয়ে দেন ভিনিসিউস জুনিয়র। মাঝমাঠ থেকে কাসেমিরোর নিখুঁত পাস পেয়ে প্রায় ৩৫ গজ দূর থেকে নেওয়া শক্তিশালী শটে জাল খুঁজে নেন তিনি। তবে দ্রুতই ম্যাচে ফিরে আসে পানামা। ১৪তম মিনিটে একটি ফ্রি-কিক থেকে বল ডিফ্লেক্ট হয়ে আত্মঘাতী গোলে সমতা ফেরায় সফরকারীরা।

সমতায় ফিরলেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারায়নি ব্রাজিল। প্রথমার্ধের মাঝামাঝি সময়ে ভিনিসিউসের দারুণ ক্রস থেকে হেডে গোল করে আবারও দলকে এগিয়ে দেন অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার কাসেমিরো। বিরতির আগে একাধিক সুযোগ তৈরি করেও ব্যবধান বাড়াতে ব্যর্থ হয় স্বাগতিকরা।

বিরতির পর ম্যাচের চিত্র আরও একপেশে হয়ে যায়। দ্বিতীয়ার্ধে কোচ কার্লো আনচেলত্তি ডিফেন্ডার লিও পেরেইরা ছাড়া প্রায় পুরো দলই পরিবর্তন করেন, যা ম্যাচের গতি আরও বাড়িয়ে দেয়। নতুন খেলোয়াড়দের আক্রমণাত্মক খেলায় দ্রুতই পানামার রক্ষণভাগ ভেঙে পড়ে।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই গোল করেন হায়ান, যিনি ইগো চিয়াগোর পাস থেকে বল জালে পাঠান। এরপর ৬০তম মিনিটে লুকাস পাকেতার শটে দিক পরিবর্তিত হয়ে বল জালে জড়ালে ব্যবধান দাঁড়ায় ৪-১। কিছুক্ষণ পরেই পেনাল্টি থেকে দলের পঞ্চম গোলটি করেন চিয়াগো নিজেই।

ম্যাচের শেষ ভাগে ব্রাজিলের আধিপত্য আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ৮১তম মিনিটে দানিলো সান্তোস দারুণ ফিনিশিংয়ে ষষ্ঠ গোলটি করেন। যদিও ৮৪তম মিনিটে পানামা এক গোল শোধ করে ব্যবধান কমায়, তবে তা ম্যাচের ফলাফলে কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি।

ব্রাজিলের আক্রমণভাগে ভিনিসিউস জুনিয়র, রাফিনিয়া এবং তরুণ এন্দ্রিক একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও সবকটি কাজে লাগাতে পারেননি। তবুও পুরো ম্যাচজুড়ে দলের গতি, পাসিং এবং আক্রমণাত্মক ফুটবল সমর্থকদের জন্য ছিল চোখে পড়ার মতো।

ম্যাচ শেষে বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বকাপের আগে এই জয় ব্রাজিলের জন্য আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর বড় একটি বার্তা। নতুন ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সমন্বয়ে দলটি ধীরে ধীরে একটি ভারসাম্যপূর্ণ স্কোয়াডে পরিণত হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আগামী রোববার মিশরের বিপক্ষে আরেকটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে ব্রাজিল। এরপর বিশ্বকাপ মঞ্চে ১৪ জুন মরক্কোর বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ম্যাচে মাঠে নামবে সেলেসাওরা। অন্যদিকে পানামাও ঘানার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে তাদের প্রস্তুতি এগিয়ে নেবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত