সর্বশেষ :

চীন সফরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ১৫ সদস্যের প্রতিনিধিদল

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬
  • ১১ বার
চীন সফরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ১৫ সদস্যের প্রতিনিধিদল

প্রকাশ: ০২ জুন  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করতে এবং প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে চীন সফরে গিয়েছেন বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ১৫ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল। আজ মঙ্গলবার দুপুর ২টায় চায়না ইস্টার্ন এয়ারলাইনসের একটি বিশেষ ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তারা চীনের উদ্দেশ্যে রওনা হন। এই সফরটি মূলত একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচির অংশ, যা চীনের ইউনান প্রদেশের কুনমিং শহরে অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ৮ জুন পর্যন্ত এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচিটি চলবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। চীন সরকার এবং ঢাকায় অবস্থিত চীনা দূতাবাসের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচিটি দুই দেশের মধ্যকার বর্তমান শক্তিশালী কূটনৈতিক ও উন্নয়নমূলক অংশীদারিত্বের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এই সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি যেখানে বাংলাদেশের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের চীনা উন্নয়ন মডেলের ওপর বিস্তারিত ধারণা দেওয়া হবে। প্রতিনিধিদলে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ জকরিয়া, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-১ মোহাম্মদ মামুন শিবলী, প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-২ মেহেদুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক মনিরুল ইসলাম পাটোয়ারি, আনোয়ার উল হালিম, মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন সরোয়ার, মো. মাহবুবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার-১ মো. উজ্জ্বল হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর অ্যাসাইনমেন্ট অফিসার-২ এস এম পারভেজ, প্রধানমন্ত্রীর গবেষণা কর্মকর্তা আবদুস সাত্তার পাটোয়ারি, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার একান্ত সচিব তারিক হাসানসহ আরও কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। দীর্ঘ ও সংক্ষিপ্ত মিলিয়ে এই ১৫ জন কর্মকর্তা তাদের নিজ নিজ ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য এই প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের জন্য মনোনীত হয়েছেন।

এই সফরকে ঘিরে গতকাল সোমবার ঢাকায় একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে বাংলাদেশের জন্য নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন দুই দেশের ক্রমবর্ধমান সম্পর্কের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ ও সহযোগিতার ধারা সূচিত হয়েছে, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচির ওপর বিশেষ আলোকপাত করে জানান যে, এটি কেবল তাত্ত্বিক জ্ঞান অর্জনের সুযোগ নয়, বরং দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ক্ষেত্রে এটি একটি বড় মাইলফলক হিসেবে গণ্য হবে। তিনি দৃঢ়ভাবে আশা ব্যক্ত করেন যে, চীনের সমৃদ্ধি, আধুনিকায়ন এবং দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়নের যে অভিজ্ঞতা এই কর্মকর্তারা অর্জন করবেন, তা বাংলাদেশের জাতীয় উন্নয়নে এবং সরকারি পরিষেবার মান বৃদ্ধিতে সরাসরি কাজে লাগানো সম্ভব হবে।

চীনের কুনমিং শহরটি তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি শিক্ষা ও গবেষণার জন্য অত্যন্ত পরিচিত। সেখানে এই উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা চীনের শাসনব্যবস্থা, ডিজিটাল প্রশাসন এবং টেকসই উন্নয়নের কৌশলগুলো নিয়ে বিশদভাবে কাজ করার সুযোগ পাবেন। কুনমিংয়ের বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে চীনের অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞ এবং নীতি-নির্ধারকদের কাছ থেকে সরাসরি জ্ঞান অর্জনের সুযোগ এই সফরকে অনন্য করে তুলেছে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে জনসেবা প্রদান প্রক্রিয়াকে আরও আধুনিক, দ্রুত এবং জনবান্ধব করে গড়ে তোলার জন্য চীনের এই অভিজ্ঞতা বর্তমান সরকারের ভিশনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। প্রশিক্ষণ শেষে প্রতিনিধিদলটি দেশে ফিরে তাদের অর্জিত অভিজ্ঞতা ও উদ্ভাবনী ধারণাগুলো সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রশাসনিক সংস্কারে নতুন গতির সঞ্চার করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রতিনিধিদলটির এই সফর কেবল একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি নয়, বরং এটি বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতি এবং আঞ্চলিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও চীন একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করছে। বিশেষ করে অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং শিক্ষাখাতে চীনের সহায়তা বাংলাদেশের অর্থনীতিকে বড় ধরনের শক্তি জুগিয়েছে। এই প্রতিনিধিদলের সদস্যরা কুনমিংয়ে অবস্থানের সময় কেবল পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান নয়, বরং চীনের মানুষের কর্মস্পৃহা এবং সিস্টেমের প্রতি তাদের একাগ্রতাও কাছ থেকে দেখার সুযোগ পাবেন। প্রতিটি কর্মক্ষেত্রে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে চীনা মডেলের যে সফল উদাহরণ রয়েছে, তা বাংলাদেশের কর্মকর্তাদের জন্য শিক্ষণীয় হবে।

সফরের প্রতিটি দিন অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে সাজানো হয়েছে। প্রতিদিনের ক্লাস, ক্ষেত্র পরিদর্শন এবং সংশ্লিষ্ট চীনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে গোলটেবিল বৈঠকগুলোর মাধ্যমে কর্মকর্তারা চীনের প্রশাসনিক সাফল্যের রহস্যগুলো জানার সুযোগ পাবেন। ৮ জুন প্রশিক্ষণ শেষে প্রতিনিধিদলটি যখন দেশে ফিরবে, তখন তারা তাদের অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার ঝুলি থেকে এমন কিছু আইডিয়া নিয়ে আসবেন, যা বাংলাদেশের আধুনিকায়নে নতুন মাত্রা যোগ করবে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পাঠানো এই দলটিতে এমন সব কর্মকর্তাদের রাখা হয়েছে যারা সরাসরি নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত। ফলে, তারা কুনমিং থেকে যা শিখবেন, তা প্রয়োগের মাধ্যমে নীতিগত পর্যায়েও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

পরিশেষে বলা যায়, এই প্রতিনিধিদলের সফরটি বাংলাদেশ সরকারের দক্ষতা বৃদ্ধির এক নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টার অংশ। বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র চীনের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে জ্ঞান ও প্রযুক্তি আদান-প্রদানের এই ধারা অব্যাহত থাকলে তা বাংলাদেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদী সুফল বয়ে আনবে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তারা এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কেবল দক্ষতাই অর্জন করবেন না, বরং দুই দেশের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও গভীরতর করবেন। তাদের এই কুনমিং সফর সফল হোক এবং তারা অর্জিত জ্ঞান দেশ ও দশের কল্যাণে প্রয়োগ করতে সক্ষম হোন—এটাই এখন কাম্য। বাংলাদেশের প্রশাসনিক আধুনিকায়নের পথে এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচিটি ভবিষ্যতে অনেক বড় পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত