সর্বশেষ :
জাহ্নবী কাপুরের আধ্যাত্মিক যাত্রা: তিরুপতিতে ৩,৫৫০ সিঁড়ি পাড়ি সড়কে চার প্রাণ ঝরল ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়: স্বজনদের আহাজারি বাজেট সামনে রেখে আবাসন খাতে নতুন প্রস্তাব: কতটুকু যৌক্তিক? পোশাক শিল্পে চ্যালেঞ্জ: নীতি-কৌশলে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা লালমনিরহাট সীমান্তে পুশ ইনের চেষ্টা, বিজিবির কঠোর অবস্থান দরুদ পাঠের বিশেষ পাঁচটি সময়: পুণ্যের অনন্য সুযোগ তীব্র গরমে প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া: প্রতিকারের ঘরোয়া উপায় দিল্লির হোটেলে অগ্নিকাণ্ড: প্রাণ হারালেন কুমিল্লার নূরুল আমিন নাইট উপাধিতে ভূষিত ইদ্রিস এলবা: মানবিক কাজের অনন্য স্বীকৃতি হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে উত্তাল ঢাবি: ইনকিলাব মঞ্চের মশালমিছিল

লেবাননে হামলা বন্ধের ডাক আইআরজিসির

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬
  • ৭ বার
লেবাননে হামলা বন্ধের ডাক আইআরজিসির

প্রকাশ: ৫ জুন  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে লেবানন সংকট এক নতুন ও উদ্বেগজনক মোড় নিয়েছে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরাইল ও লেবানন সরকারের মধ্যে যুদ্ধবিরতির আলোচনা চলছে, অন্যদিকে ইরানের শক্তিশালী সামরিক শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোর (আইআরজিসি) এই উদ্যোগকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে লেবাননে অবিলম্বে ইসরাইলি হামলা বন্ধের কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে। বৃহস্পতিবার জারি করা এক বিবৃতিতে আইআরজিসি ইসরাইলকে লেবাননের সীমানা থেকে সেনা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। দীর্ঘদিনের এই সংঘাতময় পরিস্থিতিতে আইআরজিসির এই অবস্থান নিশ্চিতভাবেই লেবাননের সংকটের সমাধানকে আরও জটিল করে তুলল। তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, কোনোভাবেই হিজবুল্লাহকে বাদ দিয়ে বা কোনো অসম শর্ত মেনে তারা লেবাননের ভাগ্য নির্ধারণ করতে দেবে না।

আইআরজিসির বিবৃতিতে লেবাননকে একটি মর্যাদাবান ও সার্বভৌম দেশ হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়েছে, দেশটি দীর্ঘকাল ধরে ইসরাইলি বাহিনীর নির্মম হামলার শিকার হয়ে আসছে। আইআরজিসি মনে করে, যুক্তরাষ্ট্র ‘শান্তি প্রতিষ্ঠার’ যে দোহাই দিচ্ছে, তা মূলত এই অঞ্চলে অশান্তি ও সহিংসতা আরও উসকে দেওয়ার একটি কৌশল মাত্র। তাদের মতে, যুদ্ধক্ষেত্রে বারবার ব্যর্থ হওয়ার পর ইসরাইলি বাহিনী এখন কাপুরুষোচিতভাবে সাধারণ মানুষ, হাসপাতাল ও স্কুল লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। বিবৃতিতে ইসরাইলের ইতিহাসের কঠোর সমালোচনা করে বলা হয়েছে, ধ্বংস আর ক্ষতির ওপর ভিত্তি করেই টিকে আছে দখলদার রাষ্ট্রটি। লেবাননের জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে তারা বলেছে যে, এই অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি আসা অসম্ভব যতক্ষণ না দখলদার বাহিনী লেবাননের মাটি থেকে তাদের প্রতিটি সেনা প্রত্যাহার করে নিচ্ছে।

পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে যখন ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতায় ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে ইসরাইল ও লেবানন শর্তসাপেক্ষে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার ঘোষণা দেয়। এই চুক্তির মূল ভিত্তি হলো হিজবুল্লাহর সামরিক কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ করা এবং দক্ষিণ লেবানন থেকে তাদের সদস্যদের সরিয়ে দেওয়া। এছাড়া দুই দেশের সীমান্তে কিছু ‘পাইলট জোন’ বা সুরক্ষিত এলাকা তৈরির কথা বলা হয়েছে, যা থাকবে লেবানিজ সশস্ত্র বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে। তবে এই চুক্তি প্রথম থেকেই ছিল বিতর্কিত, কারণ হিজবুল্লাহ শুরু থেকেই এর বিরোধিতা করে আসছে। তারা এই আলোচনাকে ‘অবৈধ’ এবং ‘জনগণের স্বার্থবিরোধী’ বলে আখ্যায়িত করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, হিজবুল্লাহর মতো একটি শক্তিশালী সশস্ত্র গোষ্ঠীকে বাদ দিয়ে কোনো চুক্তি বাস্তবে কার্যকর করা এক কথায় অসম্ভব।

ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইজরায়েল কাৎজ এই চুক্তিকে ইসরাইলের কূটনৈতিক ও সামরিক সাফল্য হিসেবে দাবি করলেও, একই সঙ্গে তিনি চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও যদি হিজবুল্লাহ কোনো ধরনের হামলা চালায়, তবে ইসরাইলি সেনাবাহিনী সরাসরি লেবাননের রাজধানী বৈরুতে আঘাত হানবে। এমন হুমকি পরিস্থিতির ভয়াবহতাকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। বৈরুতের মতো জনবহুল ও ঐতিহাসিক শহরে হামলার হুমকি কেবল একটি পক্ষকে নয়, বরং পুরো লেবাননকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিচ্ছে। এই হুংকারের বিপরীতে ইরানও বসে নেই। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, বৈরুতের ওপর হামলার অর্থ হলো পুরো অঞ্চলে ফের সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু করা।

মানবিক দিক থেকে লেবাননের পরিস্থিতি আজ চরম উদ্বেগজনক। যুদ্ধের কারণে হাজার হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে, ধ্বংস হয়েছে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো। আইআরজিসির অবস্থানের ফলে এখন শান্তি আলোচনার টেবিলে এক ধরনের স্থবিরতা নেমে এসেছে। ইরান সমর্থিত এই গোষ্ঠীটির দাবি অনুযায়ী, কেবল পূর্ণ ও শর্তহীন যুদ্ধবিরতিই পারে এই রক্তপাত কমাতে। কিন্তু আন্তর্জাতিক রাজনীতির মারপ্যাঁচে আটকা পড়া লেবাননের সাধারণ মানুষের জন্য কোনো পথই এখন মসৃণ নয়। একদিকে ইসরাইলের সামরিক চাপ, অন্যদিকে হিজবুল্লাহর অটল অনমনীয়তা—সব মিলিয়ে লেবাননের সাধারণ মানুষ আজ এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় এই ধরনের ভূ-রাজনৈতিক খেলা যে কতটা ধ্বংসাত্মক হতে পারে, তার জ্বলন্ত প্রমাণ লেবাননের আজকের বিধ্বস্ত রূপ। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের এই ছোট দেশটি আজ বৃহৎ শক্তির স্বার্থরক্ষার যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। আইআরজিসির কঠোর বার্তা এবং ইসরাইলের পাল্টা হুমকির ফলে এখন প্রশ্ন উঠছে—তবে কি আলোচনার পথ চিরতরে বন্ধ হতে চলেছে? নাকি এই উত্তেজনার মধ্যেই কোনো গোপন কূটনীতির ছকে লেবানন খুঁজে পাবে শান্তির কাঙ্ক্ষিত রেখা? উত্তরটি এখনো অজানা। তবে এটি নিশ্চিত যে, যদি না উভয় পক্ষ হিজবুল্লাহ ও ইসরাইলের পারস্পরিক যুদ্ধংদেহী মনোভাব প্রশমনে কোনো গঠনমূলক সংলাপে বসতে পারে, তবে লেবাননের শান্তি কেবল কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থেকে যাবে। ইতিহাসের এই কঠিন সন্ধিক্ষণে লেবাননের মানুষের জীবন ও মর্যাদা আজ যেন কোনো এক অদৃশ্য দাবার ছকে বলি হয়ে পড়ছে, যা বিশ্ববিবেককে আরও একবার লজ্জিত ও শঙ্কিত করে তুলছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত