প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
রাজধানী ঢাকায় টানা বর্ষণে গত ২৪ ঘণ্টায় ৯৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। সংস্থাটির নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী, ২৪ ঘণ্টায় ৮৮ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত হলে সেটিকে ‘অতিভারী বর্ষণ’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ফলে সাম্প্রতিক এই বৃষ্টিপাত রাজধানীতে চলতি মৌসুমের উল্লেখযোগ্য ভারী বর্ষণের একটি হিসেবে ধরা হচ্ছে। টানা বৃষ্টির কারণে নগরীর বিভিন্ন সড়কে জলাবদ্ধতা, যানজট এবং জনদুর্ভোগের আশঙ্কাও বেড়েছে।
রোববার (১২ জুলাই) আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীতে ৯৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। একই সঙ্গে আজও ঢাকার আকাশ মেঘলা থাকবে এবং আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে রাজধানীবাসীকে প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়ার এবং আবহাওয়ার সর্বশেষ তথ্য অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সকালের পূর্বাভাসে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, দুপুর পর্যন্ত ঢাকা ও আশপাশের এলাকার আকাশ আংশিক মেঘলা থেকে অস্থায়ীভাবে মেঘাচ্ছন্ন থাকতে পারে। এই সময়ের মধ্যে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণও হতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।
আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, রোববার সকাল ৬টায় ঢাকার বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৯৮ শতাংশ। একই সময়ে রাজধানীর তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ২৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাস দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার বেগে প্রবাহিত হতে পারে। তবে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রায় উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
আগের দিনের আবহাওয়ার তথ্য অনুযায়ী, শনিবার ঢাকার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অন্যদিকে রোববার দিনের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২৫ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আজ রাজধানীতে সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৬টা ৪৯ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় হবে ভোর ৫টা ১৯ মিনিটে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, মৌসুমি বায়ু বর্তমানে দেশের ওপর সক্রিয় রয়েছে। এর সঙ্গে বায়ুমণ্ডলে উচ্চমাত্রার জলীয় বাষ্প এবং অনুকূল আবহাওয়াগত পরিস্থিতির কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দফায় দফায় বৃষ্টিপাত হচ্ছে। রাজধানী ঢাকাও এর বাইরে নয়। আগামী কয়েক দিনও অনুরূপ আবহাওয়া বিরাজ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
টানা বৃষ্টিপাতের ফলে রাজধানীর নিচু এলাকাগুলোতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, অল্প সময়ের মধ্যে অতিভারী বর্ষণ হলে অনেক সড়কে পানি জমে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী এবং সাধারণ পথচারীদের দুর্ভোগও বেড়ে যায়। তাই প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পাশাপাশি যাতায়াতের আগে আবহাওয়ার সর্বশেষ পরিস্থিতি জেনে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, বজ্রসহ বৃষ্টির সময় খোলা মাঠ, উঁচু স্থান কিংবা বড় গাছের নিচে আশ্রয় নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। বজ্রপাত শুরু হলে নিরাপদ ভবনের ভেতরে অবস্থান করা এবং অপ্রয়োজনীয়ভাবে বাইরে চলাচল এড়িয়ে চলাই নিরাপদ। একই সঙ্গে বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারে সতর্কতা অবলম্বনেরও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের বৃষ্টিপাতের শ্রেণিবিন্যাস অনুযায়ী, ২৪ ঘণ্টায় ১ থেকে ১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতকে হালকা বৃষ্টি হিসেবে ধরা হয়। ১১ থেকে ২২ মিলিমিটারকে মাঝারি বৃষ্টি, ২৩ থেকে ৪৩ মিলিমিটারকে মাঝারি ধরনের ভারী বৃষ্টি, ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটারকে ভারী বৃষ্টি এবং ৮৮ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাতকে অতিভারী বর্ষণ হিসেবে গণ্য করা হয়। সেই হিসাবে ঢাকায় রেকর্ড হওয়া ৯৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত অতিভারী বর্ষণের পর্যায়ে পড়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশের আবহাওয়ার পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে নতুন পূর্বাভাস ও সতর্কবার্তা প্রকাশ করা হবে। তাই নাগরিকদের সর্বশেষ আবহাওয়া বুলেটিন অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।