প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
পাবনা-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির প্রধান সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসকে নিয়ে করা বক্তব্যের প্রতিবাদে পাবনায় বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন এবং প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া বিএনপি-সমর্থিত বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর কয়েকজন নেতার বক্তব্যের নিন্দা জানান এবং বক্তব্য প্রত্যাহার করে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি করেন। একই সঙ্গে পাবনায় এনসিপিকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করার ঘোষণাও দেন বক্তারা।
শনিবার (১১ জুলাই) সন্ধ্যায় পাবনা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে শহরের থানা রোড থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে আব্দুল হামিদ রোড হয়ে শহীদ চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত পথসভা অনুষ্ঠিত হয়।
পথসভায় বক্তব্য দেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ইয়ামিন খান, সদস্য সচিব কমল শেখ টিটু, যুগ্ম আহ্বায়ক দীপঙ্কর সরকার জিতু, দায়িত্বপ্রাপ্ত দপ্তর সম্পাদক এস এম আদনান উদ্দিন এবং পাবনা পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব হারুন অর রশীদ বাদশাসহ স্থানীয় নেতারা।
বক্তারা অভিযোগ করেন, শুক্রবার (১০ জুলাই) পাবনা শহীদ চত্বর পরিদর্শনের সময় এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম এবং একই দিনে নাটোরে অনুষ্ঠিত একটি সমাবেশে দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক সরওয়ার তুষার পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসকে নিয়ে কটূক্তি ও মিথ্যাচারমূলক বক্তব্য দিয়েছেন। তাঁদের দাবি, এসব বক্তব্য রাজনৈতিক শালীনতার পরিপন্থী এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে বক্তারা ওই বক্তব্য প্রত্যাহার করে সংশ্লিষ্ট নেতাদের নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত থাকারও দাবি তোলেন। কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নেতারা বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও ব্যক্তিগত আক্রমণ কিংবা যাচাইবিহীন অভিযোগের মাধ্যমে রাজনৈতিক পরিবেশ অস্থিতিশীল করা উচিত নয়।
বিক্ষোভ কর্মসূচিতে বক্তারা আরও ঘোষণা দেন যে, তাঁদের দৃষ্টিতে এনসিপির সংশ্লিষ্ট নেতাদের বক্তব্য পাবনার জনগণের অনুভূতিতে আঘাত করেছে। এ কারণে তাঁরা রাজনৈতিকভাবে এনসিপিকে পাবনায় ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করছেন। তবে এটি কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী নেতাদের রাজনৈতিক ঘোষণা; এ বিষয়ে কোনো প্রশাসনিক বা আইনগত সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়নি।
এর আগে শনিবার সকালে একই দাবিতে জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) পাবনা জেলা শাখার উদ্যোগে আরেকটি মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পাবনা প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত কর্মসূচিটি জেলা জাসাসের আহ্বায়ক ও প্রধানমন্ত্রীর আলোকচিত্রী খালেদ হোসেন পরাগের নির্দেশনায় অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন জেলা জাসাসের সদস্য সচিব আব্দুল মান্নান ভূঁইয়া, পাবনা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি এবিএম ফজলুর রহমান, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত দপ্তর সম্পাদক এস এম আদনান উদ্দিন, সরকারি এডওয়ার্ড কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সমন্বয়ক ইউসুফ আরফান বিপ্লব, পাবনা সদর পৌর জাসাসের আহ্বায়ক সিরাজুল ইসলাম হীরা, সদর উপজেলা জাসাসের যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল কাইয়ুম তরু এবং আটঘড়িয়া উপজেলা জাসাসের সদস্য সচিব ফয়সাল আবু জারসহ অন্যরা।
বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে বলেন, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ হলেও তা যেন পারস্পরিক সম্মান ও দায়িত্বশীলতার সীমা অতিক্রম না করে। তাঁরা সংশ্লিষ্ট বক্তব্যকে ভিত্তিহীন দাবি করে এর নিন্দা জানান এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে শালীনতা বজায় রাখার আহ্বান জানান।
এদিকে, এনসিপির পক্ষ থেকে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। সারজিস আলম বা সরওয়ার তুষারের পক্ষ থেকেও অভিযোগের বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মসূচি এবং পাল্টাপাল্টি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গণতান্ত্রিক পরিবেশ সুসংহত রাখতে মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও সংলাপ, তথ্যভিত্তিক বক্তব্য এবং পারস্পরিক সহনশীলতার চর্চা গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে রাজনৈতিক অভিযোগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য তুলে ধরা এবং যথাযথ প্রমাণের ভিত্তিতে অবস্থান নেওয়াও প্রয়োজন।