সর্বশেষ :
জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে শোক জানালেন ডা. শফিকুর রহমান শেষের ঝড়ে সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা, সামনে ইংল্যান্ড পাবনায় এনসিপির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ, ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণার দাবি হাওরে ডাকাতদের শেষ ওয়ার্নিং এমপি ফজলুর রহমানের, নিরাপত্তা জোরদারের দাবি ডা. শফিকুর রহমানকে নিয়ে জামায়াত নেতা হাফিজুর রহমানের ফেসবুক মন্তব্য স্থানীয় নির্বাচনকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে বিএনপি ফ্রান্স-স্পেন মহারণ, সেমিফাইনালে ফাইনালের উত্তাপ ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় ৯৭ মিলিমিটার অতিভারী বৃষ্টিপাত, আরও বৃষ্টির আভাস ঢাকাসহ ১৩ জেলায় দুপুরের মধ্যে ঝড়-বৃষ্টির সতর্কতা বিশ্বকাপ সেমিতে প্রথমবার ইংল্যান্ডের মুখোমুখি মেসি

স্থানীয় নির্বাচনকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে বিএনপি

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬
  • ২ বার

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সাংগঠনিক সক্ষমতা যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে দেখছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। একই সঙ্গে চলতি বছরের শেষ দিকে দলের জাতীয় কাউন্সিল আয়োজন, তৃণমূল সংগঠন পুনর্গঠন, কর্মসংস্থান, নেতাকর্মীদের অর্থনৈতিক পুনর্বাসন এবং সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে দলটির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বিস্তৃত আলোচনা হয়েছে। তবে এসব বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (১১ জুলাই) রাত ৮টার দিকে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে বৈঠক শুরু হয় এবং প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে আলোচনা চলে। রাত ১০টার দিকে বৈঠক শেষ হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকের শুরুতে মালয়েশিয়া ও চীন সফর সফলভাবে সম্পন্ন করায় তাঁকে অভিনন্দন জানান স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। এ সময় তাঁর হাতে একটি সম্মাননা ক্রেস্টও তুলে দেওয়া হয়।

বৈঠকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন ছিল অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয়। একাধিক সূত্র জানিয়েছে, কয়েকজন সদস্য চলতি বছরের শেষ দিকেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হওয়ার পক্ষে মত দেন। যদিও নির্বাচন আয়োজনের নির্দিষ্ট সময় নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আলোচনায় স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. জাহিদ হোসেনের সেপ্টেম্বরে নির্বাচন শুরুর সম্ভাবনা নিয়ে দেওয়া বক্তব্যও উঠে আসে। তবে বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো অবস্থান গ্রহণ করেনি দল।

স্থায়ী কমিটির অধিকাংশ সদস্যের অভিমত ছিল, স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিএনপির জন্য একটি বড় সাংগঠনিক চ্যালেঞ্জ। কারণ জাতীয় নির্বাচনের তুলনায় স্থানীয় নির্বাচন পরিচালনায় তৃণমূল সংগঠনের শক্তি, স্থানীয় নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতা এবং সাংগঠনিক সমন্বয় অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাই এখন থেকেই ইউনিয়ন, উপজেলা, পৌরসভা, জেলা এবং মহানগর পর্যায়ে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার ওপর জোর দেওয়া হয়।

বৈঠকে জাতীয় কাউন্সিল আয়োজনের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা হয়। কয়েকজন সদস্য এ বিষয়ে মতামত দিলে তারেক রহমান জানান, দলের জাতীয় কাউন্সিল অবশ্যই অনুষ্ঠিত হবে। সূত্র বলছে, অধিকাংশ সদস্য চলতি বছরের শেষ দিকে কাউন্সিল আয়োজনের পক্ষে মত দিয়েছেন। তাঁদের মতে, নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় দলকে আরও গতিশীল করতে এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণে কাউন্সিল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আলোচনায় আরও উঠে আসে, দেশের বিভিন্ন জেলা, মহানগর এবং সাংগঠনিক ইউনিটের অনেক কমিটির মেয়াদ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। এসব কমিটি দ্রুত পুনর্গঠন এবং নতুন নেতৃত্বকে দায়িত্ব দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন নেতারা। স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক ভিত্তি আরও মজবুত করার পাশাপাশি নতুন ও যোগ্য নেতৃত্ব তৈরির বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। দলীয় সূত্র জানায়, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, বেকারত্ব কমানো এবং সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। বিশেষ করে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং খাল পুনঃখনন কর্মসূচির বাস্তবায়ন কতটা এগিয়েছে, সে বিষয়ে মতবিনিময় করেন স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। যেসব প্রতিশ্রুতি এখনো বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছে, সেগুলো দ্রুত কার্যকর করার কৌশল নিয়েও আলোচনা হয়।

দীর্ঘ সময় রাজনৈতিক প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে থাকা নেতাকর্মীদের আর্থিক অবস্থার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে। বৈঠকে অংশ নেওয়া কয়েকজন সদস্য বলেন, গত ১৭ বছরে বহু নেতাকর্মী চাকরি, ব্যবসা কিংবা আয়ের সুযোগ হারিয়েছেন। তাঁদের পুনর্বাসন এবং অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলার বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

এ সময় দলের নীতিগত অবস্থান নিয়েও আলোচনা হয়। কয়েকজন সদস্যের মতে, শুধু রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে চাকরি বা সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে না। বরং যোগ্যতা, দক্ষতা এবং মেধার ভিত্তিতে মূল্যায়নের নীতি অনুসরণ করা উচিত। তাঁদের যুক্তি, রাজনৈতিক আনুগত্যকে একমাত্র মানদণ্ড করলে ভবিষ্যতে প্রশাসন ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টি হতে পারে।

বৈঠকে দেশের চলমান বন্যা পরিস্থিতিও গুরুত্ব পায়। বন্যাকবলিত অঞ্চলে বিএনপির ত্রাণ কার্যক্রম আরও জোরদার করার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে দলীয় নেতাকর্মীদের সক্রিয়ভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। মানবিক সহায়তা কার্যক্রমকে আরও সমন্বিতভাবে পরিচালনার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য জানান, সরকার গঠনের পর বিভিন্ন প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ব্যস্ততার কারণে দীর্ঘদিন পর এমন বিস্তৃত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সরকারের কার্যক্রম এবং দলের ভবিষ্যৎ সাংগঠনিক পরিকল্পনা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হয়েছে।

বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেগম সেলিমা রহমান এবং ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুসহ স্থায়ী কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এটি বিএনপির স্থায়ী কমিটির তৃতীয় বৈঠক। এর আগে গত ৪ এপ্রিল এবং ১৭ মে অনুষ্ঠিত দুটি বৈঠকেও দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রম, জাতীয় রাজনীতি এবং সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও জাতীয় কাউন্সিলকে সামনে রেখে বিএনপির সাংগঠনিক প্রস্তুতির দিকনির্দেশনা নির্ধারণে সর্বশেষ এই বৈঠক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত