প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার, বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং প্রবীণ রাজনীতিবিদ ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
রোববার (১২ জুলাই) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক শোকবার্তায় তিনি মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
শোকবার্তায় ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ছিলেন বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের একজন খ্যাতিমান সিনিয়র আইনজীবী এবং পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির দেশপ্রেমিক রাজনীতিবিদ। দীর্ঘ রাজনৈতিক ও পেশাগত জীবনে তিনি নিষ্ঠা, সততা এবং দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কাছে সম্মানিত ছিলেন। তাঁর বিচক্ষণতা, নিরপেক্ষতা এবং সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের কারণে তিনি রাজনৈতিক অঙ্গনে বিশেষ মর্যাদা অর্জন করেছিলেন।
ডা. শফিকুর রহমান তাঁর শোকবার্তায় অতীতের রাজনৈতিক ও আইনি বিভিন্ন ঘটনার প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামীর কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলাকালে ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার তাঁদের প্রতি সহানুভূতিশীল ছিলেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি জামায়াতে ইসলামীর কয়েকজন নেতার পক্ষে আইনজীবী হিসেবেও আদালতে দাঁড়িয়েছিলেন বলে উল্লেখ করেন।
শোকবার্তায় তিনি আরও দাবি করেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ওইসব আইনি সহায়তার জন্য কোনো পারিশ্রমিক গ্রহণ করেননি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, মরহুম বিষয়টিকে নিজের নৈতিক দায়িত্ব হিসেবে বিবেচনা করতেন। এ জন্য তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন জামায়াতের আমির।
ডা. শফিকুর রহমান মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে বলেন, আল্লাহ যেন ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের ভুলত্রুটি ক্ষমা করে তাঁকে জান্নাত নসিব করেন এবং তাঁর পরিবার, স্বজন, সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের এই শোক সইবার শক্তি দান করেন।
উল্লেখ্য, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার রোববার ভোরে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৪ বছর। তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি দেশের রাজনীতি ও আইন অঙ্গনে দীর্ঘ সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তাঁর মৃত্যুতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সাংবিধানিক পদাধিকারী, আইনজীবী সংগঠন এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিরা শোক প্রকাশ করেছেন।