নতুন সংসদ ঘিরে মানুষের প্রত্যাশা বেশি: ডেপুটি স্পিকার

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬
  • ৪ বার

প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেছেন, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর গঠিত নতুন জাতীয় সংসদের প্রতি দেশের মানুষের প্রত্যাশা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি। তার মতে, জনগণ এমন একটি সংসদ দেখতে চায় যেখানে কার্যকর বিতর্ক, জবাবদিহি, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং গণতান্ত্রিক চর্চা নিশ্চিত হবে। একই সঙ্গে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার যথাযথ প্রতিফলন ঘটাতে সংসদকে আরও সক্রিয় ও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার ঘারুয়া ইউনিয়নের সাউতিকান্দা গ্রামে ব্যক্তিগত সফরকালে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

ডেপুটি স্পিকার বলেন, জাতীয় সংসদ শুধু আইন প্রণয়নের প্রতিষ্ঠান নয়, এটি দেশের জনগণের আশা, আকাঙ্ক্ষা এবং গণতান্ত্রিক চেতনার অন্যতম প্রধান প্রতীক। অতীতের বিভিন্ন সংসদকে ঘিরে জনগণের মধ্যে নানা ধরনের প্রশ্ন, বিতর্ক এবং সমালোচনা ছিল। ফলে বর্তমান সংসদের ওপর মানুষের প্রত্যাশা স্বাভাবিকভাবেই অনেক বেশি। জনগণ চায় সংসদ এমন একটি মঞ্চ হয়ে উঠুক, যেখানে দেশের গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যু নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হবে এবং জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, বর্তমান সংসদে জনগণের প্রতিনিধিত্বের সুযোগ আরও বিস্তৃত হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক মত, দৃষ্টিভঙ্গি এবং জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা করার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এটি গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ব্যারিস্টার কায়সার কামাল আরও বলেন, আগামী দিনের বাংলাদেশ কেমন হবে এবং উন্নয়ন, সুশাসন, অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন খাতে কী ধরনের নীতিনির্ধারণ প্রয়োজন হবে, সে বিষয়ে জাতীয় সংসদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সংসদকে আরও প্রাণবন্ত ও কার্যকর করে গড়ে তুলতে সরকার ও বিরোধী দল উভয়েরই দায়িত্ব রয়েছে।

তিনি বলেন, সংসদকে দলীয় অবস্থানের বাইরে গিয়ে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। সরকারি ও বিরোধী দলের গঠনমূলক অংশগ্রহণের মাধ্যমে এমন একটি সংসদীয় সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব, যা গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করবে এবং জনগণের আস্থা বৃদ্ধি করবে। মতপার্থক্য থাকলেও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ঐকমত্যের পরিবেশ তৈরি করা সময়ের দাবি বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

ডেপুটি স্পিকার জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, সেই আন্দোলনে যারা জীবন দিয়েছেন কিংবা আহত হয়েছেন, তাদের আত্মত্যাগ জাতি কখনো ভুলবে না। তাদের রক্তের বিনিময়ে যে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা সৃষ্টি হয়েছে, তার মর্যাদা রক্ষা করা রাষ্ট্রের সব সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব। তিনি বলেন, সেই আত্মত্যাগের প্রতিফলন ঘটাতে দায়িত্বশীলতা, জবাবদিহি এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সংসদ সদস্যদের নিয়মিত উপস্থিতি, কার্যকর বিতর্ক, কমিটিগুলোর সক্রিয়তা এবং আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। একটি কার্যকর সংসদ দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে আরও সুসংহত করবে এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।

সফরকালে স্থানীয় উন্নয়ন, জনসম্পৃক্ততা এবং বিভিন্ন সমসাময়িক বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়। উপস্থিত ব্যক্তিরা এলাকার বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে মতামত তুলে ধরেন। ডেপুটি স্পিকার স্থানীয় জনগণের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং তাদের বিভিন্ন বিষয়ে খোঁজখবর নেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম খান (বাবুল), ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম, ভাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার ইকবাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মো. আইয়ুব মোল্লা এবং ভাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন সংসদ নিয়ে জনমনে যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তা পূরণ করতে হলে সংসদীয় কার্যক্রমকে আরও কার্যকর, স্বচ্ছ এবং অংশগ্রহণমূলক করতে হবে। পাশাপাশি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে গঠনমূলক আলোচনা ও জবাবদিহির সংস্কৃতি জোরদার হলে সংসদের প্রতি জনগণের আস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে তারা মনে করছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত