সর্বশেষ :

ব্যারিকেড ভেঙে হবিগঞ্জের পথে এনসিপি, উত্তেজনা শ্রীমঙ্গলে

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬
  • ৩৩ বার

প্রকাশ: ২৯ জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

পুলিশের ব্যারিকেড অতিক্রম করে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল থেকে হবিগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতারা। বুধবার বিকেলে শ্রীমঙ্গল উপজেলার সাতগাঁও এলাকায় চা–কন্যা ভাস্কর্যের সামনে ঢাকা–সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে পুলিশ ও এনসিপি নেতাদের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডার পর পরিস্থিতি নতুন মোড় নেয়। শেষ পর্যন্ত বিকেল পাঁচটার দিকে ব্যারিকেড অতিক্রম করে নেতাদের গাড়িবহর হবিগঞ্জের পথে যাত্রা শুরু করে। সেখানে পৌঁছে সংবাদ সম্মেলন করার ঘোষণা দিয়েছে দলটি।

ঘটনাটি দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে হবিগঞ্জে একই সময়ে এনসিপির কর্মসূচি এবং জেলা ছাত্রদলের পাল্টা কর্মসূচিকে ঘিরে প্রশাসনের ১৪৪ ধারা জারি, পুলিশি তৎপরতা এবং এরপরও এনসিপির অগ্রযাত্রা রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা প্রশ্নের অবতারণা করেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একদিকে জনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব, অন্যদিকে রাজনৈতিক দলগুলোর সাংবিধানিক অধিকার—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা প্রশাসনের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বুধবার বিকেল চারটার দিকে শ্রীমঙ্গলের সাতগাঁও এলাকায় চা–কন্যা ভাস্কর্যের সামনে এনসিপির গাড়িবহর থামিয়ে দেয় পুলিশ। ওই বহরে উপস্থিত ছিলেন দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ, জাতীয় নারী শক্তির সদস্যসচিব মাহমুদা মিতুসহ কেন্দ্রীয় পর্যায়ের একাধিক নেতা। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন স্থানীয় পর্যায়ের নেতা-কর্মীরাও।

পুলিশের ব্যারিকেডের সামনে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘ সময় আলোচনা ও তর্ক-বিতর্ক চলে। এ সময় এনসিপির নেতারা পুলিশের অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করেন এবং অভিযোগ করেন, তাঁদের রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রশাসন অযৌক্তিক বাধা সৃষ্টি করছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত নেতা-কর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে হবিগঞ্জে গিয়ে সংবাদ সম্মেলন করতে চাইলেও পুলিশ তাঁদের এগিয়ে যেতে নিরুৎসাহিত করে।

বাগ্‌বিতণ্ডার সময় এনসিপির মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ পুলিশের এক কর্মকর্তার উদ্দেশে প্রশ্ন তুলে বলেন, নিরাপত্তার জন্য যদি কোনো হুমকি থেকে থাকে, তাহলে সেই হুমকিদাতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে কেন তাঁদের পথরোধ করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, হবিগঞ্জে ১৪৪ ধারা জারি করা হলেও শ্রীমঙ্গলের সড়কে ব্যারিকেড বসিয়ে তাঁদের আটকে রাখা আইনের পরিপন্থী। তিনি পুলিশের কাছে জানতে চান, কোন আইনের ভিত্তিতে তাঁদের চলাচলে বাধা দেওয়া হচ্ছে।

এর জবাবে পুলিশের একজন কর্মকর্তাকে বলতে শোনা যায়, তাঁদের নির্ধারিত সীমানা অতিক্রম করলে বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তখন হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, যদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়, তাহলে পুলিশ নিরাপত্তা দিক; আর যদি তা সম্ভব না হয়, তাহলে নিজেদের দায়িত্বে তাঁরা হবিগঞ্জে যাবেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত নেতা-কর্মীদের মধ্যে এ সময় উত্তেজনা তৈরি হলেও বড় ধরনের কোনো সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি।

প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলা এই অচলাবস্থার পর এনসিপির নেতা-কর্মীরা ব্যারিকেড অতিক্রম করে হবিগঞ্জের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন। তাঁদের বহর রওনা দেওয়ার সময় সড়কে উৎসুক মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। স্থানীয়রা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও সতর্ক অবস্থানে ছিলেন।

এর আগে এনসিপি হবিগঞ্জ পৌর শহরে বুধবার বিকেল তিনটায় সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল। একই সময়ে পাল্টা কর্মসূচির ঘোষণা দেয় হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদল। দুই পক্ষের সমাবেশকে কেন্দ্র করে সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হলে জেলা প্রশাসন শহরের নির্দিষ্ট এলাকায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা জারি করে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জননিরাপত্তা, শান্তি-শৃঙ্খলা এবং সম্ভাব্য সহিংসতা এড়ানোর স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ১৪৪ ধারা কার্যকর হওয়ার পর এনসিপি সমাবেশের পরিবর্তে সংবাদ সম্মেলনের ঘোষণা দেয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি ঘিরে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক ক্রমেই বাড়ছে। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো প্রায়ই অভিযোগ করছে, তাদের কর্মসূচি পালনে প্রশাসনিক বাধা দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে প্রশাসনের দাবি, কোনো ধরনের সংঘাত বা সহিংসতা প্রতিরোধ এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাদের মূল দায়িত্ব। ফলে প্রতিটি কর্মসূচিকে ঘিরে স্থানীয় পরিস্থিতি বিবেচনা করেই প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।

এনসিপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তাঁদের কর্মসূচি ছিল সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং সংবাদ সম্মেলন আয়োজনের উদ্দেশ্যে তাঁরা হবিগঞ্জে যাচ্ছিলেন। দলটির নেতাদের ভাষ্য, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংবিধানপ্রদত্ত অধিকার। সেই অধিকার প্রয়োগে বাধা দেওয়া গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করে না।

অন্যদিকে প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলোর মতে, হবিগঞ্জে একই সময়ে দুটি রাজনৈতিক পক্ষের কর্মসূচি থাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ার বাস্তব আশঙ্কা ছিল। অতীতের বিভিন্ন রাজনৈতিক সংঘর্ষের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়েই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করেছে। যদিও এ বিষয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি, সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকে মনে করছেন, রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে এমন পরিস্থিতি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও প্রভাব ফেলে। মহাসড়কে যান চলাচল কিছু সময়ের জন্য ব্যাহত হয় এবং পথচারীদের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দেয়। তবে শেষ পর্যন্ত বড় ধরনের সহিংসতা বা সংঘর্ষ ছাড়াই নেতাদের গাড়িবহর শ্রীমঙ্গল ত্যাগ করায় স্বস্তি ফিরে আসে।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, হবিগঞ্জে পৌঁছে এনসিপির সংবাদ সম্মেলনে দলের পরবর্তী রাজনৈতিক অবস্থান, প্রশাসনের ভূমিকা এবং ১৪৪ ধারা জারির বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য আসতে পারে। একই সঙ্গে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও পরবর্তীতে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুরো ঘটনার দিকে এখন রাজনৈতিক মহল, স্থানীয় জনগণ এবং বিভিন্ন পর্যায়ের বিশ্লেষকদের নজর রয়েছে।

এই প্রতিবেদনটি সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য, বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে নিরপেক্ষতা, পেশাদারিত্ব ও তথ্যগত দায়বদ্ধতা বজায় রেখে প্রস্তুত করা হয়েছে। নতুন কোনো সরকারি বক্তব্য বা সংশ্লিষ্ট পক্ষের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।

আরো খবর জানতে ক্লিক করুন>> 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত