সমুদ্র ও নৌপথ শক্তিশালী করতে হবে: চবিতে নাহিদ ইসলাম

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬
  • ৪ বার
সমুদ্র ও নৌপথ শক্তিশালী করতে হবে: চবিতে নাহিদ ইসলাম

প্রকাশ: ০৩ আগস্ট  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশের সমুদ্র এবং নৌপথগুলোকে যথাযথ পরিকল্পনা অনুযায়ী সাজাতে পারলে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব আরও বেশি সুদৃঢ় করা সম্ভব হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চবি শাখা জাতীয় ছাত্রশক্তির উদ্যোগে আয়োজিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান: প্রতিরোধ ও ভবিষ্যৎ পথরেখা’ শীর্ষক এক বিশেষ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন। দেশের সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, জুলাই অভ্যুত্থানের ইতিহাস এবং ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র বিনির্মাণ নিয়ে নানা দিকনির্দেশনামূলক আলোচনা করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বর্তমান রাষ্ট্রীয় সংস্কার এবং বিচার ব্যবস্থার প্রসঙ্গ টেনে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম বলেন যে, দীর্ঘ আন্দোলনের পরও দেশের মানুষকে এখনও সংস্কার এবং বিচারের দাবিতে কথা বলতে হচ্ছে। জুলাই সনদ পরিপূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করা না হলে ভবিষ্যতে যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক না কেন, তাদের পরিণতিও একসময় স্বৈরতান্ত্রিক হতে বাধ্য। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বা তার পদের ভার সম্পূর্ণভাবে প্রধানমন্ত্রীর হাতে ন্যস্ত করা হয়েছে, যা দীর্ঘদিন ধরে চলা ক্ষমতার ভারসাম্যের দাবির সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী একটি পদক্ষেপ। গণঅভ্যুত্থানের মাত্র পাঁচ মাসের মধ্যেই সাধারণ জনগণ বিভিন্ন ইস্যুতে কথা বলতে শুরু করেছে বলেও তিনি নিজের বক্তব্যে স্মরণ করিয়ে দেন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিচারণ করে নাহিদ ইসলাম বলেন যে, সেই অভ্যুত্থানে তারা একটি অসমাপ্ত কাজ রেখে এসেছেন। কেন তারা সেই কাজটি পুরোপুরি সম্পন্ন করতে পারেননি, সেজন্য অনেকেই তাদের দায়ী করতে পারেন। তবে মূল বাস্তবতা ছিল যে, সেই সংকটময় মুহূর্তে তারা আশানুরূপ কোনো রাজনৈতিক সমর্থন পাননি। বর্তমানে যারা এই ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের একক কর্তৃত্ব দাবি করতে চান, তাদের অতীত ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন যে, সংকটের শুরুতে অনেকেই সবার আগে ক্যান্টনমেন্টে আশ্রয় নিয়েছিলেন। তাই দেশের প্রতিটি রাজনৈতিক দলের উচিত তাদের সেই সময়ের ভূমিকা গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন যে, শেখ হাসিনা শেষ পর্যন্ত ক্ষমতা ছাড়বেন এমন প্রত্যাশা অনেকেরই ছিল, তবে ক্ষমতার কাঠামোর মৌলিক পরিবর্তন ঘটবে কিংবা তিনি দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাবেন, এমনটি অনেকেরই ধারণার বাইরে ছিল। বরং একটি নির্দিষ্ট পক্ষের পরিকল্পনা ছিল আওয়ামী লীগকে বিরোধী দলে রেখে পরবর্তীতে কোনো না কোনো উপায়ে তাদের পুনরায় ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনা।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা উল্লেখ করে প্রধান অতিথি বলেন যে, এই বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল দায়িত্ব হলো পুরো চট্টগ্রাম বিভাগকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া। ঢাকা শহরের পরেই সবচেয়ে বেশি আন্দোলন এবং প্রতিবাদের দুর্গ হিসেবে গড়ে উঠেছিল চট্টগ্রাম শহর, যার মূল সূত্রপাত হয়েছিল এই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই। আগামী দিনেও যদি দেশের মানুষের পক্ষে বা জনগণের অধিকার আদায়ের জন্য কোনো ধরনের কঠিন পরিস্থিতি তৈরি হয়, তবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় তাতে অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে এবং নেতৃত্ব দেবে।

দেশের ভৌগোলিক অবস্থান এবং অর্থনীতির ওপর সমুদ্রের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন যে, বাংলাদেশের তিন দিকই ভারত দ্বারা বেষ্টিত, এবং একমাত্র উন্মুক্ত প্রান্ত হলো সমুদ্র, যার মাধ্যমে সারা পৃথিবীর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রক্ষা করা সম্ভব হয়। আর এই কারণেই বাংলাদেশকে কখনোই ভারতের দিল্লির ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল হতে হয়নি। সমুদ্রবন্দর ও নৌপথের কল্যালেই দেশ স্বাধীনভাবে টিকে থাকতে পারছে। তাই আমাদের সমুদ্র ও নৌপথকে যদি সুপরিকল্পিতভাবে শক্তিশালী করে গড়ে তোলা যায়, তবে জাতীয় সার্বভৌমত্ব অনেক গুণ বেড়ে যাবে। আর এই অগ্রযাত্রার নেতৃত্ব তরুণ প্রজন্ম ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই শুরু হতে হবে।

উক্ত আলোচনা সভায় অন্যান্যদের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের প্রখ্যাত অধ্যাপক মোজাম্মেল হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ সোহাইব, এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদ সদস্য সারোয়ার তুষার ও আলী আহসান জুনায়েদ, এবং জাতীয় ছাত্র শক্তির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদারসহ আরও অনেক নেতৃবৃন্দ। বক্তারা প্রত্যেকেই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠান শেষে জুলাইয়ের শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত