বৃষ্টির ছোঁয়ায় স্বস্তি ফিরছে,সারাদেশে তাপমাত্রা হ্রাসের সম্ভাবনা

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৪ আগস্ট, ২০২৫
  • ৬৬ বার

প্রকাশ: ০৪ আগস্ট ২০২৫ | একটি বাংলাদেশ ডেস্ক | একটি বাংলাদেশ অনলাইন

একটানা খরতাপে নাকাল জনজীবনের জন্য আশার বার্তা নিয়ে এসেছে আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ পূর্বাভাস। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাত শুরু হওয়ায় গরমের তীব্রতা কিছুটা প্রশমিত হতে শুরু করেছে এবং আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সারাদেশে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনার কথা জানানো হয়েছে। এতে দিন ও রাতের তাপমাত্রাও সামান্য হ্রাস পেতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।

সোমবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে জানানো হয়, রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ এলাকায় এবং খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক স্থানে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি কিংবা বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। সেইসঙ্গে দেশের কিছু অঞ্চলে মাঝারি ধরনের ভারি থেকে অতিভারি বর্ষণের পূর্বাভাসও দেওয়া হয়েছে, যা স্থানীয় নদ-নদী ও খালবিলের পানি বৃদ্ধির আশঙ্কাও তৈরি করতে পারে।

আবহাওয়াবিদদের মতে, এই বৃষ্টির প্রবণতা প্রধানত মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তার কারণে। বর্তমানে মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ ভারতীয় উপমহাদেশের রাজস্থান, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ হয়ে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে, যার একটি শাখা উত্তর বঙ্গোপসাগরে গিয়ে পৌঁছেছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে মাঝারি মাত্রায়, যা এই বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনাকে আরও জোরদার করছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে কোথায় কতটা বৃষ্টিপাত হয়েছে, তার পরিসংখ্যানও আশাব্যঞ্জক। রোববার সকাল ৬টা থেকে সোমবার সকাল ৬টা পর্যন্ত সময়ে দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে বগুড়ায়—১১৯ মিলিমিটার। এই পরিমাণ বৃষ্টি অনেকটাই শান্তি এনে দিয়েছে উত্তরাঞ্চলের গরমে ক্লান্ত মানুষদের জন্য। অন্যদিকে, একই সময়ের মধ্যে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা রেকর্ড করা হয়েছে টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ী ও কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে টাঙ্গাইলে, যেখানে পারদ নেমেছে ২২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।

আবহাওয়াবিদরা মনে করছেন, মৌসুমি বায়ুর বর্তমান সক্রিয়তা এবং বঙ্গোপসাগরের অবস্থান বৃষ্টিপাতের ধারা আগামী কয়েকদিন অব্যাহত রাখতে পারে। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের প্রধান শহরগুলোতে যাতায়াত ও কাজের গতি কিছুটা ব্যাহত হলেও এই বৃষ্টিপাত সাময়িক স্বস্তি এনে দেবে নাগরিকদের জন্য। পাশাপাশি কৃষিকাজে সহায়ক হবে এই পানি, বিশেষত যেসব অঞ্চলে আমন ধান চাষ শুরু হয়েছে, সেখানে বৃষ্টির সময়মতো উপস্থিতি কৃষকদের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করছে।

তবে আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, অতিভারি বৃষ্টির কারণে কিছু এলাকায় জলাবদ্ধতা বা পাহাড়ি ঢলের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে, বিশেষ করে চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে। এজন্য স্থানীয় প্রশাসন ও জনগণকে প্রস্তুত থাকার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।

সবমিলিয়ে, দীর্ঘ গ্রীষ্মকালীন অস্বস্তি ও অস্বাভাবিক উষ্ণতার পর এই বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস যেন প্রকৃতির এক পরম আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। তবে আগামী দিনগুলোতে আবহাওয়ার প্রকৃত রূপ কেমন হবে, তা জানতে হলে নিয়মিতভাবে অধিদপ্তরের পূর্বাভাস পর্যবেক্ষণ করা জরুরি হয়ে পড়ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত