প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করতে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের প্রকৃত অর্জনগুলো জোরালোভাবে তুলে ধরতে সরকারের নীতিনির্ধারণী মহলে কূটনৈতিক তৎপরতা ও যোগাযোগ কৌশল জোরদার করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হয়েছেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের মনোনীত নবনিযুক্ত স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত ড. আইরিন জুবাইদা খান। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে মন্ত্রীর নিজ দপ্তরে অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ ও হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা, যাঁদের সম্মিলিত উপস্থিতিতে আলোচনাটি আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ ও ফলপ্রসূ হয়ে ওঠে। সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের এই কূটনৈতিক যোগাযোগ দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও সুসংহত করবে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।
বৈঠকের মূল আলোচ্যসূচির কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য যোগদান এবং তা কেন্দ্র করে গৃহীত সার্বিক প্রস্তুতি। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের কার্যক্রম, নীতি এবং প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি ও অগ্রাধিকারসমূহ যাতে অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সঙ্গে যথাযথভাবে তুলে ধরা যায়, সে বিষয়ে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা হয়। ড. আইরিন জুবাইদা খান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি আরও জোরালোভাবে উপস্থাপন করার ক্ষেত্রে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সর্বাত্মক সহযোগিতা ও সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা কামনা করেন। জবাবে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন সরকারের পক্ষ থেকে পূর্ণাঙ্গ সহযোগিতার দৃঢ় আশ্বাস প্রদান করেন। তিনি জানান যে আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় দেশের সঠিক ও বাস্তবসম্মত চিত্র ফুটিয়ে তুলতে মন্ত্রণালয় সব ধরনের প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে, যাতে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের কোনো ধরনের ভুল বা বিকৃত বার্তা না পৌঁছায়।

প্রধানমন্ত্রীর এই গুরুত্বপূর্ণ বিদেশ সফরকে কেন্দ্র করে বিশ্ববাসীর কাছে দেশের অগ্রযাত্রার বার্তা পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে সঠিক মিডিয়া ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয় বৈঠকে। বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো সঠিকভাবে উপস্থাপনের পাশাপাশি দেশের চলমান গণতান্ত্রিক ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির দিকগুলো কিভাবে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম হতে পারে, তার সুনির্দিষ্ট কৌশল নিয়েও মতবিনিময় হয়। বিশেষ করে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ এবং বৈশ্বিক নানা সংকটে বাংলাদেশের কূটনৈতিক পরিপক্বতা আন্তর্জাতিক মহলে কীভাবে উপস্থাপন করা যায়, তার একটি সুসংহত রূপরেখা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। রাষ্ট্রদূতের এই সফরে আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশের নিজস্ব অবস্থানকে আরও উঁচুতে তুলে ধরার ক্ষেত্রে তথ্য মন্ত্রণালয়ের প্রচার বিভাগ কীভাবে সমন্বিতভাবে কাজ করতে পারে, তার একটি সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনাও নির্ধারিত হয়েছে এই বৈঠকের মাধ্যমে।
বর্তমান ডিজিটাল যুগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে পরিকল্পিতভাবে ছড়িয়ে পড়া অপপ্রচার, গুজব এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য গোটা রাষ্ট্রব্যবস্থার জন্যই একটি বড় চ্যালেঞ্জ ও মারাত্মক উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে বৈঠকে একমত পোষণ করা হয়। রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা রক্ষায় এই ধরনের ডিজিটাল প্রোপাগান্ডা বা অপতথ্য মোকাবিলা করা অত্যন্ত জরুরি বলে মন্তব্য করেন উভয় পক্ষ। মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য কীভাবে খুব দ্রুত সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ায় এবং এর ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি কীভাবে ক্ষুণ্ন হতে পারে, তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। এই অপপ্রচার রোধে একটি কার্যকর ও শক্তিশালী যোগাযোগ কৌশল প্রণয়ন, গণমাধ্যমে দ্রুত এবং সঠিক তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত করা এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশের সঠিক অবস্থান দৃঢ়ভাবে তুলে ধরার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এ সময় অপতথ্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের কাউন্টার বা কার্যকর মোকাবিলায় সরকারের পক্ষ থেকে গৃহীত নানা বহুমুখী ও সময়োপযোগী পদক্ষেপসমূহ তুলে ধরেন। তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে শুধুমাত্র এককভাবে সরকারের পক্ষে এই বহুমাত্রিক অপপ্রচারের মোকাবিলা করা সম্ভব নয়, এর জন্য প্রয়োজন একটি সমন্বিত ও সর্বাত্মক উদ্যোগ। অপপ্রচারের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সরকার, মূলধারার গণমাধ্যম এবং সমাজের দায়িত্বশীল সব পক্ষকে একসঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা এবং সঠিক তথ্য প্রচারে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের মাধ্যমে কীভাবে সামাজিক অস্থিরতা দূর করা সম্ভব, সে বিষয়েও বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সরকারের নীতি ও গণমাধ্যমের পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমেই কেবল ডিজিটাল যুগের এই তথ্যসন্ত্রাস কার্যকরভাবে দমন করা সম্ভব বলে বৈঠকে একবাক্যে স্বীকার করা হয়।

পরিশেষে, এই সৌজন্য সাক্ষাৎ ও উচ্চপর্যায়ের বৈঠকটি বাংলাদেশ কূটনীতি এবং আন্তর্জাতিক গণসংযোগের ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করেছে বলেই মনে করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংস্থায় দেশের প্রতিনিধিত্বকারী শীর্ষ কূটনীতিক এবং দেশের গণমাধ্যম ও তথ্য মন্ত্রণালয়ের প্রধানের মধ্যকার এই সমন্বয় আগামী দিনে বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের ইতিবাচক ও উন্নয়ণমুখী ধারাকে তুলে ধরতে অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে। জাতিসংঘের আসন্ন সাধারণ পরিষদের অধিবেশনকে কেন্দ্র করে সরকারের যে কূটনৈতিক ও প্রচারণামূলক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে, তা দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বকে আরও দৃঢ় করবে। অপপ্রচার এবং ষড়যন্ত্রের জাল ভেদ করে বাংলাদেশ যে আত্মবিশ্বাসী পদক্ষেপে এগিয়ে চলছে, এই বৈঠক তারই একটি সুস্পষ্ট ও উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে আশা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা।