বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকটে সংসদের বিশেষ অধিবেশন চান জামায়াত

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬
  • ৩ বার
বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকটে সংসদের বিশেষ অধিবেশন চান জামায়াত

প্রকাশ: ১৫ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশে চলমান তীব্র বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট, এর প্রভাবে জনজীবনে ভোগান্তি এবং সার্বিক আর্থসামাজিক ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জাতীয় সংসদের বিশেষ অধিবেশন আহ্বানের দাবি জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। এ দাবিতে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে চিঠি দিয়েছেন সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

শুক্রবার ১৪ আগস্ট দলটির কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিরোধীদলীয় নেতার পাঠানো চিঠির অনুলিপি প্রধানমন্ত্রী এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়েও দেওয়া হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

চিঠিতে ডা. শফিকুর রহমান দেশের বর্তমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক হিসেবে উল্লেখ করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, দেশজুড়ে তীব্র বিদ্যুৎ সংকটের কারণে লাগামহীন লোডশেডিং চলছে। এতে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিল্পকারখানা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও উৎপাদন কার্যক্রমও ক্ষতির মুখে পড়ছে।

জামায়াতের বিরোধীদলীয় নেতার দাবি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের প্রভাব শুধু বিদ্যুৎ সরবরাহের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। এর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাব পড়ছে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন ব্যয়ের ওপর। উৎপাদন ব্যাহত হওয়া, পরিবহন ও অন্যান্য খাতে ব্যয় বাড়া এবং বাজারে পণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হওয়ার কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দামও বাড়ছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

দেশের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ না থাকার কারণে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় যে চাপ তৈরি হচ্ছে, সেটিও চিঠিতে তুলে ধরা হয়েছে। বাসাবাড়িতে বিদ্যুৎ না থাকায় গরমের মধ্যে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের দৈনন্দিন কাজেও বিঘ্ন ঘটছে। শিল্পাঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহে অনিয়ম হলে উৎপাদন পরিকল্পনা ব্যাহত হয় এবং কারখানার পরিচালন ব্যয়ও বেড়ে যেতে পারে।

জামায়াতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের সঙ্গে দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। তাদের দাবি, একের পর এক সংকট সাধারণ মানুষের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি করছে। এ পরিস্থিতিতে জাতীয় সংসদে দেশের বর্তমান সমস্যা নিয়ে অর্থবহ আলোচনা প্রয়োজন।

চিঠিতে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে বর্তমান সংকটের সময়ে সংসদ সদস্যদের নীরব থাকার সুযোগ নেই। দেশের মানুষের সমস্যা ও উদ্বেগ জাতীয় সংসদে তুলে ধরে দ্রুত সমাধানের পথ খুঁজে বের করা প্রয়োজন বলেও তিনি মত দেন।

এই প্রেক্ষাপটে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটসহ এর সঙ্গে সম্পর্কিত অন্যান্য সমস্যা নিয়ে আলোচনা এবং দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদের একটি বিশেষ অধিবেশন আহ্বানের জন্য অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ডা. শফিকুর রহমান।

জামায়াতের এই দাবি এমন সময়ে এসেছে, যখন দেশের বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে জনমনে উদ্বেগ রয়েছে। গ্যাস সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হলে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও তার প্রভাব পড়ে। গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পর্যাপ্ত জ্বালানি না পেলে উৎপাদন কমে যেতে পারে, আর তখন জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুতের চাহিদা ও সরবরাহের ব্যবধান বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের পারস্পরিক সম্পর্ক দেশের জ্বালানি ব্যবস্থাপনাকে আরও জটিল করে তুলেছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের বড় একটি অংশ গ্যাসনির্ভর হওয়ায় গ্যাস সরবরাহে কোনো বড় ধরনের সমস্যা হলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থায়ও তার প্রভাব পড়ে। একই সঙ্গে এলএনজি আমদানি, গ্যাসের দেশীয় উৎপাদন, বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জ্বালানি চাহিদা এবং জাতীয় গ্রিডের সরবরাহ পরিস্থিতি—সবকিছু মিলিয়ে সংকট মোকাবিলায় সমন্বিত পরিকল্পনার প্রয়োজন হয়।

বর্তমান পরিস্থিতিতে সংসদের বিশেষ অধিবেশন আহ্বানের দাবি জানিয়ে জামায়াত মূলত জাতীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক ও নীতিনির্ধারণী আলোচনা চেয়েছে। দলটির মতে, সংকটকে সাময়িকভাবে মোকাবিলা করার পাশাপাশি এর দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পথও নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের ক্ষেত্রে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বৃদ্ধি, জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমানো, বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর সক্ষমতা কাজে লাগানো এবং সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন গুরুত্বপূর্ণ বলে সংশ্লিষ্ট মহলে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা রয়েছে। তবে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে সময়, বিনিয়োগ এবং সমন্বিত নীতিগত সিদ্ধান্ত প্রয়োজন।

অন্যদিকে তাৎক্ষণিক সংকট মোকাবিলায় পর্যাপ্ত জ্বালানি সংগ্রহ ও সরবরাহ নিশ্চিত করা, বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ধরে রাখা এবং চাহিদা অনুযায়ী গ্রিড ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দিতে হয়। বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে এর প্রভাব শিল্প উৎপাদন থেকে শুরু করে কৃষি, পরিবহন, ক্ষুদ্র ব্যবসা এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় ছড়িয়ে পড়তে পারে।

জামায়াতের চিঠিতে শুধু বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নয়, এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আর্থসামাজিক সমস্যা নিয়েও সংসদে আলোচনা করার কথা বলা হয়েছে। দলটির বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমান পরিস্থিতি জনগণের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে এবং দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ ছাড়া পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।

বিশেষ অধিবেশন আহ্বানের দাবি বাস্তবায়িত হলে সেখানে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতির পাশাপাশি অর্থনীতি, দ্রব্যমূল্য, শিল্প উৎপাদন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হতে পারে। তবে এ ধরনের অধিবেশন আহ্বানের প্রক্রিয়া ও সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট সাংবিধানিক ও সংসদীয় বিধিবিধানের আওতাতেই হতে হবে।

জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা এই সংকটকে শুধু একটি খাতের সমস্যা হিসেবে দেখছে না। তাদের বিবেচনায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহের সঙ্গে দেশের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, বাজারব্যবস্থা এবং মানুষের জীবনযাত্রার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। তাই জাতীয় সংসদে বিষয়টি নিয়ে দ্রুত আলোচনা হওয়া প্রয়োজন।

সাধারণ মানুষের দৃষ্টিতে বিদ্যুৎ সংকটের সবচেয়ে দৃশ্যমান প্রভাব পড়ছে দৈনন্দিন জীবনে। দিনের দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকলে বাসাবাড়ির স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও কারখানায় বিদ্যুৎ সরবরাহ অনিয়মিত হলে উৎপাদন ও বিক্রিতে প্রভাব পড়ে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির অতিরিক্ত ব্যয় শেষ পর্যন্ত পণ্যের মূল্যেও প্রভাব ফেলতে পারে।

এ কারণে সংকটের স্থায়ী সমাধানের পাশাপাশি স্বল্পমেয়াদি ব্যবস্থাপনা জোরদার করার প্রয়োজনীয়তাও সামনে এসেছে। রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে সরকারের কাছে জবাবদিহি ও কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানানো হচ্ছে। সংসদের বিশেষ অধিবেশন আহ্বানের দাবি সেই রাজনৈতিক চাপ ও আলোচনারই একটি অংশ হিসেবে সামনে এসেছে।

এখন দেখার বিষয়, বিরোধীদলীয় নেতার এই চিঠির পর অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির কার্যালয় ও সরকারের পক্ষ থেকে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়। জাতীয় সংসদে বিশেষ অধিবেশন আহ্বান করা হবে কি না, কিংবা বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিয়ে অন্য কোনো সংসদীয় প্রক্রিয়ায় আলোচনা হবে কি না—তা পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।

তবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের দ্রুত সমাধান যে সাধারণ মানুষের জন্য জরুরি, তা নিয়ে বিতর্কের সুযোগ কম। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, কার্যকর জ্বালানি ব্যবস্থাপনা এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে একই সঙ্গে জনজীবনের স্বস্তি, শিল্প উৎপাদন এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। আর এ লক্ষ্যেই জাতীয় সংসদে বিশেষ অধিবেশন আহ্বানের দাবি জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত