তারেক রহমানের উন্নয়ন ভাবনায় ছাত্রদলের শোভাযাত্রা

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬
  • ২ বার
তারেক রহমানের উন্নয়ন ভাবনায় ছাত্রদলের শোভাযাত্রা

প্রকাশ: ১৫ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উন্নয়ন ভাবনা এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। কর্মসূচিতে তরুণদের কর্মসংস্থান, কৃষকের উন্নয়ন, পল্লী অবকাঠামো, শিক্ষা, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের কল্যাণের মতো বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়।

শুক্রবার বিকেল ৪টার দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে শোভাযাত্রাটি শুরু হয়। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. তরিকুল ইসলাম তারিক এতে নেতৃত্ব দেন। শোভাযাত্রাটি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে বের হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবন ও উপাচার্য চত্বর প্রদক্ষিণ করে রাজু ভাস্কর্যে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীদের হাতে বিভিন্ন ধরনের প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। এসব প্ল্যাকার্ডে তারেক রহমানের উন্নয়ন ভাবনা, তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থান, কৃষি ও পল্লী উন্নয়ন, জনকল্যাণ এবং দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিভিন্ন বার্তা তুলে ধরা হয়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, দেশের উন্নয়ন ও জনকল্যাণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ সম্পর্কে শিক্ষার্থী ও তরুণ সমাজের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করাই ছিল কর্মসূচির অন্যতম উদ্দেশ্য।

ছাত্রদলের নেতারা জানান, দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে তরুণদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তাই উন্নয়ন পরিকল্পনা, কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও দক্ষতা বৃদ্ধির মতো বিষয়গুলোতে তরুণদের সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন। সেই লক্ষ্যেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।

শোভাযাত্রায় ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। আয়োজকদের দাবি, কর্মসূচিতে প্রায় ৮০০ নেতাকর্মী অংশ নেন। শোভাযাত্রা চলাকালে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়কে নেতাকর্মীদের উপস্থিতি দেখা যায়।

রাজু ভাস্কর্যের সামনে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য দেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. তরিকুল ইসলাম তারিক। তিনি বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি সমৃদ্ধ, আত্মমর্যাদাশীল ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় নিয়ে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

তরিকুল ইসলাম তারিকের বক্তব্যে উন্নয়নের ধারণাকে শুধু বড় অবকাঠামো নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। তিনি বলেন, কৃষকের জীবনমানের উন্নয়ন, তরুণদের কর্মসংস্থান, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করাও উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতির সঙ্গে কৃষকের শ্রম ও ঘাম সরাসরি যুক্ত। তাই কৃষির আধুনিকায়ন এবং প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি ব্যবস্থার বিকাশের পাশাপাশি কৃষকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে পল্লী অবকাঠামো ও স্থানীয় পর্যায়ের উন্নয়ন কার্যক্রমকে গুরুত্ব দেওয়ার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

সমাবেশে পল্লী উন্নয়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরা হয়। কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, খাল পুনঃখনন, পল্লী অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং নারী ও যুবসমাজের দক্ষতা বৃদ্ধির মতো বিষয়গুলোকে উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন তরিকুল ইসলাম তারিক।

তরুণদের কর্মসংস্থানের বিষয়টিও সমাবেশে বিশেষ গুরুত্ব পায়। দেশের বিপুলসংখ্যক তরুণকে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করতে শিক্ষা ও কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন তিনি। তাঁর বক্তব্যে তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি এবং তাদের দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির প্রধান শক্তিতে পরিণত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

তরিকুল ইসলাম তারিক বলেন, তরুণদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে হলে শুধু চাকরির সুযোগ সৃষ্টি করলেই হবে না; তাদের প্রয়োজনীয় শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা অর্জনের সুযোগও নিশ্চিত করতে হবে। তরুণদের সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

কৃষি ও পরিবেশের বিষয়টিও তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে। তিনি বলেন, কৃষকের শ্রমে দেশের অর্থনীতি এগিয়ে যায়। তাই কৃষিকে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ, নিরাপদ ও জলবায়ু-সহনশীল বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বাংলাদেশের কৃষি ও গ্রামীণ জীবনে ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। বন্যা, নদীভাঙন, খরা কিংবা অনিয়মিত বৃষ্টিপাতের মতো প্রাকৃতিক পরিবর্তনের সঙ্গে কৃষকদের মানিয়ে নিতে আধুনিক প্রযুক্তি ও পরিকল্পিত সহায়তা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে কৃষির উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণকেও উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ করার আহ্বান জানানো হয়।

সমাবেশে সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। তরিকুল ইসলাম তারিক বলেন, এমন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে যেখানে কোনো মা তাঁর সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকবেন না, কোনো তরুণ কর্মসংস্থানের আশায় হতাশ হবেন না এবং কোনো কৃষক তাঁর ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হবেন না।

তাঁর মতে, উন্নয়নের সুফল রাজধানী কিংবা বড় শহরকেন্দ্রিক হলে দেশের সামগ্রিক অগ্রগতি নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছেও উন্নয়নের সুযোগ পৌঁছে দিতে হবে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, কর্মসংস্থান এবং সামাজিক নিরাপত্তার সুযোগ গ্রাম পর্যায়ে সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন তিনি।

তরুণ সমাজকে দেশের ভবিষ্যৎ নির্মাণে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ছাত্রদলের এই নেতা বলেন, পরিবর্তন ও উন্নয়নের ধারাকে এগিয়ে নিতে তরুণদের ঐক্যবদ্ধ ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। রাজনৈতিক বিভাজনের বাইরে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি তুলে ধরেন।

তরিকুল ইসলাম তারিক বলেন, বিভেদ ভুলে সবাইকে নিয়ে একটি সুন্দর, সমৃদ্ধ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। তাঁর বক্তব্যে দেশের উন্নয়নকে মানুষের জীবনমানের সঙ্গে যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা জানান, তরুণদের মধ্যে দেশের উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম নিয়ে সচেতনতা তৈরিতে ভবিষ্যতেও বিভিন্ন কর্মসূচি আয়োজন করা হবে। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ও তরুণদের দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখার বিষয়ে উৎসাহিত করার পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাসে ছাত্রসংগঠনটির এমন কর্মসূচি রাজনৈতিক অঙ্গনে তরুণদের সক্রিয়তার বিষয়টিকেও সামনে এনেছে। শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে তাদের ভাবনা ও অংশগ্রহণের ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত করার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও আলোচনা রয়েছে।

শোভাযাত্রা ও সমাবেশ শেষে ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দেশের উন্নয়ন, তরুণদের সম্ভাবনা এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডকে সামনে রেখে সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত