প্রকাশ: ১৭ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ে মুগ্ধ পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক ও কিংবদন্তি পেসার ওয়াসিম আকরাম। বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটে উন্নতির প্রশংসা করার পাশাপাশি পেসার হাসান মাহমুদের অসাধারণ বোলিংয়েরও বিশেষভাবে প্রশংসা করেছেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বাংলাদেশের জয়ের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আকরাম বলেন, শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের এই জয় সত্যিই অসাধারণ। তার মতে, এই সাফল্য প্রমাণ করে টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশ কতটা উন্নতি করেছে এবং এই সংস্করণকে তারা কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে।
আকরাম বাংলাদেশের ওপেনার তানজিদ হাসান ও পেসার হাসান মাহমুদের পারফরম্যান্সের কথাও আলাদাভাবে তুলে ধরেন। ঐতিহাসিক নয় উইকেটের জয়ে দুজনই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
প্রথম ইনিংসে দুর্দান্ত সেঞ্চুরি করেন তানজিদ হাসান। অন্যদিকে বল হাতে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটসম্যানদের চাপে রাখেন হাসান মাহমুদ। সঠিক জায়গায় ধারাবাহিকভাবে বল করে স্বাগতিক ব্যাটারদের সমস্যায় ফেলেন তিনি।
হাসান মাহমুদের বোলিংয়ের প্রশংসা করে ওয়াসিম আকরাম বলেন, তার লেংথ ছিল অসাধারণ। অতিরিক্ত বৈচিত্র্যের পরিবর্তে টেস্ট ক্রিকেটের উপযোগী সঠিক লাইন ও লেংথে বল করার দক্ষতাই তাকে মুগ্ধ করেছে।
টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশের পেস আক্রমণের সামনে মাত্র ৫৩ ওভারে ১৯৮ রানে অলআউট হয় অস্ট্রেলিয়া। হাসান মাহমুদ ছিলেন বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণের প্রধান অস্ত্র। ১৭ ওভারে ৫৫ রান দিয়ে তিনি শিকার করেন ছয় উইকেট। তাসকিন আহমেদ ও এবাদত হোসেন নেন দুটি করে উইকেট।
জবাবে ব্যাট হাতে বড় সংগ্রহ গড়ে বাংলাদেশ। ১৩৮ ওভারে ৪২৬ রান করে ২২৮ রানের লিড নেয় তারা। ইনিংসে বাংলাদেশের হয়ে ব্যাট হাতে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন তানজিদ হাসান তামিম। ১৯৭ বলে আটটি চার ও একটি ছক্কার সাহায্যে ১০১ রানের দারুণ ইনিংস খেলেন তিনি।
দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়া ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও বাংলাদেশের বোলিংয়ের সামনে শেষ পর্যন্ত ২৮৪ রানে গুটিয়ে যায়। ৯৫.১ ওভার ব্যাট করে স্বাগতিকরা এই রান সংগ্রহ করে। ক্যামেরন গ্রিন ২০১ বলে ১০৪ রানের লড়াকু ইনিংস খেললেও দলকে বড় লিড এনে দিতে পারেননি।
এবার বাংলাদেশের স্পিন আক্রমণে নেতৃত্ব দেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ৩৩.১ ওভার বল করে ৬৬ রান দিয়ে পাঁচ উইকেট নেন তিনি। হাসান মাহমুদ আরও তিন উইকেট শিকার করেন। ফলে ম্যাচে তার মোট উইকেটের সংখ্যা দাঁড়ায় নয়টি।
অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংস শেষ হওয়ার পর বাংলাদেশের সামনে জয়ের জন্য লক্ষ্য দাঁড়ায় মাত্র ৫৭ রান। মাত্র ১৪.২ ওভারে এক উইকেট হারিয়ে সেই লক্ষ্য টপকে যায় বাংলাদেশ। মমিনুল হক অপরাজিত ৩০ এবং শাদমান ইসলাম ২৫ রান করেন।
এই জয়ের মধ্য দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশ ক্রিকেটের ইতিহাসে নতুন একটি অধ্যায় যুক্ত হয়েছে। আর সেই সাফল্যই প্রশংসা কুড়িয়েছে ওয়াসিম আকরামের মতো বিশ্বখ্যাত সাবেক ক্রিকেটারের।
আকরামের মন্তব্য বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটে সাম্প্রতিক উন্নতির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হিসেবেও দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে হাসান মাহমুদের নয় উইকেটের ম্যাচজয়ী পারফরম্যান্স বাংলাদেশের পেস বোলিংয়ের সক্ষমতাকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে।