ঋণের প্রলোভনে বাউফলে অর্ধকোটি টাকা নিয়ে উধাও ‘এনজিও’

ফারহান ফারাবী
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬
  • ৩০ বার

প্রকাশ: ১৭ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

পটুয়াখালীর বাউফলে ঋণ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে স্থানীয়দের কাছ থেকে প্রায় ৫০ লাখ টাকা সংগ্রহ করে একটি নামধারী এনজিওর কর্মকর্তারা পালিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ‘সমাজ কল্যাণ উন্নয়ন সংস্থা’ নামের প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে বিমা ও সঞ্চয়ের কথা বলে টাকা নেওয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক মাস আগে বাউফল পৌরসভার মুসলিমপাড়া মোড় এলাকায় জালাল আহমেদের একটি ভবন ভাড়া নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি কার্যক্রম শুরু করে। দুই বছর মেয়াদি ঋণ দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন গ্রাহকের কাছ থেকে সঞ্চয় ও বিমার নামে টাকা সংগ্রহ করেন কথিত সংস্থাটির কর্মীরা।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুর ৩টায় ঋণ বিতরণ করা হবে বলে তাদের অফিসে আসতে বলা হয়েছিল। ঋণ বিতরণের প্রস্তুতি হিসেবে অফিসে চেয়ার-টেবিলও আনা হয় এবং ডেকোরেটর ভাড়া করা হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে গ্রাহকেরা অফিসে গিয়ে কাউকে দেখতে পাননি। তার আগেই কথিত সংস্থার কর্মকর্তারা অফিস ছেড়ে পালিয়ে যান।

ভুক্তভোগীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাবেয়া বেগমের কাছ থেকে ১১ হাজার টাকা, বাবুল সিপাইয়ের কাছ থেকে ১১ হাজার, মাসুদুর রহমানের কাছ থেকে ২০ হাজার, মলিন্দ্রের কাছ থেকে ২০ হাজার, মনু বেগমের কাছ থেকে ১২ হাজার, তাসলিমা বেগমের কাছ থেকে ১১ হাজার এবং আব্দুল আজিজের কাছ থেকে দুই নামে ৩৭ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আরও বহু মানুষের কাছ থেকেও টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

ঋণের আশায় টাকা দিয়েছিলেন ভুক্তভোগীরা

ভুক্তভোগী আব্দুল আজিজ জানান, ‘সমাজ কল্যাণ সংস্থা’ নামে একজন মাঠকর্মী তাদের ঋণ দেওয়ার কথা বলেছিলেন। রোববার সকাল ১০টার মধ্যে সঞ্চয়ের টাকা জমা দিতে এবং বিকেল ৩টায় ঋণের অর্থ দেওয়ার কথা ছিল।

তিনি বলেন, চার লাখ টাকা ঋণের আশায় দুই নামে মোট ৩৭ হাজার টাকা দিয়েছেন। কিন্তু সন্ধ্যা পর্যন্ত অপেক্ষা করেও সংস্থার কাউকে পাওয়া যায়নি।

রাবেয়া বেগম জানান, দুই বছর মেয়াদে ঋণ দেওয়ার কথা বলে প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা তাদের বাড়িতে গিয়েছিলেন। এক লাখ টাকা ঋণ নিলে মাসে পাঁচ হাজার টাকা করে পরিশোধ করতে হবে বলে তাকে জানানো হয়। এর জন্য ১১ হাজার টাকা দিতে বলা হয়েছিল। এর মধ্যে এক হাজার টাকা বিমা এবং ১০ হাজার টাকা সঞ্চয় হিসেবে নেওয়া হয়।

রাবেয়া বলেন, গাড়ি কেনার জন্য তার ঋণের প্রয়োজন ছিল। তাই সংস্থাটির কথায় তিনি টাকা জমা দেন। পরে ঋণের অর্থ নিতে অফিসে গিয়ে জানতে পারেন, কর্মকর্তারা পালিয়ে গেছেন।

ভবন ভাড়া নিয়েছিল কথিত সংস্থাটি

প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয়ের জন্য ভবনটি ভাড়া দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছেন মালিকের স্ত্রী সৈয়দা শৈলী। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মৌখিক চুক্তিতে মাসিক ২০ হাজার টাকা ভাড়া এবং দুই লাখ টাকা অগ্রিম দেওয়ার শর্তে প্রতিষ্ঠানটিকে জায়গা দেওয়া হয়।

তবে সংস্থাটি কী ধরনের নিবন্ধন বা অনুমোদনের ভিত্তিতে কার্যক্রম পরিচালনা করছিল, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারাও পালিয়ে যাওয়ায় তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীদের মধ্যে অর্থ হারানোর পাশাপাশি ঋণ পাওয়ার আশায় নেওয়া বিভিন্ন প্রস্তুতির বিষয়েও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তাদের অভিযোগ, কয়েক মাস ধরে মাঠকর্মীদের মাধ্যমে গ্রাহক সংগ্রহ ও টাকা নেওয়ার পর ঋণ বিতরণের নির্ধারিত দিনে অফিস বন্ধ করে তারা চলে যায়।

অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা: পুলিশ

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে কথিত এনজিওটির কার্যক্রম এবং অর্থ সংগ্রহের বৈধতা নিয়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। তাদের দাবি, দ্রুত প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তাদের শনাক্ত করে তাদের কাছ থেকে নেওয়া টাকা উদ্ধারের ব্যবস্থা করা হোক।

বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন >> 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত