প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
হবিগঞ্জে পুলিশের হাতে আটকের প্রায় ২১ ঘণ্টা পর মুক্তি পেয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের (বৈছাআ) হবিগঞ্জের সদস্যসচিব মাহদি হাসান। একই সঙ্গে আটক অপর দুই নেতা মির্জা সুমন ও মো. রাজু আহমেদকেও মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানা থেকে তাদের মুক্তি দেওয়া হয়। এ সময় থানার ফটকের সামনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মী, আটক নেতাদের স্বজন এবং সাংবাদিকদের উপস্থিতি দেখা যায়।
এর আগে সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে হবিগঞ্জ শহরের কোর্ট মসজিদ এলাকা থেকে মাহদি হাসান, মির্জা সুমন ও রাজু আহমেদকে আটক করে পুলিশ। প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া বিক্ষোভ মিছিল আয়োজন এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কার অভিযোগে তাদের আটক করা হয়। পরে তিনজনকে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
পুলিশের ভাষ্য, বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে—এমন আশঙ্কা থাকায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কর্মসূচির অনুমতি দেওয়া হয়নি। এরপরও মাহদি হাসানসহ তার সহযোগীরা কোর্ট মসজিদ এলাকায় জড়ো হন। একপর্যায়ে পুলিশ তাদের আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
থানা থেকে মুক্তি পাওয়ার পর মাহদি হাসান জানান, শহরে অসহনীয় লোডশেডিং, বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি, গ্যাসের সংকট এবং দ্রব্যমূল্যের অস্বাভাবিক বৃদ্ধির প্রতিবাদে তারা সর্বস্তরের ছাত্র-জনতার ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করেছিলেন।
মাহদি অভিযোগ করেন, কর্মসূচির আগের রাতে পুলিশ তাদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে তল্লাশি চালিয়েছে। একই সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
তবে পুলিশের পক্ষ থেকে মাহদির এই অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল হক বলেন, প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই মাহদি হাসান ও তার সহযোগীরা বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করেছিলেন। এতে বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় তাদের আটক করা হয়। পরে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
তবে তিন নেতার কাছ থেকে নেওয়া মুচলেকায় ঠিক কী শর্ত বা বক্তব্য উল্লেখ করা হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য দেননি ওসি।
আটকের পর প্রায় ২১ ঘণ্টা থানায় থাকার পর তিন নেতার মুক্তির মধ্য দিয়ে বিষয়টির তাৎক্ষণিক সমাপ্তি ঘটেছে। তবে তাদের বিক্ষোভ কর্মসূচি, পুলিশের আটক এবং মাহদি হাসানের তোলা অভিযোগ ঘিরে স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।