নবম পে স্কেলে মূল বেতন বাড়বে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ

ফারহান ফারাবী
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬
  • ১০ বার

প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য প্রস্তাবিত নবম জাতীয় বেতন স্কেলে প্রথম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। নতুন বেতন কাঠামো দুই ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে সরকারের প্রকাশিত একটি ই-বুকে জানানো হয়েছে।

সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে সরকারের ১৮০ দিন উপলক্ষে প্রকাশিত ‘জনগণের সরকারের ১৮০ দিন’ শীর্ষক ই-বুকে নবম পে স্কেল নিয়ে এই তথ্য তুলে ধরা হয়। সেখানে ‘নবম পে স্কেল: সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বড় সুখবর’ শিরোনামের একটি উপ-বিভাগে নতুন বেতন কাঠামোর বিভিন্ন দিক উল্লেখ করা হয়েছে।

ই-বুকের তথ্য অনুযায়ী, নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের প্রথম বছরে সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন কার্যকর করা হবে। পরবর্তী বছরে বাড়িভাড়া ও অন্যান্য ভাতা কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থাৎ নতুন বেতন কাঠামোর আর্থিক প্রভাব একবারে পুরোপুরি কার্যকর না করে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সরকারি কর্মচারীদের বেতন ও ভাতার জন্য ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। পেনশন ও গ্র্যাচুইটিসহ এ খাতে মোট বরাদ্দের প্রস্তাব ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা।

অষ্টম জাতীয় বেতন কমিশনের প্রায় এক যুগ পর নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করা হয়। ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই ২৩ সদস্যের এই কমিশন গঠন করে তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন কমিশন চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়।

নবম জাতীয় বেতন কমিশন বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রাখার সুপারিশ করে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছিল। কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়।

একইভাবে সর্বোচ্চ নির্ধারিত মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছিল। তবে পরবর্তী পর্যায়ে এই সুপারিশ পর্যালোচনা করে বাস্তবায়নযোগ্য কাঠামো নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনার জন্য গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনিকে সভাপতি করে ১০ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, অর্থসচিব, জনপ্রশাসনসচিব, আইনসচিব, প্রতিরক্ষাসচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা সচিব, স্বাস্থ্যসেবা সচিব, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার এবং হিসাব মহানিয়ন্ত্রককে সদস্য করা হয়েছে।

এই কমিটির দায়িত্ব ছিল নবম পে স্কেলের সুপারিশগুলো পর্যালোচনা করে সরকারের আর্থিক সক্ষমতা, প্রশাসনিক বাস্তবতা এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরবর্তী সিদ্ধান্তের ভিত্তি তৈরি করা।

সোমবার প্রকাশিত ই-বুকে বলা হয়েছে, সচিব কমিটির সব সদস্য চূড়ান্ত প্রতিবেদনে স্বাক্ষর করেছেন। ওই প্রতিবেদনে প্রথম থেকে ২০তম গ্রেডের সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে।

এর আগে গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের সময় অর্থমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, ১ জুলাই থেকে সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করা হবে। তবে নতুন কাঠামোর বাস্তবায়ন পদ্ধতি ও ভাতা কার্যকরের সময় নিয়ে ধাপে ধাপে পরিকল্পনা করা হয়েছে।

নতুন পে স্কেল কার্যকর হলে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন কাঠামোয় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসবে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম গ্রেডের কর্মচারীদের মূল বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি পরবর্তী ধাপে বাড়িভাড়া ও অন্যান্য ভাতা বাড়লে তাদের মোট মাসিক আয় আরও বাড়তে পারে।

তবে এই বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে সরকারের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি হবে। বেতন-ভাতা, পেনশন ও গ্র্যাচুইটির মতো দীর্ঘমেয়াদি ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে নতুন কাঠামো বাস্তবায়নের আর্থিক সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। এ কারণেই মূল বেতন ও ভাতা আলাদা ধাপে কার্যকর করার পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নবম পে স্কেল বাস্তবায়ন সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং সরকারি অর্থব্যবস্থার ওপর এর প্রভাবও নতুন বেতন কাঠামো কার্যকরের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা হবে।

বিস্তারিত জানতে আরো পড়ুন>> 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত