ট্রাম্পের শুল্ক ফাঁকিতে চীনকে ৪০ দেশ সহায়তা: যুক্তরাষ্ট্র

ফারহান ফারাবী
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬
  • ৮ বার

প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

হোয়াইট হাউসের এক প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, ৪০টিরও বেশি দেশ চীনকে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ শুল্ক এড়িয়ে পণ্য রপ্তানিতে সহায়তা করেছে। এসব দেশের তুলনামূলক কম শুল্কের সুবিধা নিয়ে চীনা পণ্য তৃতীয় দেশের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশ করেছে বলে দাবি করেছে ওয়াশিংটন।

অভিযোগের তালিকায় কানাডা, ভারত, মেক্সিকো, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদারদের নামও রয়েছে। হোয়াইট হাউসের দাবি, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে চীন কয়েক হাজার কোটি ডলারের শুল্ক এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছে।

হোয়াইট হাউসের বাণিজ্য উপদেষ্টা পিটার নাভারো বলেন, পণ্য পুনঃপ্রেরণের এই প্রক্রিয়ার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থান এবং বিপুল পরিমাণ সরকারি রাজস্ব ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ওয়াশিংটনের হিসাবে, ৩০ বিলিয়ন থেকে প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ডলারের চীনা পণ্য তুলনামূলক বেশি শুল্কের দেশ থেকে কম শুল্কের দেশের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে স্থানান্তর করা হয়েছে। বাণিজ্যিক পরিভাষায় এই প্রক্রিয়াকে ‘পণ্য পুনঃপ্রেরণ’ বা রি-রাউটিং বলা হয়।

হোয়াইট হাউসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীন কম শুল্কের দেশগুলোকে মধ্যবর্তী গন্তব্য হিসেবে ব্যবহার করেছে। এসব দেশে পণ্যের প্যাকেজিং পরিবর্তন করে কিংবা কাগজপত্রের মাধ্যমে প্রকৃত উৎপত্তিস্থল আড়াল করে পরে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে মার্কিন প্রশাসন।

প্রতিবেদনে এই ব্যবস্থাকে চীনের শুল্ক ফাঁকির একটি বিস্তৃত বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, এ ধরনের পণ্য পুনঃপ্রেরণের ঘটনা শনাক্ত করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তিও ব্যবহার করা হচ্ছে।

তবে চীন যুক্তরাষ্ট্রের এই অভিযোগের বিরোধিতা করেছে। বিবিসির প্রশ্নের জবাবে ওয়াশিংটনে চীনা দূতাবাসের এক মুখপাত্র বলেন, বাণিজ্যযুদ্ধে কোনো পক্ষই বিজয়ী হয় না।

চীনা পক্ষ আরও বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপ এবং চীনা কোম্পানিগুলোকে লক্ষ্য করে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ব্যবহারের বিরোধিতা করে তারা। তৃতীয় কোনো দেশের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হয়—এমন একতরফা পদক্ষেপ বা চুক্তিও গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেছে বেইজিং।

হোয়াইট হাউসের প্রতিবেদনে নাম থাকা দেশগুলোর সরকারের কাছেও মন্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হয়েছে। তবে প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব দেশের অবস্থান এখনো স্পষ্ট নয়।

এই প্রতিবেদন এমন এক সময়ে প্রকাশ করা হলো, যখন ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে বাণিজ্যিক উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। একই সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য বৈঠক ঘিরে প্রস্তুতিও চলছে।

২০২৫ সালের মে মাসে দুই দেশ আলোচনার মাধ্যমে অধিকাংশ শুল্ক সাময়িকভাবে কমিয়ে বা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিলেও এরপরও একাধিক নিষেধাজ্ঞা ও বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ নিয়ে বিরোধ অব্যাহত রয়েছে। মানবসদৃশ রোবট, ড্রোনসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিপণ্যের ওপর নিয়ন্ত্রণ নিয়েও দুই দেশের মধ্যে টানাপোড়েন রয়েছে।

এর আগে ২০২৫ সালের এপ্রিলে ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক ডজন বাণিজ্যিক অংশীদারের পণ্যের ওপর ব্যাপক শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থান ও অর্থনীতি শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই এই নীতি নেওয়া হয়েছিল বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়।

পরবর্তীতে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ওই শুল্কগুলোর একটি বড় অংশ বাতিল করলেও ট্রাম্প প্রশাসন বিকল্প আইনি ক্ষমতা ব্যবহার করে বিভিন্ন দেশের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপের উদ্যোগ নেয়।

নতুন হোয়াইট হাউসের প্রতিবেদনের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য অংশীদারদের মাধ্যমে চীনা পণ্য পুনঃপ্রেরণের বিষয়টি আবারও ওয়াশিংটন-বেইজিং বাণিজ্য বিরোধের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে পরিণত হতে পারে। বিশেষ করে কানাডা, ভারত, মেক্সিকো, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশের নাম উঠে আসায় বিষয়টি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্পর্কেও প্রভাব ফেলতে পারে।

বিস্তারিত জানতে আরো পড়ুন>> 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত