নুসরাত হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায় ২৪ আগস্ট

ফারহান ফারাবী
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬
  • ১৪ বার

প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ফেনীর বহুল আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স ও দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের আপিলের ওপর হাইকোর্টে শুনানি শেষ হয়েছে। শুনানি শেষে আগামী ২৪ আগস্ট (সোমবার) রায়ের জন্য দিন নির্ধারণ করেছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ শুনানি শেষে রায়ের দিন ধার্য করেন।

নুসরাত হত্যা মামলায় ১৬ আসামির মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদনের জন্য ২০১৯ সালের ২৯ অক্টোবর ডেথ রেফারেন্সের নথিপত্র হাইকোর্টে পৌঁছায়। পরে প্রধান বিচারপতির নির্দেশে মামলাটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ জন্য মামলার পেপারবুক বা প্রয়োজনীয় নথিপত্র দ্রুত ছাপানোর কাজ শেষ করা হয় এবং শুনানির জন্য হাইকোর্ট বেঞ্চ নির্ধারণ করা হয়।

ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি

ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী, কোনো বিচারিক আদালত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিলে সেই দণ্ড কার্যকর করার আগে উচ্চ আদালতের অনুমোদন প্রয়োজন হয়। এই অনুমোদনের প্রক্রিয়াই ডেথ রেফারেন্স হিসেবে পরিচিত।

অন্যদিকে, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরাও নিজেদের খালাস চেয়ে জেল আপিল ও ফৌজদারি আপিল করেন। ফলে নুসরাত হত্যা মামলায় একদিকে ছিল মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের আবেদন, অন্যদিকে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের আপিল।

দুই পক্ষের এসব আবেদনের ওপর দীর্ঘ শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার হাইকোর্ট রায়ের জন্য দিন নির্ধারণ করেন। আগামী ২৪ আগস্ট মামলাটির রায় ঘোষণা হতে পারে।

১৬ আসামির মৃত্যুদণ্ড

২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদ নুসরাত হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে ১৬ আসামির প্রত্যেককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড করা হয়।

মামলাটির বিচারিক কার্যক্রমও দ্রুত শেষ হয়েছিল। মাত্র ৬১ কার্যদিবসে ৮৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ এবং যুক্তিতর্ক সম্পন্ন করা হয়।

যেভাবে হত্যার শিকার হন নুসরাত

২০১৯ সালের ২৭ মার্চ নুসরাত জাহান রাফির মা শিরীন আখতার সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলার বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে মামলা করেন। অভিযোগের পর পুলিশ অধ্যক্ষকে গ্রেপ্তার করে।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, অধ্যক্ষের অনুসারীরা তাঁকে কারাগার থেকে মুক্ত করার চেষ্টা চালায়। ৩ এপ্রিল কারাগারে গিয়ে সিরাজ-উদ-দৌলার সঙ্গে দেখা করার পর পরদিন মাদ্রাসার ছাত্রাবাসে নুসরাতকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৬ এপ্রিল আলিম পরীক্ষা দিতে মাদ্রাসায় গেলে নুসরাতকে কৌশলে সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁর শরীরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় নুসরাতকে প্রথমে সোনাগাজী ও পরে ফেনীতে চিকিৎসা দেওয়া হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের তৎকালীন বার্ন ইউনিটে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল তাঁর মৃত্যু হয়।

নুসরাতের ওপর হামলার ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভ ও প্রতিবাদের সৃষ্টি করে। দ্রুত বিচার এবং জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সোচ্চার হন।

যাঁদের মৃত্যুদণ্ড হয়েছিল

ট্রাইব্যুনালের রায়ে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া ১৬ আসামির মধ্যে ছিলেন সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ এস এম সিরাজ-উদ-দৌলা, নূর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, মাকসুদ আলম ওরফে মোকসুদ কাউন্সিলর, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জোবায়ের, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন, হাফেজ আব্দুল কাদের, আবছার উদ্দিন, কামরুন নাহার মনি, উম্মে সুলতানা ওরফে পপি, আব্দুর রহিম শরীফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন ওরফে মামুন, রুহুল আমিন, মহিউদ্দিন শাকিল ও মোহাম্মদ শামীম।

মামলার দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর এখন হাইকোর্টের রায়ের অপেক্ষায় রয়েছেন সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো। আগামী ২৪ আগস্ট আদালতের রায়ে ১৬ আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকবে, পরিবর্তন হবে নাকি অন্য কোনো সিদ্ধান্ত আসবে—সেদিকেই এখন নজর সংশ্লিষ্টদের।

বিস্তারিত জানতে আরো পড়ুন>> 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত