ছুটিতে বাড়ি ফেরার পথে ট্রাকচাপায় বিজিবি সদস্য নিহত

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬
  • ৮ বার
ছুটিতে বাড়ি ফেরার পথে ট্রাকচাপায় বিজিবি সদস্য নিহত

প্রকাশ:  ২২ আগস্ট  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বগুড়ার মোকামতলা-রংপুর মহাসড়কে ট্রাকচাপায় রফিকুল ইসলাম (৩৫) নামে এক বিজিবি সদস্য নিহত হয়েছেন। শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে মোকামতলা এলাকায় মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনা ঘটে। কর্মস্থল নওগাঁর পত্নীতলা বিজিবি ক্যাম্প থেকে ছুটিতে নিজ জেলা কুড়িগ্রামে বাড়ি ফেরার পথেই প্রাণ হারান তিনি। স্বজনদের সঙ্গে দেখা করার প্রত্যাশায় শুরু করা যাত্রা মুহূর্তেই পরিণত হয় এক পরিবারের জন্য অপূরণীয় শোকে।

নিহত রফিকুল ইসলাম কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলার পান্তাপাড়া গ্রামের কফিল উদ্দিনের ছেলে। তিনি নওগাঁর পত্নীতলা বিজিবি ক্যাম্পে কর্মরত ছিলেন। দায়িত্ব পালনের পর ছুটি পেয়ে সহকর্মীর সঙ্গে নিজ বাড়ির উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন তিনি। পথিমধ্যে বগুড়ার মোকামতলা এলাকায় যাত্রাবিরতি করার সময় ঘটে দুর্ঘটনাটি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রফিকুল ইসলামসহ দুই বিজিবি সদস্য নওগাঁর পত্নীতলা বিজিবি ক্যাম্প থেকে কুড়িগ্রামের উদ্দেশে রওনা দেন। দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার সময় তারা মোকামতলা এলাকায় কিছু সময়ের জন্য থামেন। একপর্যায়ে সড়ক পার হওয়ার সময় বগুড়া থেকে রংপুরগামী একটি ট্রাক রফিকুল ইসলামকে চাপা দেয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

দুর্ঘটনার পরপরই মহাসড়কে মানুষের ভিড় জমে যায়। স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানান। খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়।

মোকামতলা ট্রাফিক ফাঁড়ির সার্জেন্ট বুলবুল ইসলাম জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহত বিজিবি সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত ট্রাকটি শনাক্ত করে আটকের চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।

দুর্ঘটনার পর ট্রাকটি ঘটনাস্থলে না থাকায় চালক ও গাড়িটি শনাক্ত করা এখন পুলিশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কীভাবে দুর্ঘটনাটি ঘটল, ট্রাকটির গতি কত ছিল, সড়ক পারাপারের সময় পরিস্থিতি কেমন ছিল এবং চালকের কোনো ধরনের অসতর্কতা ছিল কি না, তদন্তের মাধ্যমে এসব বিষয় পরিষ্কার হতে পারে। একই সঙ্গে প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য ও আশপাশের সম্ভাব্য তথ্য-উপাত্ত যাচাই করাও দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হবে।

রফিকুল ইসলামের মৃত্যুতে তার পরিবার ও সহকর্মীদের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। ছুটিতে বাড়ি ফেরার সময় একজন মানুষ সাধারণত পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর পরিকল্পনা করেন। কর্মস্থলের ব্যস্ততা ও দায়িত্বের বাইরে কিছুটা স্বস্তির সময় পাওয়ার প্রত্যাশায় বাড়ির পথে যাত্রা করেন। রফিকুল ইসলামের ক্ষেত্রেও সেই প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু বাড়ি পৌঁছানোর আগেই থেমে গেল তার জীবনযাত্রা।

পরিবারের কাছে একজন কর্মজীবী মানুষের ছুটি শুধু অবসর নয়, প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগও। দূরে কর্মরত সদস্য বাড়িতে ফিরলে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আলাদা আনন্দ তৈরি হয়। সেই আনন্দের অপেক্ষায় থাকা স্বজনদের কাছে দুর্ঘটনার খবরটি নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক। একজন সদস্যকে হারানোর পাশাপাশি পরিবারটি হারিয়েছে তাদের প্রিয় মানুষ, যার শূন্যতা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।

রফিকুল ইসলাম বর্ডার গার্ড বাংলাদেশে কর্মরত ছিলেন। সীমান্ত নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কর্মরত বিজিবি সদস্যদের নিয়মিত কর্মস্থল ও নিজ বাড়ির মধ্যে যাতায়াত করতে হয়। ছুটির সময়ে দীর্ঘ সড়কপথে তাদের চলাচলও স্বাভাবিক বিষয়। ফলে কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফেরার পথ নিরাপদ করা শুধু সাধারণ যাত্রীদের জন্য নয়, দেশের বিভিন্ন বাহিনীতে কর্মরত সদস্যদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।

মোকামতলা-রংপুর মহাসড়ক উত্তরাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথগুলোর একটি। এ পথে প্রতিদিন বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করে। ভারী ট্রাক ও পণ্যবাহী যানবাহনের পাশাপাশি বাস, মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেলসহ অসংখ্য যান চলাচল করায় মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে পথচারীদের সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করতে হয়। একই সঙ্গে চালকদেরও সড়ক নিরাপত্তা বিধি মেনে চলা জরুরি।

সড়ক দুর্ঘটনার পর সাধারণত দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান এবং দায়ী ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনার বিষয়টি সামনে আসে। কিন্তু এর পাশাপাশি দুর্ঘটনা প্রতিরোধে দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগও প্রয়োজন। মহাসড়কের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো চিহ্নিত করা, পথচারীদের নিরাপদে সড়ক পারাপারের ব্যবস্থা করা, প্রয়োজনীয় সড়কচিহ্ন স্থাপন এবং যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা থাকলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানো সম্ভব। একই সঙ্গে চালকদের দায়িত্বশীলতা এবং ট্রাফিক আইন মেনে চলাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরেই সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে চালকদের দক্ষতা, যানবাহনের ফিটনেস এবং সড়ক ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছেন। একটি দুর্ঘটনা শুধু একজন মানুষের জীবন কেড়ে নেয় না, তার সঙ্গে একটি পরিবারকে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও মানসিক সংকটের মধ্যেও ফেলে দেয়। কর্মক্ষম একজন মানুষের আকস্মিক মৃত্যু হলে পরিবারের আয়-রোজগার, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং নির্ভরশীল সদস্যদের জীবনও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যেতে পারে।

রফিকুল ইসলামের ক্ষেত্রেও তার স্বজনদের সামনে এখন সেই কঠিন বাস্তবতা। যে মানুষটি ছুটি শেষে আবার কর্মস্থলে ফিরে দায়িত্ব পালন করার কথা ছিল, তিনি আর ফিরবেন না। বাড়ি ফেরার পথে ঘটে যাওয়া একটি দুর্ঘটনা তার পরিবারের ভবিষ্যৎকে বদলে দিয়েছে।

এদিকে পুলিশ দুর্ঘটনায় জড়িত ট্রাকটি শনাক্ত ও আটকের চেষ্টা করছে। ট্রাকটি শনাক্ত হওয়ার পর চালকের ভূমিকা এবং দুর্ঘটনার পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও তথ্য জানা যেতে পারে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে নিহত বিজিবি সদস্যের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হবে।

রফিকুল ইসলামের মর্মান্তিক মৃত্যু আবারও মনে করিয়ে দিল, সড়কে কয়েক মুহূর্তের অসতর্কতা একটি জীবনকে থামিয়ে দিতে পারে। কর্মস্থল থেকে ছুটিতে বাড়ি ফেরার আনন্দ যেন আর কোনো পরিবারের জন্য এমন ভয়াবহ শোকে পরিণত না হয়, সে জন্য সড়ক ব্যবস্থাপনা, যানবাহন নিয়ন্ত্রণ এবং চালকদের দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করা জরুরি। একটি নিরাপদ সড়কই পারে কর্মজীবী মানুষকে নিশ্চিন্তে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত