তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬
  • ১৯ বার
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ

প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ। শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাতে মন্ত্রিপরিষদসচিব নাসিমুল গনি স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে তাকে এই দায়িত্ব দেওয়ার কথা জানানো হয়। এর মধ্য দিয়ে নতুন সরকারের মন্ত্রিসভায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হলেন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থ।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬’-এর ৩(৪) বিধি অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী দাপ্তরিক দায়িত্ব বণ্টন ও পুনর্বণ্টন করেছেন। সেই সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবেই তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আন্দালিভ রহমান পার্থকে। একই মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বিএনপির সংসদ সদস্য ইয়াসের খান চৌধুরী।

শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন আন্দালিভ রহমান পার্থ। রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ এই দায়িত্ব গ্রহণের পর তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে তার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হওয়ার পথ তৈরি হয়েছে। মন্ত্রণালয়টি সরকারের তথ্যনীতি, গণমাধ্যম, চলচ্চিত্র, সম্প্রচার এবং জনসাধারণের কাছে সরকারি তথ্য পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।

আন্দালিভ রহমান পার্থ দেশের রাজনীতিতে পরিচিত একটি নাম। তিনি বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হিসেবে দলটির নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি আইন পেশার সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততা রয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ভোলা-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। নির্বাচনের পর নতুন সরকারের মন্ত্রিসভায় তার অন্তর্ভুক্তি রাজনৈতিক অঙ্গনে বিশেষভাবে আলোচিত হয়।

শুক্রবার মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পরই তার দায়িত্বের বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়। পরদিন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে তাকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। ফলে মন্ত্রী হিসেবে তার প্রথম দিকের দায়িত্বগুলোর মধ্যে থাকবে মন্ত্রণালয়ের চলমান কার্যক্রম সম্পর্কে ধারণা নেওয়া এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ এগিয়ে নেওয়া।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় যোগাযোগ ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সরকারের নীতি, সিদ্ধান্ত ও বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করা, গণমাধ্যমের সঙ্গে রাষ্ট্রের সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় সমন্বয় করা এবং সম্প্রচার ও চলচ্চিত্র খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নীতিগত কার্যক্রম পরিচালনায় এই মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা রয়েছে। ফলে এই মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রী আসার বিষয়টি রাজনৈতিক ও গণমাধ্যম অঙ্গনে স্বাভাবিকভাবেই গুরুত্ব পেয়েছে।

অন্যদিকে একই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ইয়াসের খান চৌধুরী। তিনি গত ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। এর আগে ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রার্থী হিসেবে ময়মনসিংহ-৯ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। নির্বাচনের পর সরকারে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যুক্ত হন।

এখন মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে আন্দালিভ রহমান পার্থ এবং ইয়াসের খান চৌধুরীর দায়িত্ব পালনের ফলে দুজনের মধ্যে সমন্বয়ের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন নীতিগত ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর পারস্পরিক সহযোগিতা এবং দায়িত্ব বণ্টনের মাধ্যমে কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট মহলে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

আন্দালিভ রহমান পার্থের নতুন দায়িত্ব এমন এক সময়ে এলো, যখন তথ্য ও যোগাযোগের ধরন দ্রুত বদলে যাচ্ছে। প্রচলিত সংবাদমাধ্যমের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন সংবাদমাধ্যম, ভিডিও প্ল্যাটফর্ম এবং ডিজিটাল কনটেন্ট এখন মানুষের তথ্য পাওয়ার অন্যতম প্রধান মাধ্যম। ফলে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের কাজের পরিধিও আগের তুলনায় অনেক বেশি বিস্তৃত ও চ্যালেঞ্জপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

বিশেষ করে তথ্যের দ্রুত প্রবাহের এই সময়ে সঠিক ও নির্ভরযোগ্য তথ্য জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা, গণমাধ্যমের পেশাগত পরিবেশ এবং ডিজিটাল মাধ্যমে তথ্যের সঠিক ব্যবহার নিয়ে নীতিগত ভারসাম্য রক্ষা করাও সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নতুন মন্ত্রী হিসেবে আন্দালিভ রহমান পার্থকে এসব বিষয় সামনে রেখেই কাজ করতে হবে।

রাজনৈতিক অঙ্গনে তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং দলীয় নেতৃত্বের ভূমিকা নতুন দায়িত্ব পালনে কীভাবে প্রভাব ফেলবে, সেটিও পর্যবেক্ষণের বিষয় হয়ে উঠেছে। মন্ত্রী হিসেবে তাকে এখন দলীয় রাজনীতির বাইরে বৃহত্তর রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সমন্বয় ও ভারসাম্যের পরিচয় দিতে হবে। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মতো একটি সংবেদনশীল মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থেকে সরকারের তথ্যনীতি ও গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে তার অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

আন্দালিভ রহমান পার্থের নেতৃত্বে মন্ত্রণালয়ের সামনে আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। দেশের গণমাধ্যম খাতের বিকাশ, সাংবাদিকদের পেশাগত পরিবেশ, রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, চলচ্চিত্র ও সৃজনশীল শিল্পের উন্নয়ন এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে তথ্য ব্যবস্থাপনা—এসব ক্ষেত্রেই সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। একই সঙ্গে জনগণের কাছে দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে সরকারি তথ্য পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থাও আরও কার্যকর করার প্রয়োজন রয়েছে।

নতুন সরকারের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের সঙ্গে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত জনগণের কাছে কীভাবে উপস্থাপিত হবে, রাষ্ট্রীয় তথ্য কীভাবে গণমাধ্যমে পৌঁছাবে এবং গণমাধ্যম ও সরকারের মধ্যে পেশাগত যোগাযোগ কীভাবে আরও কার্যকর করা যায়—এসব ক্ষেত্রেও মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা থাকবে।

আন্দালিভ রহমান পার্থের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ তাই কেবল মন্ত্রিসভায় নতুন একজন সদস্য যুক্ত হওয়ার ঘটনা নয়; বরং তথ্য ও সম্প্রচার খাতে নতুন নেতৃত্বের সূচনাও। তার সঙ্গে প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীর সমন্বিত কার্যক্রম আগামী দিনে মন্ত্রণালয়ের কাজকে কোন দিকে নিয়ে যায়, তা দেখার বিষয়।

শুক্রবার বঙ্গভবনে শপথ নেওয়ার পর শনিবার দায়িত্ব বণ্টনের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তার মন্ত্রণালয়ের বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। এখন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গ্রহণ করে প্রশাসনিক কার্যক্রমের সঙ্গে পরিচিত হওয়া এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ শুরু করাই হবে তার পরবর্তী ধাপ। নতুন দায়িত্বে আন্দালিভ রহমান পার্থ কী ধরনের নীতি ও কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেন, সেদিকেই এখন নজর থাকবে রাজনৈতিক, গণমাধ্যম ও সাধারণ মানুষের।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত