প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
পবিত্র ওমরাহ পালন সম্পন্ন করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও ডায়াস্পোরা বিষয়ক উপকমিটির প্রধান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। বৃহস্পতিবার রাতে পবিত্র নগরী মক্কায় পৌঁছে তিনি ওমরাহ পালন করেন। ধর্মীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই সফরে তিনি দেশবাসীর কল্যাণ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে দোয়া করেছেন বলে জানা গেছে।
রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয় থাকার পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে আসিফ মাহমুদের বিদেশ সফর ও বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডও আলোচনায় এসেছে। তবে এবারের সৌদি আরব সফরটি মূলত পবিত্র ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যেই বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। সফরে তাঁর সঙ্গে স্ত্রী ছাড়াও এনসিপির কয়েকজন নেতা ও সহযোগী রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরের একটি ফ্লাইটে ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সৌদি আরবের উদ্দেশে রওনা হন আসিফ মাহমুদ। পরে মক্কায় পৌঁছে তিনি পবিত্র ওমরাহর আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন। ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই ইবাদত পালনের মাধ্যমে তিনি আল্লাহর কাছে নিজের, পরিবার এবং দেশের মানুষের জন্য কল্যাণ ও শান্তি কামনা করেন।
ওমরাহ পালনের পর আসিফ মাহমুদ ও তাঁর সফরসঙ্গীরা মক্কা ও আশপাশের ঐতিহাসিক ও ধর্মীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ স্থান পরিদর্শন করছেন। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলো ঘিরেও তাঁদের আগ্রহ রয়েছে। পবিত্র স্থানগুলো পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে সফরটি ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক আবহে এগিয়ে যাচ্ছে।
এই সফরে আসিফ মাহমুদের সঙ্গে এনসিপির কেন্দ্রীয় সদস্য ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও ডায়াস্পোরা বিষয়ক উপকমিটির সদস্য আয়মান রাহাড রয়েছেন। এছাড়া এনসিপির কেন্দ্রীয় সদস্য ও মিডিয়া উপকমিটির সদস্য ইয়াসির আরাফাত, ন্যাশনাল ওলামা এলায়েন্সের সদস্য সচিব মাওলানা সানাউল্লাহ খান এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক তারেক এ আদেলসহ আরও কয়েকজন সফরসঙ্গী রয়েছেন।
মক্কায় অবস্থানকালে সৌদি আরবে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন এনসিপির মুখপাত্র। দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি বসবাস ও কর্মরত রয়েছেন। দেশের অর্থনীতি ও বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহে প্রবাসীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। ফলে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনের কোনো পরিচিত ব্যক্তি সৌদি আরব সফর করলে স্থানীয় বাংলাদেশি প্রবাসীদের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় স্বাভাবিকভাবেই আগ্রহ তৈরি করে।
আসিফ মাহমুদের এই সফর এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে সক্রিয় রয়েছেন। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় আলোচনায় আসা তরুণ নেতাদের মধ্যে তিনি অন্যতম। পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি। বর্তমানে এনসিপির মুখপাত্র হিসেবে দলটির বিভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থান ও বক্তব্য জনসমক্ষে তুলে ধরার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।
রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ব্যস্ততার মধ্যেও ধর্মীয় ইবাদতের জন্য সৌদি আরব সফরকে ব্যক্তিগত ও আধ্যাত্মিক সময় হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। পবিত্র মক্কা নগরীতে অবস্থান এবং ওমরাহ পালনের মাধ্যমে তিনি কিছুটা ভিন্ন পরিবেশে সময় কাটানোর সুযোগ পাচ্ছেন। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বাইরে তাঁর এই সফরের খবর প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। তবে সফরের মূল উদ্দেশ্য যে ওমরাহ পালন, সেটিই সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে।
ওমরাহ ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত, যা বছরের নির্দিষ্ট কোনো সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মুসলমানরা সারা বছর পবিত্র মক্কায় গিয়ে ওমরাহ পালন করেন। পবিত্র কাবা শরিফ তাওয়াফ, সাফা ও মারওয়ার মধ্যে সায়ি এবং অন্যান্য ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে ওমরাহ সম্পন্ন করা হয়। মুসলমানদের কাছে এই ইবাদত আত্মশুদ্ধি, ক্ষমা প্রার্থনা এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত।
আসিফ মাহমুদের এবারের সফরের পরবর্তী গন্তব্য পবিত্র মদিনা মুনাওয়ারা। মক্কায় অবস্থান শেষে তিনি মদিনায় যাবেন বলে জানা গেছে। সেখানে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর রওজা মোবারক জিয়ারতসহ বিভিন্ন পবিত্র স্থান পরিদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে সফরের পরবর্তী অংশও ধর্মীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
সৌদি আরবে অবস্থানকালে তাঁর কর্মসূচির মধ্যে রাজনৈতিক কোনো আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির কথা জানা যায়নি। বরং ধর্মীয় সফরের পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং ঐতিহাসিক স্থান পরিদর্শনেই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এতে সফরটি ব্যক্তিগত ধর্মীয় উদ্দেশ্য ও প্রবাসীদের সঙ্গে যোগাযোগ—দুই দিক থেকেই তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বর্তমানে আসিফ মাহমুদ মক্কায় অবস্থান করছেন। নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী মক্কা ও মদিনায় অবস্থান শেষে তাঁর দেশে ফেরার কথা রয়েছে। আগামী ৩০ আগস্ট তিনি ঢাকায় ফিরবেন বলে জানা গেছে।
আসিফ মাহমুদের ওমরাহ পালনের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে একজন মুসলিম হিসেবে ধর্মীয় জীবনের এই গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় নিয়েও মানুষের আগ্রহ তৈরি হয়েছে। দেশবাসীর জন্য দোয়া করার বিষয়টি বিশেষভাবে তাৎপর্য বহন করছে। রাজনৈতিক মতপার্থক্য ও নানা বিতর্কের বাইরে একজন জনপরিচিত ব্যক্তির পবিত্র স্থান থেকে দেশের মানুষের শান্তি, নিরাপত্তা ও কল্যাণ কামনা সাধারণ মানুষের কাছে মানবিক একটি বার্তাও বহন করে।
সংশ্লিষ্টদের আশা, সৌদি আরবে তাঁর এই ধর্মীয় সফর নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হবে এবং মক্কা ও মদিনায় নির্ধারিত ইবাদত ও জিয়ারত শেষে তিনি নিরাপদে দেশে ফিরবেন। সফর শেষে দেশে ফিরে তিনি আবারও এনসিপির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।