চাঁদা না পেয়ে হামলা-লুট, গ্রেপ্তার রাজু

ফারহান ফারাবী
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬
  • ৪২ বার

প্রকাশ: ২৪ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে চাঁদা না দেওয়ায় চোর সন্দেহের অপবাদ তুলে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর এবং লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার তিলকপুর ইউনিয়নের কৃষ্ণকোলা গ্রামে এ ঘটনায় নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও মালামালসহ প্রায় ১৪ লাখ টাকার সম্পদ লুটের অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনায় মূল অভিযুক্ত রাজু হোসেনকে (৩২) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী পরিবারের পক্ষ থেকে করা মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, হামলাকারীরা একটি ওয়ার্কশপ ও বসতবাড়িতে তাণ্ডব চালিয়ে নগদ সাত লাখ টাকা, স্বর্ণালংকার এবং দোকানের মূল্যবান যন্ত্রাংশ নিয়ে যায়। সব মিলিয়ে প্রায় ১৩ লাখ ৯০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি ও লুটপাট হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত গত ৯ আগস্ট। বুড়াপুকুর এলাকার সাগর হোসেনের বাড়ির তালা কেটে একটি ইজিবাইক চুরির ঘটনা ঘটে। এরপর গত শুক্রবার রাতে চোর সন্দেহে সাদ্দাম, বিদ্যুৎ ও তুহিন নামে তিনজনকে স্থানীয়রা আটক করেন। পরে তাদের চারদীঘি গ্রামের রাজু হোসেনের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

পরদিন সকালে স্থানীয়ভাবে সালিশ বসানো হয়। সেখানে আটক তিনজন ইজিবাইক চুরির কথা স্বীকার করেন বলে দাবি করা হয়। তারা চুরি করা ইজিবাইকটি কৃষ্ণকোলা গ্রামের ‘ভাই-ভাই ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপে’ বিক্রি করেছেন বলে জানান—এমন খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

অভিযোগ অনুযায়ী, এরপর রাজু হোসেনের নেতৃত্বে তিন শতাধিক মানুষ ওই ওয়ার্কশপ ও এর মালিকের বাড়িতে হামলা চালান। সেখানে ভাঙচুরের পাশাপাশি মালামাল লুট করা হয়।

তবে হামলার শিকার ব্যবসায়ী আল আমিন ও আজাদ হোসেনের পরিবার দাবি করেছে, ইজিবাইক চুরির ঘটনা ছিল হামলার অজুহাত। তাদের অভিযোগ, এর পেছনে পরিকল্পিত চাঁদাবাজি ও পূর্বশত্রুতা রয়েছে।

ভুক্তভোগীদের বাবা কাশেম আলী রোববার আক্কেলপুর থানায় মামলা করেন। মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, কিছুদিন আগে চারদীঘি গ্রামের রাজু হোসেন পিকনিকের কথা বলে তাদের কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেছিলেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে রাজু তাদের দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। এরপর ইজিবাইক চুরির অপবাদকে কেন্দ্র করে লোকজন জড়ো করে তাদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বাড়িতে হামলা চালানো হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, হামলাকারীরা ওয়ার্কশপ, বসতবাড়ি, চারটি ট্রাক্টর ও একটি শ্যালো মেশিনে ভাঙচুর চালায়। পরে বাড়ি থেকে নগদ সাত লাখ টাকা, স্বর্ণালংকার এবং ওয়ার্কশপের দামি যন্ত্রাংশসহ প্রায় ১৩ লাখ ৯০ হাজার টাকার সম্পদ লুট করে নিয়ে যায়।

ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আটক তিন সন্দেহভাজনকে উদ্ধার করে। পরে তাদের ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় আদালতে সোপর্দ করা হয়। আদালত থেকে তারা জামিনে মুক্তি পান।

এদিকে গ্রেপ্তারের আগে রাজু হোসেন চাঁদা দাবির অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাঁর দাবি, আটক ব্যক্তিদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতেই গ্রামবাসীকে সঙ্গে নিয়ে ওই ওয়ার্কশপে যাওয়া হয়েছিল। সেখানে কোনো ধরনের লুটপাট হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।

আক্কেলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন রেজা বলেন, প্রাথমিক তদন্তে চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে একটি পক্ষ অবৈধভাবে ‘মব’ তৈরি করে বাড়িঘরে হামলা ও ভাঙচুর করেছে—এর স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় রাজু হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হামলা ও লুটপাটের সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারেও অভিযান চলছে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয়ভাবে সালিশ বা জনতার হাতে আইন তুলে নেওয়ার পরিবর্তে আইনগত প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করার বিষয়টিও সামনে এসেছে। চুরির অভিযোগ সত্য হলেও কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সুযোগ নেই। তদন্তে প্রকৃত ঘটনা ও হামলা-লুটপাটে কারা জড়িত ছিল, তা স্পষ্ট হওয়ার অপেক্ষা করছে।

বিস্তারিত জানতে আরো পড়ুন>> 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com